সেন্টমার্টিন ভ্রমণে নতুন বিধি-নিষেধ দিলো সরকার

ঢাকা, শুক্রবার   ১৬ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ৩ ১৪২৮,   ০৩ রমজান ১৪৪২

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে নতুন বিধি-নিষেধ দিলো সরকার

ভ্রমণ প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:২৪ ২ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১০:২৬ ২ জানুয়ারি ২০২১

সেন্টমার্টিন

সেন্টমার্টিন

‘প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন’ এলাকা ঘোষণা করে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে নতুন করে কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে সরকার। পরিবেশ ও বিরল জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারসহ দ্বীপটিকে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ০৪ ধারার ক্ষমতাবলে এ বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়।

এক গণবিজ্ঞপ্তিতে পরিবেশ অধিদফতর বলেছে, অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন এবং পর্যটকদের অসচেতনতা, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, পরিবেশ এবং প্রতিবেশ বিরোধী আচরণের কারণে সেন্টমার্টিনের বিরল প্রতিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত।

গণবিজ্ঞপ্তি

পরিবেশ অধিদফতরের গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত বিধি-নিষেধগুলো হলো-

- দ্বীপের সৈকতে সাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকশা, ভ্যানসহ কোনো ধরনের যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক বাহন চালানো যাবে না।

- দ্বীপের সৈকত, সমুদ্র এবং নাফ নদীতে প্লাস্টিক বা কোনো ধরনের বর্জ্য ফেলা যাবে না।

- পশ্চিম দিকের সৈকতে কোনাপাড়ার পর দক্ষিণ দিকে এবং পূর্ব দিকের সৈকতে গলাচিপার পর দক্ষিণ দিকে যাওয়া যাবে না।

- দ্বীপের চারপাশে নৌ-ভ্রমণ করা যাবে না।

- জোয়ার-ভাটা এলাকায় পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটা যাবে না।

সাইকেল নিষিদ্ধ

- সামুদ্রিক কাছিমের ডিম পাড়ার স্থানে চলাফেরা, রাতে আলো জ্বালানো এবং ফ্ল্যাশলাইট ব্যবহার করে ছবি তোলা যাবে না।

- সৈকতে রাতের বেলা কোনো ধরনের আলো বা আগুন জ্বালানো, আতশবাজি ও ফানুস ওড়ানো যাবে না।

- সৈকতে মাইক বাজানো, হৈ-চৈ এবং উচ্চস্বরে গান-বাজনা করা কিংবা বার-বি-কিউ পার্টি করা যাবে না।

- ছেঁড়াদিয়া দ্বীপে স্পিডবোট, কান্ট্রি বোট, ট্রলার কিংবা অন্যান্য জলযানে যাতায়াত কিংবা নোঙর করা যাবে না।

- সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে সরকারের অধিগ্রহণ করা ছেঁড়াদিয়া দ্বীপ ভ্রমণ করা যাবে না।

পাখি

- প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, তারা মাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস, সামুদ্রিক শৈবাল এবং কেয়া ফল সংগ্রহ ও ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না।

- জাহাজ থেকে পাখিকে চিপস বা অন্য কোনো খাবার খাওয়ানো যাবে না।

- দ্বীপে সুপেয় পানির পরিমাণ সীমিত হওয়ায় পানির অপচয় রোধ করতে হবে।

সর্বোপরি সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রতিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে ভ্রমণকারীসহ সবাইকে।

বর্ণিত এসব বিধি-নিষেধের লঙ্ঘন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে ওই সরকারি গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস