Daily Bangladesh :: ডেইলি বাংলাদেশ

ঢাকা, সোমবার   ২৪ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১০ ১৪২৬,   ১৯ শাওয়াল ১৪৪০

দক্ষিণ আফ্রিকা

#

ছবি: দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল

দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করে। তারা টেষ্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি আইসিসির মর্যাদা প্রাপ্ত স্থায়ী সদস্য দেশগুলোর অন্তর্ভুক্ত। দলটি দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ড দ্বারা পরিচালিত। দীর্ঘদিন ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত এই দলটি সবার কাছে চোকার নামে পরিচিত। 

দীর্ঘ পথচলা (ইতিহাস)

দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্রিকেট শুরু হয়েছিল ১৭৯৫ সালের দিকে ব্রিটিশদের মাধ্যমে। আফ্রিকায় ব্রিটিশরা ঔপনিবেশ স্থাপনের পর ক্রিকেট দ্রুত ছড়িয়ে যেতে থাকে। ইতিহাস ঘাটলে ১৮০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট ম্যাচের প্রমাণ পাওয়া যায়।

ম্যাচটি হয়েছিল কেপটাউনে, সে দেশের দুই পরিষেবা দলের মধ্যে। সে ম্যাচের জয়ী দলের জন্য পুরস্কার ছিল এক হাজার রিক্স ডলার।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাচীনতম ক্রিকেট ক্লাব ‘পোর্ট এলিজাবেথ ক্রিকেট ক্লাব’ ১৮৪৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৮৬২ সালে কেপ টাউনে প্রথমবারের মতো "মাদার কান্ট্রি বনাম ঔপনিবেশিক জন্ম" নামে একটি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ১৮৪০ এর দিকে এই ক্রিকেট কেপ কলোনিতে বিস্তার শুরু করে।

১৮৭৬ সালে পোর্ট এলিজাবেথের পৃষ্ঠপোষকতায় আফ্রিকানদের মাঝে ‘চ্যাম্পিয়ন ব্যাট’ নামে একটা প্রতিযোগিতা শুরু করে। প্রথম টুর্নামেন্টটি পোর্ট এলিজাবেথে অনুষ্ঠিত হয়। কিং উইলিয়ামস টাউন ১৮৭৬ ও ১৮৭৭ সালে পরপর দুই বছর এই টুর্নামেন্ট জিতেছিল।

পরবর্তীতে আফ্রিকা দল গঠনের পর ১৮৮৮ সালে প্রথম ইংল্যান্ড দল আফ্রিকায় খেলতে আসে। যে দলের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল স্যার ডোনান্ড ক্যারি। সফরটি দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শ্রেণীর এবং টেস্ট ক্রিকেট উভয়েরই আবির্ভাব হিসেবে ধরা হয়।

১৯৭০ সালের পর ১ম বারের মতো ১০ নভেম্বর, ১৯৯১ সালে ভারতীয় ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে কলকাতায় একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে দলটি।  ২০০৩ সালে ক্রিকেট বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নির্বাচিত করে আইসিসি।

অধিকন্তু, বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ও বিশ্বাসযোগ্য যে অ্যালান ডোনাল্ড, শন পোলক, গ্যারি কার্স্টেন এবং হান্সি ক্রোনিয়ের মতো স্বীকৃত খেলোয়াড় থাকা সত্ত্বেও চোকার্স হিসেবে দলটি আখ্যায়িত হয়। বিশ্বকাপে তিন বার দলটি সেমি-ফাইনালে খেললেও ফাইনালে যেতে ব্যর্থ হয় হয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
 

বিগত বিশ্বকাপ গুলোতে দক্ষিণ আফ্রিকা

১৯৯২ বিশ্বকাপে প্রথম অংশগ্রহণ করে প্রোটিয়ারা। রাউন্ড রবিন লীগে ৮ ম্যাচে ৫ জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে থেকে সেমিফাইনালে উঠে প্রোটিয়ারা। কিন্তু সেমিফাইনালে ক্রিকেটের এমপিয়ার পদ্ধতির করাল থাবার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিদায় নিতে হয়। 

১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা দল ছিল তারকা খেলোয়াড়ে পরিপূর্ন।  গ্রুপ পর্বে হ্যানসি ক্রুনিয়ে আর কারস্টেনদের কল্যাণে ৫ ম্যাচের ৫ টিতেই জয়লাভ করে। গ্রুপ পর্বে প্রথম হয়ে যেন টুর্নামেন্ট জেতার আগাম বার্তা দিয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল তারা। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়ে উন্ডিজের বিপক্ষে হেরে বিশ্বকাপ থেকেই বিদায় নিতে হয় তাদের।

ক্রিকেট বিশ্বে ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপের মত দুর্ভাগা দক্ষিণ আফ্রিকাকে আর কখনো কেউ দেখেছে বলে মনে হয় না। সেবার ইংল্যান্ড আর ওয়েলসে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ১২ টি দল অংশ নেয়। দক্ষিণ আফ্রিকা গ্রুপ ‘এ’ তে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে বসে। তবুও ৫ ম্যাচে ৪ জয় নিয়ে গ্রুপ পর্বে প্রথম হয়েই সুপার সিক্সে উঠে তারা।কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে সেবার সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।

২০০২ সালে চোকার প্রোটিয়ারা যেন আবার প্রমাণ করল আসলে “চোকার্স” তকমাটা তাদের সঙ্গেই যায়। গ্রুপ পর্বের দুইটা ম্যাচ জিতে খুব ভালোমতই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে গেল আফ্রিকা। কিন্তু সেমিতে গিয়ে আবার বাধলো বিপত্তি। সহজে জেতার মত ম্যাচটা ভারতের কাছে হেরে এবারও সেমি ফাইনাল থেকে বিদায় নেয় তারা। 

২০০৩ সালে যেন প্রোটিয়ারা ঘরের মাঠেই আঘটনের শিকার হলেন। গ্রুপ পর্বের ৬ খেলায় ৩ জয় নিয়ে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয় স্বাগতিক আফ্রিকানদের। 

২০০৭ বিশ্বকাপের সময় ক্রিকেট বিশ্বে চলছিল অস্ট্রেলিয়ার একক আধিপত্য। তবুও গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারলেও সুপার এইটে উঠে তারা। সুপার এইটে বাংলাদেশের কাছে হেরে বসে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবুও চতুর্থ দল হিসেবে সেমিফাইনালে যায় প্রোটিয়ারা। কিন্তু সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাত্র ১৪৯ রানে গুটিয়ে গিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে তারা। 

২০১১ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা ইংল্যান্ডের সঙ্গে ৬ রানে হারলেও স্বাগতিক ভারতকে হারিয়ে গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ভালোভাবেই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে। কোয়ার্টার ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৯ রানে হেরে আর সেমিফাইনালে যাওয়া হয়নি তাদের। ফলে এবার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয় প্রোটিয়াদের। 

২০১৫ বিশ্বকাপে এসে আবারও সেমিতে আটকে গেল প্রোটিয়ারা। আবারও বাধা হয়ে দাড়ালো নিউজিল্যান্ড। জিততে হলে শেষ ২ বলে নিউজিল্যান্ডের করতে হতো ৫ রান। সেই মুহুর্তে ডেল স্টেইন এর এক বলে ছক্কা হাকিয়ে সেমি ফাইনাল থেকে ছিটকে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে।

বিশ্বকাপে দলীয় পারফরমেন্সঃ

সাল

ম্যাচ

জয়

পরাজয়

পরিত্যক্ত

অধিনায়ক

অবস্থান

১৯৯২

০৯

০০

কেপলার ওয়েসেলস

 ৩য়

১৯৯৬

০৬

০৫

০১

০০

হান্সি ক্রনিয়ে

৫ম

১৯৯৯

০৯

০৬

০৩

০০

হান্সি ক্রনিয়ে

৩য়

২০০৩

০৬

০৩

০২

০০

শন পোলক

৭ম

২০০৭

১১

০৬

০৫

০০

গ্রায়েম স্মিথ

৩য়

২০১১

০৭

০৫

০২

০০

গ্রায়েম স্মিথ

৬ষ্ঠ

২০১৫

০৮

০৫

০৩

০০

এবিডি ভিলিয়ার্স

৪র্থ

সর্বমোট

৫৬

৩৫

২০

০১

   

বিশ্বকাপের দলীয় পরিসংখ্যান

 

সর্বোচ্চ রান

ডি ভিলিয়ার্স (১২০৭)

 

সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত রান

ক্যারিস্টেন (১৮৮*)

 

সর্বোচ্চ দলীয় রান

৪১১/ (বিপক্ষ-আয়ারল্যান্ড)

 

সর্বনিম্ন দলীয় রান

১৪৯ (বিপক্ষ-অস্ট্রেলিয়া)

 

সর্বোচ্চ পার্টনারশীপ

২৫৬  (মিলার-ডুমিনি)

 

সবচেয়ে ভালো ব্যাটিং গড়

১২৪ (ক্লুসেনার)

 

সবচেয়ে বেশি উইকেট

৩৮ (ডোনান্ড)

 

বেস্ট বোলিং ফিগার

/১৮ (এজে হল)

 

সবচেয়ে বেশী ক্যাচ ধরেছেন

১৫ টি (স্মিথ)

 

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন

জ্যাক ক্যালিস (৩৬ ম্যাচ)

 

সবচেয়ে বেশি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন

স্মিথ  (১৭ ম্যাচ)

 

২০১৯ বিশ্বকাপ যাত্রা এবং স্বপ্ন

২০১৯ বিশ্বকাপে টিম দক্ষিণ আফ্রিকা:

সুযোগ এসেছে ‘চোকার্স’ অপবাদ ঘুচিয়ে নিজেদের পাথর সরানোর। অন্যবারের তুলনায় এবার প্রোটিয়াদের নিয়ে আলোচনা কম,আর সেটাই হতে পারে তাদের বড় অস্ত্র। এবারের দলটি আহামরি না হলেও আছেন ফাফ ডু প্লেসিস, হাশিম আমলা, জেপি ডুমিনির মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানরা। তাদের সঙ্গে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কুইন্টন ডি কক তো আছেনই। দক্ষিণ আফ্রিকার সবসময়কার বড় শক্তি পেস আক্রমণ এবারও রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। অভিজ্ঞ ডেল স্টেইনের সঙ্গে কাগিসো রাবাদা ও লুঙ্গি এনগিদির পেস ঝড়ে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে প্রতিপক্ষদের। ইমরান তাহিরকে নিয়ে স্পিন আক্রমণও মন্দ নয়। হতে পারে, এবারের দলটি কিছেু করে ফেলতে পারে।

বিশ্বকাপ স্কোয়াডঃ

ফাফ ডু প্লেসি, কুইন্টন ডি কক, ইমরান তাহির, ডেভিড মিলার, লুঙ্গি এননিদি, ডোয়াইন প্রেট্রোরিয়াস, তাবরাইজ শামসি, ভ্যান ডার ড্যুসেন, হাসিম আমলা, জেপি ডুমিনি, অ্যাইডেন মার্করাম, ক্রিস মরিস, অ্যানডিল ফেলুকওয়ে, কাগিসো রাবাদা, ডেল স্টেইন।

সাধারণ তথ্য

পৃষ্ঠপোষক সাউথ আফ্রিকা ক্রিকেট ক্রেষ্ট
টেস্ট অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি
ওডিআই অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি
টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি
কোচ ওটিস গিবসন

আইসিসি র‍্যাঙ্কিং

ফরম্যাট

বর্তমান

সর্বোচ্চ অর্জন

টেস্ট

০৩

০১

ওডিআই

০৪

০১

টি-টোয়েন্টি

০৩

০১

ইতিহাস

 

আইসিসি স্ট্যাটাস

 

 

১৯০৯ (পূর্ন সদস্য)

টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জন

 

 

১৮৮৯ সাল

প্রথম টেস্ট

 

 

ইংল্যান্ড (১২ মার্চ,১৮৮৯)

প্রথম ওডিআই

 

 

ইন্ডিয়া (১০ নভেম্বর, ১৯৯১)

প্রথম টি-টোয়েন্টি

 

 

অস্ট্রেলিয়া (১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০০৫)

জয়-পরাজয় পরিসংখ্যান

 

                ফরম্যাট 

ম্যাচ

 

জয়

পরাজয়

ড্র/পরিত্যাক্ত

টেস্ট

৪৩২

 

১৬৪

১৪৪

১২৪

ওডিআই

৬১০

 

৩৭৭

২১০

/১৬

টি- টোয়েন্টি

১১৩

 

৬৭

৪৪

০১/০১

বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ

  ফরম্যাট 

সংখ্যা

 

সর্বোচ্চ অর্জন

আইসিসি বিশ্বকাপ

১১ বার

 

সেমি ফাইনাল-১৯৯২,১৯৯৯,২০০৭

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

বার

 

সেমিফাইনাল-২০০৯,২০১৪

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি

বার

 

সেমিফাইনাল- ২০০২,২০০৬,২০১৩

 

শিরোনাম: