Daily Bangladesh :: ডেইলি বাংলাদেশ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৪ ১৪২৬,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

ইংল্যান্ড

#

ছবি: ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল


ক্রিকেটে পৃথিবীর অন্যতম পরাশক্তি ইংল্যান্ড। বলা হয়ে থাকে ক্রিকেট খেলার জন্মই এই ইংল্যান্ড থেকে। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। 

১৯৯৭ সালে ১ জানুয়ারী থেকে দলটি ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। দলটি বর্তমানে আইসিসির টেষ্ট, ওয়ানডে ও টি-২০ এর আন্তর্জাতিক মর্যাদাপ্রাপ্ত দেশগুলোর স্থায়ী সদস্য। 
 

দীর্ঘ পথচলা (ইতিহাস)

ক্রিকেট খেলার জনক ইংল্যান্ড। আইসিসির পূর্ণ সদস্য হওয়ার পর ১৫ মার্চ, ১৮৭৭ সালে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অভিষেক টেস্টে মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড। এই ম্যাচটি একই সঙ্গে ছিলো ইতিহাসের প্রথম আন্তজার্তিক ম্যাচ ও প্রথম টেস্ট ম্যাচ। অভিষেক টেস্ট ম্যাচেই চার্লস ব্যানারমানের ১৬৫ রানের কারণে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪৫ রানে হেরে যায় ইংল্যান্ড। 

এ পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বাধিক ম্যাচ খেলেছে ইংল্যান্ড। ১৮৭৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১০১০ আন্তজার্তিক টেস্ট ম্যাচে অংশগ্রহণ করে দ্যা লায়নরা। ১০১০টি টেস্ট ম্যাচে তারা জয় লাভ করে ৩৬৫ ম্যাচে, শতকরা হিসেব অনুযায়ী তারা ১০০ ম্যাচের মধ্যে ৩৬.১৩ ম্যাচ জয়ী। ৩৬৫ ম্যাচ জয়ের পাশাপাশি হার ৩০০টিতে, আর ড্র  করেছে ৩৪৫ ম্যাচে।

টেস্ট ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের প্রথম জয় আসে ১৮৭৭ সালে, অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে। প্রথম ম্যাচ অজিরা জয়ী হলেও ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ম্যাচেই মেলবোর্নে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। তাদের প্রথম টেস্ট জয়ে সবচেয়ে বড় ভুমিকা রাখেন জর্জ উলয়েত। লো স্কোরিং ম্যাচের দুই ইনিংসেই হাকান টানা দুই ফিফটি।

অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে তার অসাধারণ ব্যাটিংয়ের ফলে অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই ঘরের মাঠে ৪ উইকেটে হারায় ইংল্যান্ড। এর ফলে ব্রিটিশরা পেয়ে যায় প্রথম টেস্ট জয় ও প্রথম অ্যাওয়ে সিরিজ। তাদের প্রথম সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে ড্র হয়েছিলো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

ইংল্যান্ড তাদের প্রথম দেশের মাটিতে জয় লাভ করে ১৮৮০ সালে। লর্ড হারিসের অধীনে দ্যা ওভালে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারায় ইংল্যান্ড, যার ফলে পেয়ে যায় তাদের দ্বিতীয় জয়।

ইংল্যান্ডের টেস্ট ইতিহাসের এপিঠ-ওপিঠ জড়িয়ে আছে দি অ্যাশেজ। অ্যাশেজ হলো ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ৫ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। এই মর্যাদাপূর্ণ কাপটির জন্য লড়াই হয় প্রতি দুই বছর পর পর। ইংল্যান্ডের টেস্ট অভিষেক হওয়ার ৪ বছর পরই শুরু হয় অ্যাশেজ। 

এপর্যন্ত অ্যাশেজের ৭০টি সিরিজে ৩৩ বার কাপ জিতেছে অস্ট্রেলিয়া ও ৩২ বার ইংল্যান্ড। অ্যাশেজ কাপে মোট ৩৩০ টেস্ট ম্যাচের মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া, ৩৩০ ম্যাচের ১০৬টি জয় ইংল্যান্ডের, ১৩৪টি জয় অজিদের ও ৯০ ম্যাচ ড্র হয়। 
 

বিগত বিশ্বকাপ গুলোতে ইংল্যান্ড

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ইতিহাস তেমন সমৃদ্ধ নয়। ক্রিকেট খেলার জনক বলে ধরা হলেও এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের কোন ট্রফি নিজেদের করে নিতে পারেনি দেশটি। ১৯৭৫ থেকে ১৯৮৩ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত টানা  তিন বিশ্বকাপ নিজেদের মাটিতে হলেও সর্বোচ্চ সাফল্য ছিল রানার্স আপ হওয়া।

৭৫ এ প্রথম বিশ্বকাপে নিজেদের মাটিতে ইংলিশদের সেমি ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়। ৭৯ বিশ্বকাপে এসে ফাইনালে গিয়ে উইন্ডিজের কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয় দলটি। নিজেদের মাটিতে হওয়া পরের বিশ্বকাপে আবারও সেমিতে উত্তীর্ন হয় তারা। সেবার ৩য় অবস্থান থেকেই বিশ্বকাপ মিশন শেষ করতে হয় তাদের।

ইংল্যান্ড ছেড়ে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের আসর বসে উপমহাদেশে। ৮৭ বিশ্বকাপেও নিজেদের দাপট ধরে রাখে ইংল্যান্ড। কিন্তু আবারও ফাইনালে গিয়ে হারতে হয় তাদের। ৯২ বিশ্বকাপেও শিরোপা থেকে একটু দূরে গিয়ে থামতে হয় তাদের। সেবারও ফাইনালে গিয়ে পরাজিত হয় তারা। 

এরপর আর উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসেনি কোন বিশ্বকাপেই। ২০১১ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত ওঠাই তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য। 

বিশ্বকাপে দলীয় পারফরমেন্সঃ

সাল

ম্যাচ

জয়

পরাজয়

পরিত্যক্ত

অধিনায়ক

অবস্থান

১৯৭৫

০৪

০৩

০১

০০

মাইক ডেনেস

৩য়

১৯৭৯

০৫

০৪

০১

০০

মাইক ব্রেয়ারলি

২য়

১৯৮৩

০৭

০৫

০২

০০

বব উইলিস

৩য়

১৯৮৭

০৮

০৫

০৩

০০

মাইক গ্যাটিং

২য়

১৯৯২

১০

০৬

০৩

০১

গ্রাহাম গুচ

২য়

১৯৯৬

০৬

০২

০৪

০০

মাইকেল আথার্টন

৮ম

১৯৯৯

০৫

০৩

০২

০০

অ্যালেক স্ট্রিয়াট

৮ম

২০০৩

০৬

০৩

০৩

০০

নাসের হুসাইন

৯ম

২০০৭

১১

০৬

০৫

০০

মাইকেল ভঘাণ

৫ম

২০১১

০৭

০৩

০৩

০০

অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস

৭ম

২০১৫

০৬

০২

০৪

০০

ইয়ান মরগান

১০ম

সর্বমোট

৭৪

৪২

৩১

০১

   

বিশ্বকাপের দলীয় পরিসংখ্যান

সর্বোচ্চ রান

৮৯৭ (গুচ)

 

সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত রান

স্ট্রাউস (১৫৮)

 

সর্বোচ্চ দলীয় রান

৩৩৮/ (বিপক্ষ-ইন্ডিয়া)

 

সর্বনিম্ন দলীয় রান

৯৩ (বিপক্ষ-অস্ট্রেলিয়া)

 

সর্বোচ্চ পার্টনারশীপ

১৭৬ (অ্যামিস-ফ্লেচার)

 

সবচেয়ে ভালো ব্যাটিং গড়

৫৪.২৫ (গোয়ার)

 

সবচেয়ে বেশি উইকেট

৩০ (ইয়ান বোথাম)

 

বেস্ট বোলিং ফিগার

৩৯/ (মার্কস)

 

সবচেয়ে বেশী ক্যাচ ধরেছেন

১৩ টি (কলিংউড)

 

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন

অ্যান্ডারসন (২৫ ম্যাচ)

 

সবচেয়ে বেশি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন

ভগান ( ম্যাচ)

 

 

২০১৯ বিশ্বকাপ যাত্রা এবং স্বপ্ন

২০১৯ বিশ্বকাপে টিম ইংল্যান্ড:

ইংল্যান্ডকে ধরা হয় ক্রিকেটের জনক হিসেবে। তবে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ ক্রিকেটের কোন ট্রফি জেতা হয়নি দলটির। বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে টানা ৩ আসর তাদের দেশের মাটিতে হলেও সর্বোচ্চ সাফল্য ছিল রানার্স আপ হওয়া। তবে এবার দুর্দান্ত সম্ভাবনা নিয়েই শুরু করেছে তাদের বিশ্বকাপ মিশন। দেশের মাটিতে হওয়া এই আসরটিতে তাদের ধরা হচ্ছে শিরোপার অন্যতম দাবিদার। সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় এই আসরে তাদের চ্যাম্পিয়ান হওয়ার সম্ভাবনা অন্য সবার চেয়ে বেশি।  

বিশ্বকাপ স্কোয়াডঃ

ইয়ান মরগান (অধিনায়ক), জোফরা আর্চার, জস বাটলার, লিয়াম ডসন, আদিল রশিদ, জেসন রয়, জেমস ভিঞ্চ, মার্ক উড, মঈন আলী, জনি বেয়ারস্টো, টম কুরান, লিয়াম প্লাংকেট, জো রুট, বেন স্টোকস, ক্রিস ওয়াকস। 

 

 

 

সাধারণ তথ্য

পৃষ্ঠপোষক ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড
টেস্ট অধিনায়ক জো রুট
ওডিআই অধিনায়ক ইয়ান মরগান
টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক ইয়ান মরগান
কোচ ট্রেভোর বেলিশ

আইসিসি র‍্যাঙ্কিং

ফরম্যাট

বর্তমান

সর্বোচ্চ অর্জন

টেস্ট

০৪

০১

ওডিআই

০১

০১

টি-টোয়েন্টি

০২

০১

ইতিহাস

আইসিসি স্ট্যাটাস

 

 

১৯০৯ (পূর্ন সদস্য)

টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জন

 

 

১৮৭৭ সাল

প্রথম টেস্ট

 

 

বিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া (১৫ মার্চ, ১৮৭৭)

প্রথম ওডিআই

 

 

 বিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া (জানুয়ারি,১৯৭১)

প্রথম টি-টোয়েন্টি

 

 

বিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া (১৩ জুন, ২০০৫)

জয়-পরাজয় পরিসংখ্যান

      ফরম্যাট  

ম্যাচ

 

জয়

পরাজয়

ড্র/পরিত্যাক্ত

টেস্ট

১০১০

 

৩৬৫

৩০০

৩৬৫

ওডিআই

৭৩২

 

৩৬৭

৩৩০

/২৭

টি-টোয়েন্টি

১০৯

 

৫৪

৫০

০১/০৪

বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ

                            ফরম্যাট

সংখ্যা

 

সর্বোচ্চ অর্জন

আইসিসি বিশ্বকাপ

১১ বার

 

সেমিফাইনাল-১৯৭৫,১৯৮৩

রানার্স আপ-১৯৮৭, ১৯৯২

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

বার

 

রানার্স আপ-২০১৬

চ্যাম্পিয়ান-২০১০

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি

বার

 

সেমিফাইনাল-২০১৭

রানার্স আপ-২০০৪, ২০১৩

শিরোনাম: