হাওয়ায় ভেসে বঙ্গোপসাগর দেখা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৪ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১০ ১৪২৭,   ০৭ রবিউস সানি ১৪৪২

হাওয়ায় ভেসে বঙ্গোপসাগর দেখা

ভ্রমণ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৫৩ ১ সেপ্টেম্বর ২০২০  

কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরের বুকে হেলে পড়ছে সূর্য। ঠিক তখনই বালুকাময় তীর ছেড়ে আকাশে ওড়ার প্রস্তুতি শুরু করলাম। গায়ে বেঁধে দেয়া হলো প্যারাস্যুটের দড়ির একাংশ। আরেকাংশ টেনে ধরেছে স্পিডবোট। এরইমধ্যে ব্রিফ দিলেন প্যারাসেইলিং ইনস্ট্রাকটর। দুই মিনিটেই বুঝিয়ে দিলেন হাত ধরে রাখা আর নামার সময় রশি টানার নিয়ম।

হুট করেই মাটি সরলো পা থেকে। বাতাসে দোল খেয়ে উড়ে যাচ্ছি। একপাশে সমুদ্র, আরেকপাশে পাহাড়। এই দুয়ের মিশেল পাখির চোখে দেখার মতো রোমাঞ্চকর অনভূতিতে ভাসছি। রোমাঞ্চ আরো একটু বাড়াতে কয়েকশ’ ফুট ওপর থেকে নামিয়ে সাগরে পা ভিজিয়ে আবার উড়াল দেয়ার সুযোগও দেয়া হয়। তারপর তীরের বালুতে নির্বিঘ্নে পা ফেলে নেমে আসা।

এই ওড়াউড়িকে বলা হয় প্যারাসেইলিং। বিশ্বের প্রায় সব দেশের সমুদ্র সৈকতের অন্যতম আকর্ষণীয় একটি রাইড। পাহাড়ে যেমন জনপ্রিয় প্যারাগ্লাইডিং, তেমনি সমুদ্র সৈকতে প্যারাসেইলিং। তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে এটি খুব পুরনো নয়। মাত্র পাঁচ বছর আগে সীমিত পরিসরে এর শুরু। বর্তমানে এটি বেশ পরিচিতি পেয়েছে।

দরিয়ানগর প্যারাসেইলিংয়ের জন্যই পরিচিত। পাখির দৃষ্টিতে বঙ্গোপসাগরের নানা রূপ দেখা যায় প্যারাসেইলিংয়ের মাধ্যমে। গাঙচিলের মতো উড়ে সমুদ্রে ভেসে বেড়ানোর জন্যও প্যারাসেইলিংয়ের জুড়ি নেই। একটি প্যারাসুট আর স্পিডবোটের মাধ্যমে এই রাইড পরিচালনা করা হয়। প্যারাসুটের মাধ্যমে আপনাকে উড়িয়ে দেয়া হবে আর সেটির দড়ি বাঁধা থাকে স্পিডবোটে।

প্যারাসেইলিংয়ের মাধ্যমে কয়েক মিনিটের জন্য পাখির দৃষ্টি নিয়ে সমুদ্রের উপর ভেসে থাকতে পারেবেন। অনেকটা ঘুড়ি এবং নাটাইয়ের মতো। ঘুড়ি হাতে নিয়ে উড়িয়ে দেয়ার জন্য যেমন উঠানের একপ্রান্ত থেকে আরেকপ্রান্তে যেতে হয়; ঠিক তেমনি স্পিডবোটের মাধ্যমে একপাশ থেকে আরেকপাশে উড়িয়ে নিয়ে যাবে।

১২ থেকে ৬০ বছর বয়সী যেকোনো সুস্থ মানুষই কক্সবাজারে গিয়ে প্যারাসেইলিং করতে পারবেন। দরিয়ানগরে আকাশে ওড়ার স্বাদ নিতে জনপ্রতি ২ হাজার টাকা খরচ করতে হবে। যদি গাঙচিলের মতো পানিতে হালকা পা ডুবাতে চান তাহলে আরো ৫০০ টাকা দিতে হবে।

কক্সবাজার শহরের লাবণী পয়েন্ট থেকে অটোতে ১০ টাকা ভাড়া দরিয়ানগর। এখানে দুটি গ্রুপ প্যারাসেইলিং করছে নিয়মিত। স্যাটেলাইট ভিশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান এখানে এ বিশেষ আকর্ষণীয় রাইডটি পরিচালনা করছে দক্ষ কর্মী-প্রশিক্ষক নিয়ে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে