Daily Bangladesh :: ডেইলি বাংলাদেশ

ঢাকা, সোমবার   ২৪ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১০ ১৪২৬,   ১৯ শাওয়াল ১৪৪০

শ্রীলংকা

#

ছবি: শ্রীলংকা ক্রিকেট দল

উপমহাদেশের যে কয়টা জনপ্রিয় ও ক্লিন ইমেজের দল রয়েছে তাদের মধ্যে শ্রীলংকা একটি। এক সময় ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি হলেও বর্তমানে তাদের আগের সেই সিংহের গর্জন খুব একটা দেখতে পাওয়া যায় না। শ্রীলংকা ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শীলংকার প্রতিনিধিত্ব করে। তারা আইসিসির টেষ্ট, ওয়ানডে ও টি-২০ মর্যাদা প্রাপ্ত স্থায়ী সদস্য দেশগুলোর অন্তর্ভুক্ত। দলটি শ্রীলংকান ক্রিকেট বোর্ড দ্বারা পরিচালিত।

দীর্ঘ পথচলা (ইতিহাস)

শ্রীলংকা জাতীয় ক্রিকেট দল ১৮৩২ সালে কলম্বো ক্রিকেট ক্লাব গঠনের সঙ্গে শুরু হয়।  ১৯৭২ সালের আগে শ্রীলংকা সিলন নামে পরিচিত ছিল। ১৮৮০ সালে সিলন জাতীয় ক্রিকেট দল গঠন করা হয়, যার মধ্যদিয়ে তারা ১৯২০-এর দশকে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলতে শুরু করে। সিলন জাতীয় ক্রিকেট দল ১৯৬৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সহযোগী সদস্য পদ লাভ করে।

১৯৭২ সালে সিলন নাম পরিবর্তন করে শ্রীলংকা করা হয় । তিন বছর পর ১৯৭৫ সালে শ্রীলংকা ক্রিকেট দল আইসিসির বড় কোন ইভেন্টে অংশগ্রহন করে। ১৯৭৫ সালে ক্রিকেট বিশ্বকাপে শ্রীলংকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলতে নামে। ইংল্যান্ডের ওল্ড ট্রাফোর্ডের ম্যাচটি তারা হেরেছিল ৯ উইকেটে।

১৯৮১ সালের ২১ জুলাই ইতিহাসের অষ্ঠম দল হিসাবে শ্রীলংকা আইসিসির টেষ্ট মর্যাদা লাভ করে। পরবর্তী প্রায় ৪ বছর জয় অধরা ছিল তাদের। ১৯৮৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেষ্টে জয় পায় তারা। কলম্বোর পাইকিয়াসোথী সার্বভৌমুটু স্টেডিয়ামে হওয়া ম্যাচে তারা জিতেছিল ১৪৯ রানে।

শ্রীলংকার প্রথম ওয়ানডে জয় ভারতের বিপক্ষে, ১৯৭৯ সালের ১৬ জুন। তারা ১৯৯৬ সালে বিশ্বকাপের মুকুট নিজেদের করে নেয়। ২০০২ সালে তারা আইসিসি চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মর্যাদা লাভ করে। ২০১৪ সালের আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট উঠে তাদের মাথায়।

বিগত বিশ্বকাপ গুলোতে শ্রীলংকা

শ্রীলংকার বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু ১৯৭৫ সালে, বিশ্বকাপের প্রথম সংস্করণ থেকে। অভিষেকে দলটি অনুরা তেন্নকুন এর নেতৃত্বে ৮ দলের মধ্যে ৭ম স্থান নিয়ে  টুর্নামেন্ট শেষ করে। সেবার পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে কোন জয়ের দেখা পায়নি তারা।

এরপর ১৯৯২ সাল পর্যন্ত টানা ৫ বিশ্বকাপ থেকে প্রথম রাউন্ডেই বাদ পড়ে দলটি। এই ৫ বছরে সর্বোচ্চ সাফল্য ছিল ৮ দলের মধ্যে ৫ম স্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করা।

তারপরই যেন পুনর্জন্ম ঘটে শ্রীলংকা ক্রিকেট দলের। ১৯৯৬ সালে পাকিস্তান-ভারত ও নিজ দেশে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ৬ষ্ঠ আসরে অর্জুনা রানাতুঙ্গার নেতৃত্বে প্রথম বিশ্বকাপ জেতার গৌরব অর্জন করে দলটি। সেবার লাহোরের গাদ্দাফি ষ্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয় করে লংকানরা।

১৯৯৯ বিশ্বকাপে আবারো পতন ঘটে দলটির। আগের বিশ্বকাপে শিরোপা জিতলেও এবার প্রথম রাউন্ড থেকেই বাদ পড়ে দলটি। ১২ দলের মধ্যে দশম স্থানে থেকে বিশ্বকাপের মিশন শেষ করে তারা।

পরবর্তীতে ২০০৩ বিশ্বকাপে সেমিতে উত্তীরর্ণ হয় লংকানরা। তবে শিরোপা পর্যন্ত পৌঁছানো হয়নি। সেমি ফাইনালে হেরে বাদ পড়তে হয় তাদের।

এরপর ২০০৭ ও ২০১১ বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলা হলেও শিরোপার দেখা আর পাওয়া হয়নি দলটির। দু’বারই ফাইনালে হারতে হয়েছে লংকানদের।

বিশ্বকাপে লংকানদের দলীয় পারফরমেন্সঃ

সাল

ম্যাচ

জয়

পরাজয়

পরিত্যক্ত

অধিনায়ক

অবস্থান

১৯৭৫

০৩

০০

০৩

০০

অনুরা তেন্নকুন

/

১৯৭৯

০৩

০১

০১

০০

অনুরা তেন্নকুন

/

১৯৮৩

০৬

০১

০৫

০০

দিলীপ মেন্ডিস

/

১৯৮৭

০৬

০০

০৬

০০

দিলীপ মেন্ডিস

/

১৯৯২

০৮

০২

০৫

০১

অরবিন্দ ডি সিলভা

/

১৯৯৬

০৮

০৮

০০

০০

অর্জুন রানাতুঙ্গা

/

১৯৯৯

০৫

০২

০৩

০০

অর্জুন রানাতুঙ্গা

১০/১২

২০০৩

০৬

০০

০৫

০১

সনাত জয়াসুরিয়া

/১৪

২০০৭

১২

০৯

০৩

০০

মাহেলা জয়াবর্ধনে

/১৬

২০১১

০৯

০৬

০২

০১

কুমার সাঙ্গাকারা

/১৪

২০১৫

০৭

০৩

০৩

০১

এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুউস

/১৪

সর্বমোট

৬৩

২৯

৩১

০২/০১

   

বিশ্বকাপের দলীয় পরিসংখ্যান

বিভাগ

পরিসংখ্যা

সর্বোচ্চ রান

১,৫৩২ (কুমারা সাঙ্গাকারা)

সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত রান

১৬১* (দিলশান)

সর্বোচ্চ দলীয় রান

৩৯৮/৫ (বিপক্ষ কেনিয়া)

সর্বনিম্ন দলীয় রান

৮৬ (বিপক্ষ উইন্ডিজ)

সর্বোচ্চ পার্টনারশীপ

২৮২ (শানদিল-থারাঙ্গা)

সবচেয়ে ভালো ব্যাটিং গড়

৫৬.৭৪ (সাঙ্গাকারা)

সবচেয়ে বেশি উইকেট

৬৮ (মুরালিধরন)

বেস্ট বোলিং ফিগার

৬/২৫ (চামিন্দা ভাস)

সবচেয়ে বেশী ক্যাচ ধরেন

১৮ টি (জয়াসুরিয়া)

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ

জয়াবর্ধনে - ৪০টি

সবচেয়ে বেশি ম্যাচে অধিনায়কত্ব

মেন্ডিস ১২ ম্যাচ

 

২০১৯ বিশ্বকাপ যাত্রা এবং স্বপ্ন

২০১৯ বিশ্বকাপে টিম শ্রীলংকা:
৯৬ এর বিশ্বকাপজয়ী দলটির সম্ভাবনা এবার খুবই ক্ষীণ। মাহেলা-সাঙ্গাকারা সহ অভিজ্ঞ কিছু খেলোয়াড়ের অবসরের পর থেকে দলটি সেভাবে সাফল্যের মুখ দেখতে পারেনি। সাম্প্রতিক পারফরমেন্সেও তেমন আশা জাগানিয়া নয়। সর্বশেষ ১৫ ওয়ানডের মাত্র ২ টিতে জয়লাভ করেছে তারা। বাকি ১৩ টি ম্যাচে হারতে হয়েছে। তবুও অভিজ্ঞতা আর তারুন্যের দারুন মিশেলে ভাল কিছুই করতে চাইবে হাতুড়ুসিংয়ের শিষ্যরা। 

শ্রীলংকা বিশ্বকাপ স্কোয়াডঃ


দিমুথ করুনারত্নে (অধিনায়ক), লাসিথ মালিঙ্গা, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, থিসারা পেরেরা, কুশাল পেরেরা, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, কুশাল মেন্ডিস, ইসুরু উদানা, মিলিন্দা সিরিবর্ধনে, অভিশকা ফের্নান্দো, জীভান মেন্ডিস, লাহিরু থিরিমান্নে, জেফরি ভ্যান্ডারসে, নুয়ান প্রদীপ, সুরঙ্গা লাকমাল।



 

সাধারণ তথ্য

পৃষ্ঠপোষক শ্রীলংকা ক্রিকেট
টেস্ট অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে
ওডিআই অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে
টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক লাসিথ মালিঙ্গা
কোচ চন্ডিকা হাতুড়ুসিং

আইসিসি র‍্যাঙ্কিং

 

ফরম্যাট

বর্তমান

সর্বোচ্চ অর্জন

টেস্ট

৬ষ্ঠ

২য়

ওডিআই

৯ম

২য়

টি- টোয়েন্টি

৮ম

১ম

ইতিহাস

ফরম্যাট

যেখান থেকে শুরু

আইসিসি স্ট্যাটাস

অ্যাসোসিয়েট মেম্বার-১৯৬৫

পূর্ণ সদস্য - ১৯৮১

টেস্ট স্ট্যাটাস

১৯৮২ সাল

প্রথম টেস্ট

বিপক্ষ ইংল্যান্ড-১৭,০২, ১৯৮২

প্রথম ওয়ানডে

বিপক্ষ উইন্ডিজ-০৭,০৬,১৯৭৫

প্রথম টি- টোয়েন্টি

ইংল্যান্ড – ১৫,০৬,২০০৬

 

জয়-পরাজয় পরিসংখ্যান

 

ফরম্যাট

ম্যাচ

জয়

পরাজয়

ড্র/পরিত্যাক্ত

টেস্ট

২৮৩

৯০

১০৭

৮৬

ওডিআই

৮৩৭

৩৮০

৪১৫

/৩৭

টি- টোয়েন্টি

১১৪

৫৫

৫৬

০২/০১

বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ

নাম

সংখ্যা

সর্বোচ্চ অর্জন

আইসিসি বিশ্বকাপ

১১ বার

সেমি ফাইনাল-২০০৩,

রানার্সআপ- ২০১১, ২০০৭

চ্যাম্পিয়ন - ১৯৬৫

আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ

০৬ বার

সেমি ফাইনাল - ২০১০

রানার্সআপ-২০১২,২০০৯

চ্যাম্পিয়ন - ২০১৪

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি

৭ বার

সেমি ফাইনাল-১৯৯৮, ২০১৩

এশিয়া কাপ

১৩ বার

চ্যাম্পিয়ন – ২০০৮, ২০০৪, ১৯৯৭, ১৯৮৬, ২০১৪

শিরোনাম: