মনোমুগ্ধকর ট্রেইল সোনাইছড়িতে রোমাঞ্চকর অভিযান

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৪ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১০ ১৪২৭,   ০৭ রবিউস সানি ১৪৪২

মনোমুগ্ধকর ট্রেইল সোনাইছড়িতে রোমাঞ্চকর অভিযান

ভ্রমণ প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২৩ ২৪ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৫:২৬ ২৪ আগস্ট ২০২০

সোনাইছড়ি ট্রেইল। ছবি: সংগৃহীত

সোনাইছড়ি ট্রেইল। ছবি: সংগৃহীত

‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার হে!’

দুর্গম পাহাড়-পর্বত পেরিয়ে একটি ট্রেইল জয় করা কতটা আনন্দের, তা হয়তো সোনাইছড়িতে গেলে ষোলো-আনা বোঝা যায়। পাহাড়-পর্বত, ঝরনা, বৈচিত্রময় প্রকৃতি—কী নেই এখানে! সীতাকুণ্ডের গহীন পাহাড়ে কী পরিমাণ রহস্য আর সৌন্দর্য যে লুকিয়ে আছে তা সেখানে না গেলে অজানাই রয়ে যাবে। এখানে যত পাহাড়ি ট্রেইল আছে তার মধ্যে সবচেয়ে দুর্গম, রহস্যময় এবং সুন্দর ট্রেইল হলো সোনাইছড়ি।

চট্টগ্রামের বারৈয়াঢালা অভয়ারণ্যের অন্তর্ভুক্ত মীরসরাইয়ের হাদি ফকিরহাট বাজার সংলগ্ন সোনাইছড়ি ট্রেইল অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য একটি আদর্শ জায়গা। পিচ্ছিল ঝিরিপথ, খাড়া পাহাড় ও বাদুইজ্জাখুম পার হয়ে যাওয়ার সময় যে রোমাঞ্চকর অনুভূতির সৃষ্টি হয় সেই অভিজ্ঞতা সারাজীবনের এক অনন্য সঞ্চয়। তবে এই সোনাইছড়ি ট্রেকিং ট্রেইলে যেতে হলে দলগত ভাবে যাওয়া উচিত এবং ট্রেকিংয়ের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলে সুবিধা হবে।

বাদুইজ্জাকুমের দু’পাশের ১০০-১৫০ ফুট উঁচু খাড়া পাথুরে দেয়ালের অন্ধকারে হাজার হাজার বাঁদুরের ডানা ঝাপটানো শব্দ ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি করে। আর ২৮ কিলোমিটার ট্রেইলের শেষ প্রান্তে পৌঁছালে অপূর্ব সোনাইছড়ি ঝরনা নিমিষেই সব ক্লান্তি উড়িয়ে দেয় বাতাসের সঙ্গে।

এত সুন্দর প্রকৃতি, অনুচ্চ পাহাড়ে ঘেরা ঝিরিপথ, নানা রকম গাছ, সেসব গাছে সবুজ ছাড়াও হলদে, লালচে রঙের পাতার মিলবে। কিচিরমিচির পাখির ডাকে হারিয়ে যাবেন এক স্বপ্নের জগতে। নিজেকে মনে হতে পারে বন্দি এক রাজকন্যা, যে হঠাৎ করে পালানোর সুযোগ পেয়ে চলে এসেছে এ ঝিরিপথে। প্রশ্ন জাগতে পারে মনে, এত সুন্দর কেন এ পৃথিবী?

পিচ্ছিল ঝিরিপথ, খাড়া পাহাড় ও বাদুইজ্জাখুম পার হওয়ার সময় রোমাঞ্চকর অনুভূতি হবে নিশ্চিত। ছবি: সংগৃহীত

সীতাকুণ্ডের ট্রেইলগুলোর নিরাপত্তাবিষয়ক বেশ দুর্নাম রয়েছে। এ ট্রেইল পেরোতে গিয়ে হাজারো ভাবনা জড় হতে থাকবে!পাখির ডাক আর ঝিরিতে বয়ে যাওয়া পানির ঝির ঝির শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ পাবেন না। মনে হতে পারে, হঠাৎ যদি কেউ সামনে এসে দাঁড়ায়, কী করব আমি? তবে আকাশ-পাতাল ভাবতে ভাবতে এগোতে থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ!

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী যেকোনো বাসে উঠে হাদি ফকিরহাট বাজারে নেমে যেতে হবে। এছাড়া ট্রেনে চড়ে সীতাকুণ্ড নেমে হাদি ফকিরহাট আসা যায়। সেখান থেকে হাদি ফকিরহাট জামে মসজিদের গলি ধরে হেঁটে অথবা সিএনজি নিয়ে বড়-পাথর যেতে হবে। সেখান থেকেই ট্রেইল শুরু। হাদি ফকিরহাট গ্রাম শেষে পাহাড়ের শুরু থেকে সোনাইছড়ি ট্রেইলের শেষ পর্যন্ত সময় লাগবে পারে তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা। এক দিনেই এই এলাকা ঘুরে দেখা সম্ভব।

কোথায় থাকবেন

এই ভ্রমণ একদিনের তাই থাকার দরকার পড়বে না। তারপরও রাতে থাকতে চাইলে মীরসরাই বা সীতাকুণ্ডে হোটেল পাবেন। তবে হোটেলগুলো তেমন ভালো মানের না। ভালো হোটেলে থাকতে চাইলে চট্টগ্রাম বা ফেনী চলে যেতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে