Daily Bangladesh :: ডেইলি বাংলাদেশ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৪ ১৪২৬,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

উইন্ডিজ

#

ছবি: উইন্ডিজ ক্রিকেট দল

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল বর্তমানে উইন্ডিজ ক্রিকেট দল নামে পরিচিত। প্রকৃত অর্থে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোনো দেশ নয়, কয়েকটি দেশের সমষ্টিগত একটি রাষ্ট্র। যার নামকরণ করা হয় ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ’। মধ্য আমেরিকার পাশে ক্যারিবিয়ান সাগরে অবস্থিত ১৫টি ইংরেজিভাষী ক্যারিবীয় দেশ, ব্রিটিশ উপনিবেশ এবং ব্রিটিশ উপনিবেশ বিহীন দ্বীপরাষ্ট্রসমূহের সামস্টিক একটি দেশ। যেখানে বিছিন্নভাবে ক্রিকেট দলের অংশগ্রহণ ঘটেছে এখানে। জ্যামাইকা, ত্রিনিদাদ, বার্বাডোজসহ একাধিক দেশের খেলোয়াড় এই দলকে প্রতিনিধিত্ব করেন।

দীর্ঘ পথচলা (ইতিহাস)

ক্রিকেটীয় সংস্কৃতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের গোড়াপত্তনের ইতিহাস অনেক পুরনো। ১৮৯০ এর দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। তখন তারা সফরকারী ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের বিপক্ষে প্রথম খেলতে নামে। ১৯২৬ সালে ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইম্পেরিয়াল ক্রিকেট কনফারেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড বা ডব্লিউআইসিবিতে যোগদান করে। এর পরই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম আন্তর্জাতিক খেলায় অংশগ্রহণ করে। এর দু’বছর পর ১৯২৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল চতুর্থ টেস্ট খেলুড়ে দলের মর্যাদা পায়।

চিরচেনা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সবচাইতে গৌরবময় সময় ধরা হয় সত্তরের দশকের মাঝামাঝি থেকে নব্বইয়ের দশকের প্রথমদিক পর্যন্ত। এই সময়টিতে ক্যারিবীয়রা টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একচ্ছত্র প্রাধান্য বিরাজ করে গিয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে অসংখ্য পরিচিত মুখ। টেস্ট ক্রিকেটের এক ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের বর্তমান বিশ্বরেকর্ডধারী ব্রায়ান লারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের অন্যতম প্রতিভা ছিলেন।

তবুও একদিনের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে যেন আগের ছন্দে ফিরতে পারছিল না দলটি। ১৯৭৫ ও ১৯৭৯ সালে পরপর দুবার ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ জয়ের পর অনেক বছর যেন অধরাই রয়ে গেল কাপটি। ২০০৪ সালে আই সি সি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এসে দেখা মিলল নতুন করে কোনো বড় টুর্নামেন্ট জয়ের স্বাদ।

তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সব চাইতে চমকপ্রদ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অন্তর্ভুক্ত হলো একদিনের ক্রিকেট খেলার সংক্ষিপ্ত রূপ ‘টি-২০’। ২০ ওভারের এই সংক্ষিপ্ত ক্রিকেট বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে  ফিরিয়ে আনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদেরকে।

‘পাওয়ার ক্রিকেট’ নামক শব্দের অবতারণ করে বেশ দাপটের সঙ্গেই ক্রিকেট বিশ্বে পদার্পণ করে দলটি। চমৎকার ক্রীড়ানৈপুণ্য দেখিয়ে ২০১২ এবং ২০১৬ সালে দুবার আইসিসি টি-২০ ওয়ার্ল্ড কাপ জয় করে দলটি।

একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্রথম তিনটিতেই ওয়ার্ল্ড কাপ ফাইনাল খেলা দলটি সবসময় অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং যথাযথ নিয়ম-শৃঙ্খলার অভাবের শিকার হচ্ছিল। এসব কারণে ছিটকে যেতে হয়েছিল অনেক উদীয়মান ক্রিকেটারকে। বোর্ডের সঙ্গে দলের খেলোয়াড়দের দ্বন্দ্ব তো লেগেই আছে সবসময়।

উপযুক্ত পারিশ্রমিক ও সুযোগ-সুবিধা খেলোয়াড়দের একান্ত আবশ্যক। প্রতিনিয়ত খেলোয়াড় পরিবর্তন, খেলোয়াড়দের শাস্তি এবং ঠিকভাবে বেতন না দেয়ার অভিযোগে মূল দল পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ নতুন দল নিয়ে খেলানোর অভিজ্ঞতা বারবারই এই দলটির অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। 
 

বিগত বিশ্বকাপ গুলোতে উইন্ডিজ

উইন্ডিজের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু ১৯৭৫ থেকে। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রথম তিনটি বিশ্বকাপের দুইটিতেই জয়পায় ক্যারিবীয়ানরা। তাদের জন্য তৎকালীন সময়টা ছিলো ক্রিকেটের স্বর্ণযুগ। ৭৫ এর বিশ্বকাপে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বে  সেবার ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে ১৭ রানে হারিয়ে প্রথম বিশ্বকাপ নিজেদের করে নেয় তারা। 

৭৯’র বিশ্বকাপে আবারো শিরোপা জিতে উইন্ডিজ। এর মাধ্যমে নিজেদের ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে প্রকাশ করে। ফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ড টস জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নেয়।

ব্যাট করতে নেমে প্রথমেই চাপে পড়ে ক্যারিবীয়ানরা। ১০০ রান তুলতে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। পরবর্তীতে ভিভ রিচার্ডস ও কলিন কিংস এর ব্যাটিং দৃঢ়তায় ৯ উইকেটে ২৮৬ রান সংগ্রহ করে ক্যারিবীয়রা। জবাবে ১৯৪ রানে অল আউট হয়ে যায় ইংলিশরা। 

৮৩’র বিশ্বকাপে উইন্ডিজ ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারলেও ভারতের কাছে হেরে বসে। ভারতের দেওয়া ১৮৪ রানের লক্ষে খেলতে নেমে ১৪০ রানেই গুটিয়ে যায় ক্যারিবীয়ানদের ইনিংস।

এরপর আজ পর্যন্ত আর শিরোপার ধারে কাছেও যেতে পারেনি তারা। ১৯৯৬ সালে সেমি ফাইনাল খেললেও পরবর্তী ৫ আসরে তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য ছিলে কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তীর্ণ হওয়া পর্যন্ত। 

বিশ্বকাপে দলীয় পারফরমেন্সঃ

সাল

ম্যাচ

জয়

পরাজয়

পরিত্যক্ত

অধিনায়ক

অবস্থান

১৯৭৫

০৫

০৫

০০

০০

ক্লাইভ লয়েড

১/৮

১৯৭৯

০৫

০৪

০০

০১

ক্লাইভ লয়েড

৪/৮

১৯৮৩

০৮

০৬

০২

০০

ক্লাইভ লয়েড

২/৮

১৯৮৭

০৬

০৩

০৩

০০

ভিভ রিচার্ডস

৫/৮

১৯৯২

০৮

০৪

০৪

০০

ভিভ রিচার্ডস

৬/৯

১৯৯৬

০৭

০৩

০৪

০০

রিকি রিচার্ডসন

৪/১২

১৯৯৯

০৫

০৩

০২

০০

ব্রায়ন লারা

৯/১২

২০০৩

০৬

০৩

০২

০১

কার্ল হুপার

৯/১৪

২০০৭

১০

০৫

০৫

০০

ব্রায়ান লারা

৬/১৬

২০১১

০৭

০৩

০৪

০০

ড্যারেন সামি

৮/১৪

২০১৫

০৭

০৩

০৪

০০

জেসন হোল্ডার

৮/১৪

সর্বমোট

৭৪

৪২

৩০

০২

   

বিশ্বকাপের দলীয় পরিসংখ্যান

সর্বোচ্চ রান

১২২৫ (ব্রায়ান লারা)

 

সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত রান

ক্রিস গেইল (২১৫)

 

সর্বোচ্চ দলীয় রান

৭২/ (বিপক্ষ-জিম্বাবুয়ে)

 

সর্বনিম্ন দলীয় রান

৯৩ (বিপক্ষ-কেনিয়া)

 

সর্বোচ্চ পার্টনারশীপ

৩৭২ (গেইল-স্যামুয়েলস)

 

সবচেয়ে ভালো ব্যাটিং গড়

.৩১ (ভিভ রিচার্ড)

 

সবচেয়ে বেশি উইকেট

২৭ (কোর্টনি ওয়ালস)

 

বেস্ট বোলিং ফিগার

/৫১ (ডেভিস)

 

সবচেয়ে বেশী ক্যাচ ধরেছেন

১৬ টি (লারা)

 

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন

ব্রায়ান লারা (৩৪ ম্যাচ)

 

সবচেয়ে বেশি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন

লয়েড  (১৭ ম্যাচ)

 

২০১৯ বিশ্বকাপ যাত্রা এবং স্বপ্ন

২০১৯ বিশ্বকাপে টিম উইন্ডিজ:

উইন্ডিজ তাদের স্বর্ণযুগ পেরিয়ে এসেছে অনেক আগেই। বিশ্বকাপের ১ম দুই আসরে তারা ছিল দূর্ভেদ্য। প্রথম দুই বিশ্বকাপের দুটিতেই তারা চ্যাম্পিয়ান হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তারপরই যেন খেই হারিয়ে ফেলে তারা। এবারের বিশ্বকাপে শক্তিশালী দল নিয়েই ২২ গজের লড়াইয়ে নামবে ক্যারিবীয়ানরা। যে দলে আছে ক্রিস গেইল, অ্যান্ড্রে রাসেল এর মত তারকারা। যাদের ব্যাটিং তান্ডবে বিশ্বের যেকোন বোলার নাস্তানাবুদ হয়ে পড়ে। অভিজ্ঞ আর তারুণ্য মিলে গড়া উইন্ডিজ টিম এবার শিরোপার অন্যতম দাবিদার। সবাই মিলে জ্বলে উঠতে পারলে তাদের ট্রফি জয় সম্ভব। 

বিশ্বকাপ স্কোয়াডঃ

জেসন হোল্ডার, কার্লোস ব্রাথওয়েট, শেলডন কটরেল, ক্রিস গেইল, শাই হোপ, অ্যাশলি নার্স, কেমার রোচ, ওসান থমাস, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, ড্যারেন ব্রাভো, শ্যানন গ্যাব্রিয়েল, শিমরন হেটমায়ার, এভিন লুইস, নিকোলাস পুরান, এন্ড্রে রাসেল। 

 

সাধারণ তথ্য

পৃষ্ঠপোষক ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ
টেস্ট অধিনায়ক জেসন হোল্ডার
ওডিআই অধিনায়ক জেসন হোল্ডার
টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক জেসন হোল্ডার
কোচ ফ্লয়েড রেইফার

আইসিসি র‍্যাঙ্কিং

ফরম্যাট

বর্তমান

সর্বোচ্চ অর্জন

টেস্ট

০৮

০১

ওডিআই

০৯

০১

টি-টোয়েন্টি

০৯

০১

ইতিহাস

 

আইসিসি স্ট্যাটাস

 

 

১৯২৬ (পূর্ন সদস্য)

টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জন

 

 

১৯২৮ সাল

প্রথম টেস্ট

 

 

ইংল্যান্ড (২৩ জুন, ১৯২৮)

প্রথম ওডিআই

 

 

ইংল্যান্ড ( সেপ্টেম্বর,১৯৭৩)

প্রথম টি-টোয়েন্টি

 

 

নিউজিল্যান্ড (১৬  ফেব্রুয়ারী, ২০০৬)

জয়-পরাজয় পরিসংখ্যান

ফরম্যাট

ম্যাচ

 

জয়

পরাজয়

ড্র/পরিত্যাক্ত

টেস্ট

৪৩৩

 

৯৭

১৭১

১৬৫

ওডিআই

৭৫৮

 

৩৪২

৩৭০

/৪০

টি-টোয়েন্টি

১১৮

 

৫৭

৫৩

০৫/০৩

বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ

 

                         ফেরম্যাট

সংখ্যা

 

সর্বোচ্চ অর্জন

আইসিসি বিশ্বকাপ

১১ বার

 

চ্যাম্পিয়ান-১৯৭৫,১৯৭৯

রানার্স আপ-১৯৮৩

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

বার

 

সেমিফাইনাল-২০০৯,২০১৪

চ্যাম্পিয়ান-২০১২,২০১৬

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি

বার

 

রানার্স আপ-১৯৯৮, ২০০৬

চ্যাম্পিয়ান-২০০৪

শিরোনাম: