প্রতিবন্ধকতা রুখতে প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়
তাদের কেউ কথা বলতে পারে না, কেউ হাঁটতে পারে না, কেউ খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটে। আবার অনেকেই আছে যারা মা-বাবার কোলে চড়ে যাতায়াত করে। এমনি সব শারীরিক অঙ্গের আঙ্গিকতা না থাকাদের প্রতিবন্ধকতা রুখতে, তাদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে বদলগাছী প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করে।
যমুনার কোল ঘেঁষে ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বদলগাছী প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়। সরেজমিনে বদলগাছী প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পাঁচ শ্রেণিকক্ষে এসব প্রতিবন্ধীদের নিবিড় পরিচর্চার মাধ্যমে পাঠদান চলছে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শুধু পড়াশুনা নয়, লেখাপড়ার পাশাপাশি তাদের সাধ্যমত শরীরচর্চা ও বিনোদনমূলক ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। পাঁচটি শ্রেণিকক্ষ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে একটি অফিসরুম, একটি মসজিদ ও একটি খেলাঘর।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মোসা. মালিহা ইয়াসমিন জানান, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে পাঠদান করা হয়। বিদ্যালয়টিতে এখন ২২০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। মোট ১৬ জন শিক্ষক ও ১৩ জন কর্মচারীর নিরলস প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষিত হচ্ছে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বহনের জন্য দুটি মাইক্রো রয়েছে। বিদ্যালয়ে বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপন, নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশ, শিক্ষাসফর, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতাসহ প্রতিদিন টিফিনের ব্যবস্থা রয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রভাষক নজরুল ইসলাম বলেন, ২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর ২৫ শতক জমির উপর আমরা এই বিদ্যালয়টি স্থাপন করি। ২০১৮ সাল থেকে এর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। এখানে আমরা প্রতিবন্ধী শিশুদের এমনভাবে শিক্ষা প্রদান করি যাতে তারা ভবিষ্যতে আর দশটা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে।
শারীরিক প্রতিবন্ধী ফাহাদ এবং বাক-প্রতিবন্ধী রাহাতের মা মাহফুজা বেগম বলেন, আমি আমার দুই সন্তানকে নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন ছিলাম। প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় আমার মনে আশার আলো সঞ্চার করেছে। এই বিদ্যালয়ে এসে আমার সন্তানেরা অনেক কিছু শিখেছে। এখানে তারা শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক পরিবেশে সুন্দরভাবে বেড়ে উঠছে। প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের সুষ্ঠুভাবে বেড়ে ওঠার জন্য এখানে একটা সুন্দর ও মনোরম পরিবেশ আছে। বিদ্যালয়ে স্নেহ ও ভালোবাসা দিয়ে শিক্ষকরা এইসব শিক্ষার্থীদের সুন্দর জীবন গঠনের জন্য শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, বদলগাছী প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে শিক্ষা প্রদান করছে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের আমরা ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকি। এতে তারা ভবিষ্যতে আত্মনির্ভরশীল হয়ে সমাজে অবদান রাখতে পারবে।
বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ইউএনও মাসুম আলী বেগ বলেন, বদলগাছী প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রয়েছে যারা কোনো না কোনো ভাবে দুর্বল। কিন্তু তাদের মধ্যে যে দৃঢ় মনোবল রয়েছে আমি বিশ্বাস করি তাতে তারা অবশ্যই শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে এবং ভবিষ্যতে নিজেদেরকে আত্মনির্ভরশীল ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।
ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস