ঢাকা,  বুধবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ সাতরং ]

রহস্যময় গণকবর থেকে ৪২টি কঙ্কাল উদ্ধার

সাতরঙ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:৫৯, ৮ আগস্ট ২০২০
রহস্যময় গণকবর থেকে ৪২টি কঙ্কাল উদ্ধার
ছবি: উদ্ধারকৃত কঙ্কালগুলো

বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিয়তই প্রাচীন বিভিন্ন নিদর্শন আবিষ্কৃত হচ্ছে। আর এসব কাজের পিছনে রয়েছে প্রত্নতত্ত্ববিদদের কঠোয় পরিশ্রম ও চেষ্টা। তারা আধুনিক যুগে বাস করেও প্রাচীনকাল সম্পর্কে জানতে ও বিশ্ববাসীকে জানাতে সর্বদা ব্যস্ত রয়েছেন। আর প্রাচীনকাল সম্পর্কে জানার আগ্রহ সবার মনেই রয়েছে। তেমনই এক রহস্যময় প্রাচীন নিদর্শন নিয়ে আজকের লেখা-

১৯৯২ সালে প্রত্নতত্ত্ববিদ কার্ল ফিলিপস একটি গণকবর আবিষ্কার করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল শবিকাতে। আবিষ্কৃত এই গণকবরটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমৃদ্ধ ইতিহাসের সম্পর্কে নানা রহস্য উন্মোচন করেছে। এই গণকবর থেকে প্রাপ্ত কঙ্কালগুলো পরীক্ষা করে জানা যায় সেগুলোর বয়স ৭৫০০ বছরেরও বেশি। গবেষকরা ধারণা করছেন, এই গণকবরটির বয়সও এমনই হবে। একসঙ্গে ৪২ টি কঙ্কাল উদ্ধার করা হয় রহস্যময় এই গণকবর থেকে। 

সাইট থেকে উদ্ধারকৃত কঙ্কালএর এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিওলিথিক কবরস্থান আবিষ্কৃত হয়। তবে এই রহস্যময় গণকবর সম্ভবত দেশটির একেবারেই আদি মানুষদের জীবন ও সমযয়ের রহস্য উন্মোচন করে দিয়েছে। ১৯৯২ সালে কার্ল ফিলিপস এবং তার দল আল শবিকাতে এই গণকবরটি আবিষ্কার করেন। তারা সেখান থেকে যে নিদর্শন পায় সেগুলো থেকে জানা যায়, আরব আমিরাতের আদি বাসিন্দারা মুক্তা চাষ ও মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত। গবেষক ফিলিপস ব্রিটিশ মিশনের নেতৃত্বে ছিলেন। তাদের দলটিই গণকবর থেকে ৪২টি কঙ্কাল উদ্ধার করে।

Advertisement

গণকবর ও প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটের ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণ করে গবেষকরা নানা তথ্য পান। তাদের অনুমান, প্রায় ৭৫০০ বছর আগে উম্মে আল কোওয়াইন হ্রদের আশপাশেই আদি এসব মানুষের বসবাস ছিল। প্রত্নতাত্ত্বিকরা ওই সময়কালকে নিওলিথিক কাল বা প্রস্তর যুগের শেষ বলে অভিহিত করেন।

পরীক্ষা করছেন গবেষকরাইউএকিউ পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রধান রানিয়া কান্নৌমা বলেন, প্রাচীন এই গণকবরটি ৮০০০ বছরের মাঝামাঝি সময়ে ছিল। তখনকার সময়কাল নওলিথিক বা প্রস্তর যুগের অন্তর্গত বলে বিবেচিত হয়। আর সেই সময় মাছ ধরা, মুক্তা চাষ এবং সামুদ্রিক সম্পদের উপর নির্ভর করত সেখানকার মানব সভ্যতা। একই অঞ্চলের আরো কিছু আবিষ্কার ইঙ্গিত করে, অতীতে গণকবরের ওই ভূমিতে অবশ্যই মানুষের বসবাস ছিল। এসব প্রমাণ প্রত্নতাত্ত্বিকদের আদি বাসিন্দাদের জীবন এবং তাদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার রীতি কেমন ছিল তা বুঝতে সাহায্য করেছে।

রানিয়া কান্নৌমা আরো বলেন, আমরা ২০১১ সালে সাইটটি আবার খোলার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর ডা. সোফি মেরির নেতৃত্বে ফরাসি মিশনে যোগ দেই। এরপর ২০১২ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে সেখানে পাঁচজনের আরো একটি গণকবর ও বাসস্থানের খোঁজ পাই। মৃতদেহগুলোকে কাঁত করে একে অন্যের সঙ্গে লাগানো অবস্থায় কবর দেয়া ছিল। তাদের হাতগুলো ডানদিকে পাশের কঙ্কালের শরীরের উপর রাখা ছিল। কঙ্কালগুলোর পা বাঁকানো ছিল।

গবেষক রানিয়া কান্নৌমাগণকবর থেকে উদ্ধারকৃত কঙ্কালের ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা যায়, তাদের সবার বয়সই ২০ এর কোঠায় ছিল এবং তারা সবাই পুরুষ। একজনের শরীরে তীরের ক্ষত ছিল। জানা যায়, উপজাতির মধ্যে বিরোধের ফলে তার মৃত্যু ঘটেছিল।

রানিয়া কান্নৌমা বলেন, আদি এই মানবগোষ্ঠীরা মুক্তা চাষ ও মৎস্যজীবী ছিল। মৃতরা হয়ত অন্য একটি দলের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় মারা গিয়েছিল। তবে এগুলো সবই অনুমান, তাদের মৃত্যুর সঠিক কারণটি এখনো নিশ্চিত নয়।  তবে মৃতদেহগুলো সাজানোর প্রক্রিয়া থেকে এটা স্পষ্ট যে, তারা নিজস্ব সম্প্রদায় দ্বারা সমাধিস্থ হয়েছে। কয়েকটি কঙ্কালের পাশে মুক্তা পাওয়া গিয়েছিল। যা সেই সময়কার নিদর্শন।

সাইটটিতে আরো খননকার্য চলছেপ্রত্নতাত্ত্বিকরা সেখানকার বিভিন্ন নিদর্শনের মধ্যে পোড়া প্রাণীদের হাড়ও পেয়েছিলেন। এর থেকে গবেষকরা অনুমান করেন, আদিবাসীরা মৃতের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতার সময় হয়ত একসঙ্গে প্রাণীদের মাংস খেয়েছিল। গবেষকরা বলেন, এই প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটটি হাজারো বছর ধরে সমুদ্র শৈল দিয়ে আচ্ছাদিত ছিল। এ কারণেই কঙ্কালগুলো এখনো ভালো অবস্থায় রয়েছে।

উম্মে আল কুওয়াইনে মোট পাঁচটি প্রত্নতাত্ত্বিক সাইট রয়েছে- তেল আবরাক, অলোকাব দ্বীপ, আল শবিকা সাইট, এড-দুর সাইট এবং সিনিয়া দ্বীপ। এছাড়াও রয়েছে তিনটি যাদুঘর- আল আলী ফোর্ট, ফালাজ মুয়াল্লা যাদুঘর এবং উম্মে আল কোওয়াইন সেন্টার অব অ্যান্টিকিটিস ।

বর্তমানে এড-দুর প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটিতে উন্নয়নশীল কাজ চলছে। শিগগিরই দর্শনার্থীদের জন্য এই স্থানটি খুলে দেয়া হবে। এছাড়াও আরো বেশ বেশ কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক সাইট নিয়ে গবেষণাকার্য চলছে বলে জানান গবেষক কন্নৌমা। তিনি বলেন, এইসব প্রাচীন নিদর্শন আরব আমিরাতে অনেক রহস্যই উন্মোচন করবে।

সূত্র: দ্যন্যাশনাল

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএমএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!