জাল সনদে চাকরি নিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেন মাজহারুল
১৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. মাজহারুল আলমকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় র্যাব-৪ এর একটি দল রাজধানীর কাফরুল থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
র্যাব বলছে, মাজহারুল দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে দুর্নীতি দমন আইনের মামলায় পলাতক ছিলেন। তার বাড়ি মানিকগঞ্জে।
শুক্রবার দুপুরে র্যাব-৪ এর অধিনায়ক ডিআইজি মোজাম্মেল হক জানান, আসামি মাজহারুলকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তিনি ১৯৮১ সালে নিজের সনদপত্র জালিয়াতি করে হরিরামপুর উপজেলা মুন্সেফি আদালত, মানিকগঞ্জে নাজির হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। কর্মরত থাকাকালীন আদালতের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিল ও স্বাক্ষর জাল করে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা নিতেন। বিষয়গুলো জানাজানি হলে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরে মাজহারুল আলমকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।
তিনি আরো জানান, চার মাস কারাভোগের পরে জামিনে বের হয়ে মাজহারুল আত্মগোপনে চলে যান। মামলার তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। চার্জশিটের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জ দায়রা জজ আদালত মামলার বিচারকার্য পরিচালনা করে। পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ ও উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে প্রতারণার মাধ্যমে জাল সনদ দিয়ে চাকরিতে যোগদান ও সরকারি টাকা আত্মসাতের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকায় মাজহারুল আলমকে ১৩ বছরের সাজা প্রদানসহ ৪ হাজার টাকা জরিমানা করে আদালত। সেই রায়ের পর থেকে গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৪ বছর পলাতক ছিলেন তিনি।
র্যাব-৪ অধিনায়ক জানান, গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে যান মাজহারুল। প্রথম দিকে তিনি ঢাকায় মুদি দোকান ও পরে ওষুধের দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ছোটখাটো ঠিকাদারি শুরু করেন। গ্রেফতারকৃত মাজহারকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।