Daily Bangladesh :: ডেইলি বাংলাদেশ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৪ ১৪২৬,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

ভারত

#

ছবি: ভারত ক্রিকেট দল

ক্রিকেটে এই উপমহাদেশের অন্যতম শক্তিশালী দল হলো ভারত। ভারতীয় ক্রিকেট দল “টিম ইন্ডিয়া” এবং “ম্যান ইন ব্লু” নামে পরিচিত। ভারত আইসিসির টেষ্ট, ওয়ানডে ও টি২০ আন্তর্জাতিক মর্যাদাপ্রাপ্ত স্থায়ী সদস্য দেশগুলোর অন্তর্ভুক্ত। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) দ্বারা এই দল পরিচালিত। 

দীর্ঘ পথচলা (ইতিহাস)

ইউরোপীয় ব্যাবসায়ী নাবিকরা ১৮ শতকে ভারতবর্ষে  ক্রিকেট খেলার প্রচলন শুরু করেন। ১৭৭২ সালে কলকাতায় প্রথম ক্রিকেট ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৩২ সালের ২৫ জুন ষষ্ঠ টেষ্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে ভারত টেষ্ট ম্যাচে নাম লেখায়। 

টেষ্ট মর্যাদা পাওয়ার প্রথম পঞ্চাশ বছর ভারত অন্যান্য দুর্বল দলগুলির একটি ছিল। টেষ্ট মর্যাদা পাওয়ার প্রথম ২০ বছরে ভারত কোন ম্যাচই জয়লাভ করতে পারেনি। তাদের প্রথম টেষ্ট জয় আসে ১৯৫২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। সে সময় ১৯৬ টি টেষ্ট ম্যাচ খেলে জয়লাভ করেছিল মাত্র ৩৫ ম্যাচে ।

পরবর্তীতে ১৯৭০ সালের দিকে ব্যাটম্যান সুনিল গাভাস্কার ও গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথ, অল-রাউন্ডার কপিল দেব এবং স্পিনার ইরাপালি প্রসন্ন, শ্রীনিবাস ভেঙ্কটরাঘবন, ভাগাওয়াত চন্দ্রশেখর এবং বিশেন সিং এর মত খেলোয়াড় পাওয়ার মধ্যে দিয়ে ভারত এই উপমহাদেশ সহ বিশ্বে শক্তিশালী দলে পরিনত হয়।প্রতিটা দেশ তাদের নিজেদের মাটিতে স্বাভাবিকভাবেই বেশি শক্তিশালী। ভারত দেশের মাটি ছাড়িয়ে বিদেশেও নিজেদের শক্তিশালী প্রমাণ করেছে। বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে। তারা দেশের বাইরে টেষ্ট ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং দক্ষিন আফ্রিকার মত দলগুলোকে হারিয়েছে। 

১৯৮৩ সালে কপিল দেব এবং ২০১১ সালে মাহেন্দ্র সিং ধোনীর নেতৃত্বে ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট নিজেদের করে নেয়। এছাড়া ধোনির অধিনে ২০০৭ সালে টি ২০ বিশ্বকাপ ট্রফি এবং ২০১৩ সালে আইসিসি ট্রফি জয় করে।
 

বিগত বিশ্বকাপ গুলোতে ভারত

১৯৭৫ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রতিটা বিশ্বকাপেই অংশগ্রহন করেছে টিম ইন্ডিয়া। এ পর্যন্ত ১৩ টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহন করে তারা ২ বার চ্যাম্পিয়ান হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ভারত প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি জেতে ১৯৮৩ সালে। কপিল দেব এর নেতৃত্বাধীন ভারত সেবার উইন্ডিজের মত শক্তিশালী  দলকে হারিয়ে ফাইনালে  ট্রফি জেতে।

 পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে বিশ্বকাপে ভারত সেমিফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারলেও, ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ড থেকে বাদ পড়ে। সেবার ৯ দলের মধ্যে ৭ম অবস্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করে ভারত। পরে ১৯৯৬ বিশ্বকাপে আবারও সেমিফাইনালে গিয়ে হারতে হয় দলটিকে। ফলে পর পর বিশ্বকাপের ৬ আসরে ট্রফি খড়ায় থাকে দলটি। 

৬ টি বিশ্বকাপে ট্রফি খড়া কাটিয়ে লাকি সেভেনে এসে ২০১১ সালে আরেকট্রি ট্রফি অর্জন করে। সেবার বাংলাদেশ-শ্রীলংকা-ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালে শ্রীলংকাকে হারিয়ে ট্রফি জেতে দলটি। ২০১৫ বিশ্বকাপে অবশ্য সেমি-ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয় তাদের।

দলীয় পারফরমেন্সঃ

সাল

ম্যাচ

জয়

পরাজয়

পরিত্যক্ত

অধিনায়ক

অবস্থান

১৯৭৫

০৩

০১

০২

০০

 ভেঙ্কটরাঘবন

/

১৯৭৯

০৩

০০

০৩

০০

ভেঙ্কটরাঘবন

/

১৯৮৩

০৮

০৬

০২

০০

কপিল দেব

/

১৯৮৭

০৭

০৫

০২

০০

 কপিল দেব

/

১৯৯২

০৮

০২

০৫

০১

 আজহার উদ্দিন

/

১৯৯৬

০৭

০৪

০৩

০০

 আজহার উদ্দিন

/১২

১৯৯৯

০৮

০৪

০৪

০০

 আজহার উদ্দিন

/১২

২০০৩

১১

০৯

০২

০০

সৌরভ গাঙ্গুলী

/১৪

২০০৭

০৩

০১

০২

০০

  রাহুল দ্রাবিড়

১০/১৬

২০১১

০৯

০৭

০১

০১

 এম এস ধোনী

/১৪

২০১৫

০৮

০৭

০১

০০

এম এস ধোনী

/১৪

সর্বমোট

৭৫

৪৬

২৭

/

   

বিশ্বকাপের দলীয় পরিসংখ্যান

সর্বোচ্চ রান                                                ২২৭৮ (টেন্ডুলকার)      
সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত রান                                 ১৮৩ (সৌরভ গাঙ্গুলী)     
সর্বোচ্চ দলীয় রান                                       ৪১৩ (বিপক্ষ-বারমুডা)     
সর্বনিম্ন দলীয় রান                                       ১২৫ (বিপক্ষ-অস্ট্রেলিয়া)     
সর্বোচ্চ পার্টনারশীপ                                    ৩১৮ (সৌরভ গাঙ্গুলী-রাহুল দ্রাবিদ)     
সবচেয়ে ভালো ব্যাটিং গড়                           ৬১.৬২ (রাহুল দ্রাবিদ)     
সবচেয়ে বেশি উইকেট                                ৪৪ (জহির খান)     
বেস্ট বোলিং ফিগার                                     ৬/২৩ (আশিষ নেহরা)     
সবচেয়ে বেশী ক্যাচ ধরেছেন                        ১৪টি (অনিল কুম্বলে)     
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন       টেন্ডুলকার (৪৫টি)     
সবচেয়ে বেশি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন    আজহার উদ্দিন (২৩  ম্যাচ)
    

২০১৯ বিশ্বকাপ যাত্রা এবং স্বপ্ন

বিশ্বকাপে টিম ইন্ডিয়া

এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম ফেভারিট ধরা হচ্ছে ভারতকে। ভিরাট কোহলীর নেতৃত্বাধীন দলে রয়েছে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের দারুন মিশেল। ভিরাট কোহলী ছাড়াও দলে রয়েছেন ধোনী, রোহিত শর্মা ও শামীর মতো পরীক্ষিত পারফরমাররা। এমন শক্তিশালী দল নিয়ে শিরোপার আশা করতেই পারে টিম ইন্ডিয়া।

বিশ্বকাপ স্কোয়াড:

বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, লোকেশ রাহুল, বিজয় শংকর, মাহেন্দ্র সিং ধোনি, কেদার যাদব, দিনেশ কার্তিক, যুজভেন্দ্র চাহাল, কুলদীপ যাদব, ভূবনেশ্বর কুমার, জসপ্রিত বুমরাহ, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা ও মোহাম্মদ শামি।

 

সাধারণ তথ্য

পৃষ্ঠপোষক ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই)
টেস্ট অধিনায়ক ভিরাট কোহলি
ওডিআই অধিনায়ক ভিরাট কোহলি
টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক ভিরাট কোহলি
কোচ রবী শাস্ত্রী

আইসিসি র‍্যাঙ্কিং

 

ফরম্যাট বর্তমান     সর্বোচ্চ অর্জন 

টেস্ট

    ০১

  ০১

ওডিআই

 ০২

০১

টি-টুয়েন্টি

০৫  

০১

ইতিহাস

 

 

আইসিসি স্ট্যাটাস

পূর্ণ সদস্য  (১৯২৬)

টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জন

 ১৯৩২ সাল

প্রথম টেস্ট

ইংল্যান্ড (২৮ জুন ১৯৩২)

প্রথম টেস্ট জয়

ইংল্যান্ড ( ফেব্রুয়ারী ১৯৫২)

প্রথম ওডিআই

ইংল্যান্ড  (১৩ জুলাই ১৯৭৪)

প্রথম ওডিআই জয়

পূর্ব আফ্রিকা,(১১ জুন ১৯৭৫)

প্রথম টি-টুয়েন্টি

দক্ষিন আফ্রিকা ( ডিসেম্বর ২০০৬)

প্রথম টি-টুয়েন্টি জয়

দক্ষিন আফ্রিকা ( ডিসেম্বর ২০০৬)

               

জয়-পরাজয় পরিসংখ্যান

 

  ম্যাচ জয় পরাজয় ড্র/পরিত্যাক্ত

টেস্ট

৫৩৩

১৫০

১৬৫

২১৭/  

ওডিআই

৯৬৬

৫০০

৪১৭

/৪০

টি- টুয়েন্টি

১১৫

৭১

৪১

০৩/০

বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ

 

 

সংখ্যা

 সর্বোচ্চ অর্জন

আইসিসি বিশ্বকাপ

১১ বার

সেমি ফাইনাল (১৯৮৭, ১৯৯৬, ২০১৫) রানার আপ( ২০০৩) চ্যাম্পিয়ান (১৯৮৩, ২০১১)

আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ

বার

রানার আপ (২০১৪), সেমি ফাইনাল (২০১৬), চ্যাম্পিয়ান (২০০৭)

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি

বার

সেমিফাইনাল (১৯৯৮), রানার আপ (২০০০, ২০১৭),

চ্যাম্পিয়ান (২০১৩)

এশিয়া কাপ

১৪ বার

রানার্স আপ(১৯৯৭, ২০০৪, ২০০৮), চ্যাম্পিয়ান (১৯৮৪, ১৯৮৮, ১৯৯১,১৯৯৫, ২০১০২০১৬, ২০১৮)

 

শিরোনাম: