Daily Bangladesh :: ডেইলি বাংলাদেশ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৪ ১৪২৬,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

পাকিস্তান

#

ছবি: পাকিস্তান ক্রিকেট দল

এই উপমহাদেশের অন্যতম শক্তিশালী দল ছিল পাকিস্তান। নিজেদের অভ্যন্তরিন কোন্দল, ক্রিকেটে সন্ত্রাসী হামলা আর আইসিসির নিষেধাজ্ঞার কারণে পাকিস্তানের আগের সেই অবস্থান আর নেই। ক্রিকেটে পাকিস্থান জাতীয় ক্রিকেট দল “শহিদ” “ম্যান ইন গ্রীন” এবং “সবুজ শার্ট” নামে পরিচিত। তারা পাকিস্থান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) দ্বারা পরিচালিত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পিসিবির অধিনে এই দলটি পাকিস্থানের প্রতিনিধিত্ব করে।  দলটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) পূর্ণ সদস্য। এই দল টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচগুলিতে অংশগ্রহণ করে। 

দীর্ঘ পথচলা (ইতিহাস)

স্বাধীনতার পাঁচ বছর পর ১৯৫২ সালে টেস্ট আঙিনায় পা রাখে পাকিস্তান। নিজেদের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট খেলতে তখন ভারত সফরে যায় তারা। ৬৭ বছরের ইতিহাসে সপ্তম দল হিসেবে ৪০০ তম টেস্ট খেলার মাইলফলক ছোয় দেশটি। এর আগে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই কীর্তি গড়েছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্থানের শুরুটা ভাল না হলেও দেখতে দেখতে তারা নিজেদের একটি শক্তিশালী দলে পরিনত করেছে। 

আজ থেকে ৬৭ বছর আগে ভারতের মাটিতে দিল্লি টেস্ট দিয়ে দীর্ঘ ফরম্যাটের ক্রিকেটে পাকিস্তানের যাত্রা শুরু হয়। পাকিস্তানের প্রথম টেস্টের ওপেনার হানিফ মোহাম্মদ দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসের কিংবদন্তি তারকায় পরিণত হন। তবে ইতিহাসের প্রথম টেস্টের ফলাফল পাকিস্তানের জন্য মোটেও সুখকর হয়নি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে ইনিংস ও ৭০ রানে পরাজিত হয় পাক শিবির।

টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার পর প্রথম সিরিজ জয়ের জন্য বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি পাকিস্তানকে। তিন বছর পর ১৯৫৫ সালে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে টেস্ট সিরিজে পরাজিত করে প্রথম সিরিজ জয়ের স্বাদ পায় পাকিস্তান।

বিদেশের মাটিতে প্রথম সিরিজ জয়ের জন্য পাকিস্তানকে ২০ বছর অপেক্ষা করতে হয়। ১৯৭২ সালে নিউজিল্যান্ডকে তাদেরই মাটিতে তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত করে টিম পাকিস্তান।

ওয়ানডে ক্রিকেটে পাকিস্তানের অভিষেক হয় ১৯৭২ সালে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে অভিষেকের স্মৃতি সুখকর ছিলনা। নিজেদের মাটিতে সে ম্যাচটি নিউজিল্যান্ড জিতে নিয়েছিল ২২ রানের ব্যবধানে। তাদের প্রথম জয় আসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯৭৪ সালে। 

বিগত বিশ্বকাপ গুলোতে পাকিস্তান

পাকিস্তানের বিশ্বকাপযাত্রা শুরু হয় আয়োজনের শুরু থেকেই। ১৯৭৫ সালে প্রথম বিশ্বকাপে তাদের অভিষেক ঘটে। অভিষেক বিশ্বকাপ তেমন স্মরনীয় করে রাখতে পারেনি তারা। সেবার ৮ দলের মধ্যে ৫ম স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করে পাকিস্তান।

তারপরই যেন ঘুরে দাঁড়ায় তারা। পরবর্তীতে ৪ বিশ্বকাপের ৩ টিতে সেমিফাইনাল খেলার পাশাপাশি ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে টিম পাকিস্তান। সেবার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২২ রানে হারিয়ে ট্রফি খড়া কাটায় পাকরা।

১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত গেলেও ১৯৯৯ বিশ্বকাপে রানারআপ হয় তারা। সেবার অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৮ উইকেটের ব্যাবধানে হেরে যায়।

২০০৩ আর ২০০৭ বিশ্বকাপ পাকিস্তানের জন্য এক হতাশার অধ্যায়। সেবার প্রথমরাউন্ড থেকেই বাদ পড়তে হয় তাদের।এরপর ২০১১ তে সেমিফাইনাল খেললেও কাপ জেতা হয়নি দলটির।

দলীয় পারফরমেন্সঃ

সাল

ম্যাচ

জয়

পরাজয়

পরিত্যক্ত

অধিনায়ক

অবস্থান

১৯৭৫

০৩

০১

০২

০০

আসিফ ইকবাল

/

১৯৭৯

০৪

০২

০২

০০

আসিফ ইকবাল

/

১৯৮৩

০৭

০৩

০৪

০০

ইমরান খান

/

১৯৮৭

০৭

০৫

০২

০০

     ইমরান খান     

/

১৯৯২

১০

০৬

০৩

০১

ইমরান খান

/

১৯৯৬

০৬

০৪

০২

০০

 ওয়াসিম আকরাম

/১২

১৯৯৯

১০

০৬

০৪

০০

ওয়াসিম আকরাম

/১২

২০০৩

০৬

০২

০৩

০১

ওয়াকার ইউ্নুস

১০/১৪

২০০৭

০৩

০১

০২

০০

ইনজামাম উল হক

১০/১৬

২০১১

০৮

০৬

০২

০০

শহিদ আফ্রিদি

/১৪

২০১৫

০৭

০৪

০৩

০০

মিসবাহ উল হক

/১৪

সর্বমোট

৭১

৪০

২৯

০২

   

বিশ্বকাপের দলীয় পরিসংখ্যান

 

সর্বোচ্চ রান

 ১,০৮৩ (জাবেদ মিয়াদাদ)

 

সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত রান

 ১৬০ (ইমরান নাজির)

 

সর্বোচ্চ দলীয় রান

 ৩৪৯ (বিপক্ষ-জিম্বাবুয়ে)

 

সর্বনিম্ন দলীয় রান

 ৭৪ (বিপক্ষ-ইংল্যান্ড)

 

সর্বোচ্চ পার্টনারশীপ

 ১৯৪ (সাঈদ আনোয়ার-ওয়াজাহাতুল্লাহ ওয়াস্তি)

 

সবচেয়ে ভালো ব্যাটিং গড়

 ৫৩.৮৪ (রমিজ রাজা)

 

সবচেয়ে বেশি উইকেট

 ৫৫ (ওয়াসিম আকরাম)

 

বেস্ট বোলিং ফিগার

 ৫/১৬ (শহিদ আফ্রিদি)

 

সবচেয়ে বেশী ক্যাচ ধরেছেন

 ১৬টি (ইনজামামুল হক)

 

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন

 ওয়াসিম আকরাম (৩৮টি)

 

সবচেয়ে বেশি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন

 ইমরান খান (২২ ম্যাচ)

 

২০১৯ বিশ্বকাপ যাত্রা এবং স্বপ্ন

বিশ্বকাপে টিম পাকিস্তান

১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলটি এবার দারুণ সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে যাচ্ছে। যদিও সাম্প্রতিক দলীয় পারফরমেন্স তাদের সম্ভাবনা নিয়ে অনেকটা ভাবাচ্ছে। সর্বশেষ খেলা ১০ ওয়ানডের একটিতেও জয়ের দেখা পায়নি পাকিরা। অনেক ক্রিকেট গবেষকও এবার তাদের ভাল করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তবুও অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের দারুন মিশেলে পাকিস্তান এই বিশ্বকাপে একটি সম্ভাবনাময় দল বলা যায়।

পাকিস্তান স্কোয়াড

সরফরাজ আহমেদ (অধিনায়ক), ফখর জামান, ইমাম-উল-হক, বাবর আজম, শোয়েব মালিক, মোহাম্মদ হাফিজ, আসিফ আলী, সাদাব খান, ইমাদ ওয়াসিম, হ্যারিস সোহেল, হাসান আলী, শাহীন আফ্রিদি, মোহাম্মদ আমির, ওয়াহাব রিয়াজ, মোহাম্মদ হাসনাইন।

ভিডিও...

 

 

 

সাধারণ তথ্য

পৃষ্ঠপোষক পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)
টেস্ট অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ
ওডিআই অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ
টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ
কোচ মিকি আর্থার

আইসিসি র‍্যাঙ্কিং

 

 

বর্তমান

সর্বোচ্চ অর্জন

টেস্ট

৭ম

১ম

ওডিআই

৬ষ্ঠ

১ম

টি-টোয়েন্টি

১ম

১ম

ইতিহাস

 

আইসিসি স্ট্যাটাস

পূর্ণ সদস্য (১৯৫২)

টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জন

 ১৯৫২ সাল

প্রথম টেস্ট

ভারত, ১৬ অক্টোবর ১৯৫২

প্রথম ওডিআই

নিউজিল্যান্ড, ১১ ফেব্রুয়ারী ১৯৭৩

প্রথম টি-২০

ইংল্যান্ড, ২৮ আগষ্ট ২০০৬

জয়-পরাজয় পরিসংখ্যান

 

 

ম্যাচ

জয়

পরাজয় 

 ড্র/পরিত্যক্ত 

টেস্ট

৪২৩ 

 ১৩৬  

১২৮

১৫৯

ওডিআই

৯১৭

৪৮৯

৪১০

/২০

টি-টোয়েন্টি 

১৪৩

৯০

৫০

০৩

বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ

 

 

সংখ্যা

সর্বোচ্চ অর্জন

আইসিসি বিশ্বকাপ

১১ বার

সেমিফাইনাল (১৯৭৯, ১৯৮৩, ১৯৮৭, ২০১১) চ্যাম্পিয়ান (১৯৯২)

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

বার

সেমিফাইনাল (২০১০, ২০১২) রানার্স আপ (২০০৭) চ্যাম্পিয়ান (২০০৯)

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি

বার

সেমিফাইনাল (২০০০, ২০০৪, ২০০৯) চ্যাম্পিয়ান (২০১৭)

এশিয়া কাপ

১৩ বার

রানার্স আপ (১৯৮৬, ২০১৪) চ্যাম্পিয়ান (২০০০, ২০১২)

 

 

শিরোনাম: