ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ সাতরং ]

লটারির টিকিট কিনতে ব্যাংক ডাকাতি করেন তিনি

সৌমিক অনয় 
প্রকাশিত: ১৩:৩১, ২২ জুন ২০১৯
লটারির টিকিট কিনতে ব্যাংক ডাকাতি করেন তিনি
ছবি: সংগৃহীত

হলিউড বলিউডের সিনেমায় আমরা প্রায়শই ব্যাংক ডাকাতি দেখে থাকি। ডাকাতরা দুর্ধর্ষ সব উপায়ে ব্যাংক থেকে  হাতিয়ে নেয় কোটি কোটি ডলার। আবার অনেক সিনেমায় দেখা যায় ব্যাংক থেকে টাকা চুরির পরেও কর্তৃপক্ষ বুঝতেই পারেনা আসলে কোনো চুরি হয়েছে কিনা। এসব সিনেমা দেখে আমাদের অনেকেরই হয়তো এমন কিছু করার চিন্তা মাথায় এসেছে। কিন্তু বাস্তবে কি এমন ব্যাংক এবং পুলিশের চোখে বালি দিয়ে টাকা চুরি সম্ভব? হ্যাঁ, সম্ভব। বাস্তব দুনিয়ায় রয়েছে সিনেমার থেকেও লোমহর্ষক ডাকাতির ইতিহাস। আবার কিছু কিছু ডাকাতির ঘটনা হাস্যকরও বটে। এমনি এক ঘটনা ঘটে চীনের হানডান শহরে। যেখানে লটারির টিকিট কেনার জন্য ব্যাংক থেকে ডাকাতি করা হয় ৫১ মিলিয়ন চাইনিজ ইউয়ান বা প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। যা চীনের ইতিহাসের সবথেকে বড় ব্যাংক ডাকাতি। তাহলে দেরি না করে জেনে আসা যাক চীনের ইতিহাসের সবথেকে বড় ব্যাংক ডাকাতি সম্পর্কে।

ঘটনার শুরু হয় ২০০৬ সালে। তখন চীনে অবস্থিত ৪ টি সবথেকে বড় ব্যাংক এর একটি হল এগরিকালচার ব্যাংক অফ চায়না। সরকার এবং জনগণের বিস্বস্ত হওয়ায় এই ব্যাংকে প্রতিদিনই জমা হয় মিলিয়ন মিলিয়ন চাইনিজ ইউয়ান। যা এই ব্যাংকের হানডান শহরের ভল্ট ম্যানেজার রেন ডাংফাকে লোভী করে তুলে। কিন্তু অন্যান্য ডাকাতদের থেকে তার উদ্দেশ্য ভিন্ন ছিল। তিনি ব্যাংক থেকে টাকা চুরি করে না পালিয়ে হানডান শহরেই বসবাস করতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু তা প্রায় অসম্ভব ছিল। কিন্তু একদিন শহরের রাস্তায় তিনি এই সমস্যা সমাধানের উপায় পেয়ে যান। তার পরিকল্পনা ছিল ডিউটির সময় ব্যাংক থেকে সামান্য ক্যাশ নিবেন। তা দিয়ে অনেক পরিমানে লটারির টিকিট কিনবে এবং লটারি জিতলে ব্যাংকের টাকা ফেরত দিয়ে বাকি টাকা নিজের কাছে রাখবেন। 

২০০৬ সালের জানুয়ারিতে পরিকল্পনা শুরু করলেও ১০ অক্টোবর তিনি তা বাস্তবায়নের সুযোগ পেয়ে যান। ওইদিন তার রাতে ডিউটি ছিল। ব্যাংকে শুধুমাত্র রেন রবং দুইজন গার্ড অবস্থান করছিলেন। রেন আগেই গার্ডদেরকে টাকা দিয়ে ঠিক করে রেখেছিল। একারণে কোনো ঝামেলা ছাড়াই তার ডিউটি শেষ হবার আধা ঘন্টা পূর্বে ভল্ট থেকে ২ লাখ ইউয়ান নিয়ে তিনি গাড়িতে রেখে আসেন। এরপর তিনি প্রতিদিনের মত তার ডিউটি শেষ করে চলে যায়। তখন চাইনিজ এগ্রিকালচার ব্যাংকে এত টাকা জমা হত যে এত অল্প পরিমাণ টাকা চুরি কারো নজরে আসেনি। এই টাকা নিয়ে রেন হানডান এবং আশেপাশের শহর থেকে সব লটারির টিকিট কিনে ফেললেন। 

চীনে লটারি একটি জনপ্রিয় খেলা। এসব লটারির ব্যবসায়ীরা জনগণের কাছ থেকে অনেক টাকা হাতিয়ে নেয় এবং খুব সামান্যই ফেরত দেয়। রেন এর সাফল্যের হার অনেক কম থাকলেও রেন লটারিতে ৪ লাখ ডলার জিতেন এবং লটারি জেতার সাথে সাথেই তিনি দুই লাখ ইয়ান ব্যাংকের ভল্টে রেখে আসে। ডাকাতির ঘটনাটি এখানেই শেষ হতে পারত। তাহলে হয়ত কেউ এই ঘটনা সম্পর্কে জানতও না। কিন্তু রেন শুধু দুই লাখ ইয়ানে খুশি ছিল না। ৬ মাস পরে তিনি আবার চুরির পরিকল্পনা করলেন। কিন্তু এবারের পরিকল্পনা অনেক বড় ছিল। এবার তিনি আরেকজন ভল্ট ম্যানেজার মাও কে পরিকল্পনায় নিল। যাতে অন্যান্য কর্মকর্তারা ব্যাপারটি ধরতে না পারে। 

পরিকল্পনা মাফিক রেন এবং মাও দু’জন মিলে ২০০৭ সালের মার্চ এবং এপ্রিল মাস মিলিয়ে প্রায় ৩৩ মিলিয়ন ইউয়ান চুরি করলেন। এত বড় পরিমাণ অর্থ হওয়ার কারণে তারা খুব তারাতাড়িই আশেপাশের সব প্রদেশের  সকল লটারির টিকিট কিনে ফেললেন। তবে এবার ভাগ্য তাদের সহায় হল না। তারা প্রায় সব টাকাই হারাল। এই সমস্যা থেকে বাঁচতে তারা আরো একবার প্রায় ১৮ মিলিয়ন ইউয়ান চুরি করল। সব দিয়ে লটারি কিনেও তারা মাত্র ১ লাখ ইউয়ানই জিতল। ততক্ষণে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চুরির ব্যাপারটি ধরতে পারল। 

রেন এবং মাও দু’জনেই চীনের দুই প্রান্তে পালিয়ে যায়। পুলিশ দুই দিনের মধ্যে মাওকে ধরতে পারলেও রেন পলাতক ছিলেন। পুরো চীনব্যাপী রেন নামে পোস্টার ছাপানো হয়েছিল এবং রেনের নামে দুই লাখ ইয়ান পুরষ্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। অবশেষে ১৫ দিন পরে চীনে লিয়াং ইয়াং বর্ডার থেকে রেনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। রেন এবং ইয়ান দু’জনেরই মৃত্যুদন্ড হয়। তাছাড়াও এই ঘটনার পরে অবহেলার অভিযোগে এগরিকালচার ব্যাংক অফ চায়নার অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা চাকরিচ্যুত হয়েছিল।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!