Daily Bangladesh :: ডেইলি বাংলাদেশ

ঢাকা, সোমবার   ২৪ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১০ ১৪২৬,   ১৯ শাওয়াল ১৪৪০

অস্ট্রেলিয়া

#

ছবি: অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দল হিসাবে পরিচিত। টেস্ট ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের সঙ্গে যুগ্মভাবে বিশ্বের প্রাচীনতম দল হিসেবে এর পরিচিতি রয়েছে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া আইসিসির টেষ্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি এই তিন ফরমেটেই স্থায়ী সদস্য। এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশিবার বিশ্বকাপ জয় করার রেকর্ড একমাত্র অস্ট্রেলিয়ারই রয়েছে। এছাড়া টানা তিনবার বিশ্বকাপের ট্রফি জিতে নেয় তারা। সব মিলিয়ে মোট ৫ বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় অজিরা।

দীর্ঘ পথচলা (ইতিহাস)

অস্ট্রেলিয়া ১৮৭৭ সালে এমসিজিতে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ম্যাচে অংশগ্রহণ করে। এ খেলায় তারা ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলকে ৪৫ রানে পরাজিত করেছিল। চার্লস ব্যানারম্যান ১৬৫ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়েছিলেন। সেই সঙ্গে তিনি টেস্টের ইতিহাসে প্রথম সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেন।

সে সময়ে টেস্ট ক্রিকেট শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কারণ, সে সময়ে খেলতে হলে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার একমাত্র উপায় ছিল নদীপথ। ভৌগোলিক দূরত্বজনিত কারণে নদী পথে সাগর পরিভ্রমণ করে খেলার জন্যে যেতে কয়েক মাস লেগে যেতো। 

তুলনামূলক ভাবে স্বল্প জনসংখ্যা থাকা স্বত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলটি বেশ প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে খেলতো। জ্যাক ব্ল্যাকহাম, বিলি মারডক, ফ্রেড 'দ্য ডেমন' স্পফোর্থ, জর্জ বোনর, পার্সি ম্যাকডোনেল, জর্জ গিফেন, চার্লস 'দ্য টেরর' টার্নার প্রমূখ ক্রিকেটারগণ স্মরণীয় হয়ে আছেন। অধিকাংশ ক্রিকেটারই নিউ সাউথ ওয়েলস কিংবা ভিক্টোরিয়ার পক্ষ হয়ে খেলেছেন। 

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের স্বর্ণযুগ শুরু হয় মূলত ১৯ শতকের শেষ থেকে ২০ শতকের শুরুর দিকে। সে সময় জো ডার্লিং, মন্টি নোবল এবং ক্লেম হিলের অধিনায়কত্বের অধীনে দলটি দশটি ট্যুরের আটটিতে জয় পেয়েছিল।

তখনকার সময় ভিক্টর ট্রাম্পার অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ক্রীড়া হিরোদের একজন হয়ে ওঠেন। ডন ব্রাডম্যান এর পূর্বে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিকেটার। 

টেস্ট ক্রিকেট র‌্যাঙ্কিংয়ে ২০০৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া একনাগারে ৭৪ মাস পর্যন্ত রেকর্ড সময়ে শীর্ষস্থানে ছিল।
 

বিগত বিশ্বকাপ গুলোতে অস্ট্রেলিয়া

ওয়ানডে ক্রিকেটই তখন হাঁটি হাঁটি করছে। প্রথম বিশ্বকাপের আগে মাত্র ১৮টি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ হয়েছে বিশ্বে। ঠিক এই সময়ই বৈশ্বিক একটা প্রতিযোগিতা আয়োজন করে মূলত বাণিজ্য বৃদ্ধি ও খেলার জনপ্রিয়তা বাড়ানোর স্বপ্নে শুরু হয়ে গেলো বিশ্বকাপ।

অস্ট্রেলিয়ার যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৫ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসর থেকেই। প্রথমবার বড় কোন টুর্নামেন্টে খেলতে নেমেই রীতিমতো তাক লাগিয়ে দেয় ক্রিকেট বিশ্বকে। সেবার রানার্স আপ হয়ে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করেন অজিরা। 

পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের মাটিতে হওয়া দুইটি আসরেই গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়তে হয় অস্ট্রেলিয়াকে। ১৯৭৯ এবং ১৯৮৩’র দুই আসরে ৮ দলের মধ্যে ৬ষ্ঠ অবস্থানে থেকে বিদায় নিতে হয় তাদের।

বিশ্বকাপ খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে শুরু করলো ১৯৮৭ সালে। এর আগের টানা তিনটি বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়েছে ইংল্যান্ডে। সেবার প্রথমবারের মতো সমুদ্র পার হয়ে এই আসর বসলো ভারত ও পাকিস্তানে। ৬০ ওভার করে হওয়া বিশ্বকাপ সেবারই প্রথম বারের মতো নেমে আসলো ৫০ ওভারের খেলায়।

সেবার চ্যাম্পিয়ান হওয়ার গৌরব অর্জন করলো অস্ট্রেলিয়া। ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ৭ রানের ব্যাবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপ জেতার গৌরব অর্জন করে অজিরা। 

৯২ এর বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিলেও মূলত তখন থেকেই তাদের স্বর্ণযুগ শুরু। ১৯৯৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল জিতে ট্রফি নিজেদের করে নিতে না পারলেও রানার্স আপ হয়ে বিশ্বকাপ শেষ করে তারা। 

পরবর্তীতে টানা তিন বিশ্বকাপ জিতে হ্যাট্রিক শিরোপা জেতার গৌরব অর্জন করে দলটি। ১৯৯৯-২০০৭ পর্যন্ত তিন বিশ্বকাপ জেতা দলটি পরের বার ২০১১ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও ১৫ সালের বিশ্বকাপে আবারো শিরোপা জিতে নিজেদের ক্রিকেট বিশ্বে অন্যতম পরাশক্তি রূপে আবির্ভাব ঘটায়। 

বিশ্বকাপে দলীয় পারফরমেন্সঃ

সাল

ম্যাচ

জয়

পরাজয়

পরিত্যক্ত

অধিনায়ক

অবস্থান

১৯৭৫

০৫

০৩

০২

০০

অধিনায়কের নাম
 

/

১৯৭৯

০৩

০১

০২

০০

ইয়ান চ্যাপেল

/

১৯৮৩

০৬

০২

০৪

০০

কিম হিউজ

/

১৯৮৭

০৮

০৭

০১

০০

কিম হিউজ

/

১৯৯২

০৮

০৪

০৪

০০

     এলান বোর্ডার

/

১৯৯৬

০৭

০৫

০২

০০

এলান বোর্ডার

/১২

১৯৯৯

১০

০৭

০২

০১

মার্ক টেইলর

/১২

২০০৩

১১

১১

০০

০০

স্টিভ ওয়াহ

/১৪

২০০৭

১১

১১

০০

০০

         রিকি পন্টিং

/১৬

২০১১

০৭

০৪

০২

০১

রিকি পন্টিং

/১৪

২০১৫

০৯

০৭

০১

০১

রিকি পন্টিং

/১৪

সর্বমোট

৮৫

৬২

২০

/

মাইকেল ক্লার্ক 

 

বিশ্বকাপের দলীয় পরিসংখ্যান

সর্বোচ্চ রান

রিকি পন্টিং (১৭৪৩)

 

সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত রান

ডেভিড ওয়ার্নার (১৭৮)

 

সর্বোচ্চ দলীয় রান

৪১৭ (বিপক্ষ-আফগানিস্তান)

 

সর্বনিম্ন দলীয় রান

১২৯ (বিপক্ষ-ইন্ডিয়া)

 

সর্বোচ্চ পার্টনারশীপ

২৬০ (ওয়ার্নার-স্মিথ)

 

সবচেয়ে ভালো ব্যাটিং গড়

১০৩ (সিমন্ড)

 

সবচেয়ে বেশি উইকেট

৭১ (ম্যাকগ্রা)

 

বেস্ট বোলিং ফিগার

/১৫ (ম্যাকগ্রা)

 

সবচেয়ে বেশী ক্যাচ ধরেছেন

২৮টি (রিকি পন্টিং)

 

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন

রিকি পন্টিং (৪৬ ম্যাচ)

 

সবচেয়ে বেশি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন

রিকি পন্টিং (২৯ ম্যাচ)

 

 

২০১৯ বিশ্বকাপ যাত্রা এবং স্বপ্ন

২০১৯ বিশ্বকাপে টিম অস্ট্রেলিয়া:

বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার অনেক সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। টানা হ্যাট্রিক শিরোপা জেতা সহ এ পর্যন্ত মোট পাঁচটি বিশ্বকাপ জিতে সর্বোচ্চ এই ট্রফি জয়ের রেকর্ড অজিদের। বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসরেও দারুন সম্ভাবনাময় টিমগুলোর মধ্যে বেশ উপরের দিকেই আছে তারা। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলে ফেরা ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভ স্মিথরা যেকোন কিছুই ঘটাতে পারেন নিজেদের দিনে। এছাড়াও দলে রয়েছেন অ্যারন ফিঞ্চ, উসমান খাজারা। অভিজ্ঞতা আর তারুন্য মিলে দারুন ভারসাম্যপূর্ণ এবারের অস্ট্রেলিয়া। ওয়ার্নার-ম্যাক্সিরা নিশ্চই চাইবে ট্রফি জয়ের শেষ হাসিটা হাসতে। 

বিশ্বকাপ স্কোয়াডঃ


অ্যারন ফিঞ্চ, এ্যালেক্স চারি, প্যাট কামিন্স, নাথান লায়োন, স্টিভ স্মিথ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মারকুস স্টোনিস, অ্যাডাম জাম্পা, জেসন বেহরনড্রগ, নাথান কাউন্টার-নিল, উসমাস খাজা, শন মার্শ, কেন রিচার্ডসন, মিচেল স্টার্ক, ডেভিড ওয়ার্নার।

সাধারণ তথ্য

পৃষ্ঠপোষক অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড
টেস্ট অধিনায়ক টিম পেইন
ওডিআই অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ
টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ
কোচ জাস্টিন লাঙ্গার

আইসিসি র‍্যাঙ্কিং

 

ফরম্যাট

বর্তমান

সর্বোচ্চ অর্জন

টেস্ট

০৫

০১

ওডিআই

০৫

০১

টি-টোয়েন্টি

০৪

০২

ইতিহাস

আইসিসি স্ট্যাটাস

 

 

১৯০৯ সাল

টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জন

 

 

১৮৭৭ সাল

প্রথম টেস্ট

 

 

ইংল্যান্ড (১৫ মার্চ, ১৮৭৭)

প্রথম ওডিআই

 

 

ইংল্যান্ড  ( জানুয়ারী, ১৯৭১)

প্রথম টি-টোয়েন্টি

 

 

নিউজিল্যান্ড (১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০০৫)

জয়-পরাজয় পরিসংখ্যান

 ফরম্যাট

ম্যাচ

জয়

পরাজয়

ড্র/পরিত্যাক্ত

টেস্ট

৮২০

৩৮৬

২২২

২১০/  

ওডিআই

৯৩২

৫৬৬

৩২৩

/৩৪

টি-টোয়েন্টি

১১৬

৬০

৫২

০২/০২

বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ

 

  ফরম্যাট

সংখ্যা

 

সর্বোচ্চ অর্জন

আইসিসি বিশ্বকাপ

১১ বার

 

রানার্স আপ-১৯৭৫,১৯৯৬

চ্যাম্পিয়ান-১৯৮৭, ১৯৯৯, ২০০৩, ২০০৭,২০১৫

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

বার

 

সেমিফাইনাল-২০০৭,২০১২

রানার্স আপ- ২০১০

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি

বার

 

সেমিফাইনাল- ২০০২,২০০৪

চ্যাম্পিয়ান-২০০৬,২০০৯

শিরোনাম: