Daily Bangladesh :: ডেইলি বাংলাদেশ

ঢাকা, সোমবার   ২৪ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১০ ১৪২৬,   ১৯ শাওয়াল ১৪৪০

বাংলাদেশ

#

ছবি: বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

এই উপমহাদশে ‍ক্রিকেট শক্তির দিক দিয়ে ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। দেশটির ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। তারা বেঙ্গল টাইগার নামেও পরিচিত। দলটি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দ্বারা পরিচালিত। দেশটি আইসিসি'র টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিক মর্যাদা প্রাপ্ত স্থায়ী সদস্য দেশগুলোর অন্তর্ভুক্ত। ইতিপূর্বে আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে খেলে দল হিসেবে তাদের সামর্থের জানান দিয়েছে বহুবার।  

দীর্ঘ পথচলা (ইতিহাস)

আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে যাত্রা শুরু হয় ১৯৭২ সালে। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে নিজস্ব ক্রিকেট খেলা আয়োজনের ব্যবস্থা গড়ে উঠে। এ সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৪-৭৫ মৌসুমে জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা শুরু হয় বাংলাদেশে। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আত্মপ্রকাশ ঘটে। সেবার ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে আবির্ভাব হয় নতুন এক নক্ষত্র বাংলাদেশের।

এরপর ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ প্রথম একদিনের ম্যাচ খেলে এবং ১৯৯৭ সালে কেনিয়াকে শেষ বলে হারিয়ে আইসিসি ট্রফি জেতার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

বিশ্বকাপে পাকিস্তান এবং স্কটল্যান্ডকে পরাজিত করে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দেয় বাংলাদেশ। পরের বছরেই টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে আবির্ভাব হয় বাংলাদেশের। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ মর্যাদার খেলা টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ ছিলো ভারত।

ইতিমধ্যে দেশটি বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বে অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ২০১৫ সালে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল, তারপর পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ, ভারত এবং সাউথ আফ্রিকাকে সিরিজ হারানোর মতো সাফল্যে উজ্জল করে জ্বলবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে। 

বিগত বিশ্বকাপ গুলোতে বাংলাদেশ

১৯৯৯ সালে প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে এসেই বাংলাদেশ সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান কে হারিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে হইচই ফেলে দেয়। এছাড়াও স্কটল্যান্ডকেও হারায়। মোট ৫ ম্যাচ খেলে ২টি তে জয়লাভ করে বাংলার টাইগাররা। ১ম পর্বেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ শেষ হলেও ১২ দলে বাংলাদেশ ৯ম স্থান নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করে।

এরপর ২০০৩ বিশ্বকাপ। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে বিশ্বকাপ আসর ছিল আফ্রিকা, কেনিয়া ও জিম্বাবুয়েতে। ৬ ম্যাচ খেলে ৫টিতেই হারে টাইগাররা, অন্যটি পরিত্যক্ত হয়েছে। প্রাপ্তির খাতা শূন্য থাকা এই টুর্নামেন্টে ১৪ দলের মধ্যে ১৩ তম হয়েই টুর্নামেন্ট শেষ করে সেবার ।

পরবর্তী ২০০৭, বিশ্বকাপের ৯ম আসর। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল বিশ্বকাপ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বীপপুঞ্জে অনুষ্ঠিত হওয়া এই বিশ্বকাপ। এখন পর্যন্ত ক্রিকেট বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচাইতে বেশি দল অংশগ্রহণ করে ঐ বিশ্বকাপে। ১৬ দলের টুর্নামেন্টে ৪টি করে দল ৪ ভাগে ভাগ হয়ে খেলে। বাংলাদেশ ১ম রাউন্ডে তৎকালীন ক্রিকেট বিশ্বের প্রভাবশালী ভারতকে হারিয়ে বিশ্বকাপ আসর থেকে ছিটকে দেয়। সুপার এইটের খেলায় বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকার মতো ক্রিকেট পরাশক্তিকে হারায়। ৯ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ ৩ টিতে জয় লাভ করে,৬ ম্যাচ হেরে যায়। ১৬ দলের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ৭ম অবস্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করে। 

২০১১ সালে যৌথভাবে বিশ্বকাপের ১০ম আসর বসে বাংলাদেশে, ভারত, ও শ্রীলংকায়। স্বাগতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ তেমন ভাল করতে পারেনি বিশ্বকাপের এই আসরে। প্রথম রাউন্ড খেলেই বিদায় নেয় সাকিবের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। এই আসরের একমাত্র প্রাপ্তি ছিল ইংল্যান্ড কে হারানো। ৬ ম্যাচ খেলে ৩টিতে জয় ও ৩ ম্যাচে হারে বাংলাদেশ । ১৪ দলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯ নম্বারে।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা আসর ছিল ২০১৫ বিশ্বকাপ। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এর বিরুদ্ধ কন্ডিশনেও দারুণ ক্রিকেট খেলে বাংলাদেশ। রুবেলের স্বপ্নিল বোলিং আর ম্যাশের ক্যারিশম্যাটিক অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ ইংল্যান্ড কে হারিয়ে প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপ ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে।

কোয়ার্টার ফাইনালে বিতর্কিত আম্পায়ারিংয়ের শিকার হয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বাদ পড়ে যায় ম্যাশ বাহিনী। তবুও এই আসরটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেরা আসর হিসেবে বিবেচিত। ৭ ম্যাচ খেলে ৩  ম্যাচে জয়লাভ করে টিম টাইগার্স। বাকি ৩ ম্যাচে হার আর অন্যটি পরিত্যক্ত হয়।

বিশ্বকাপে দলীয় পরিসংখ্যান
১৯৯৯ থেকেই বিশ্বকাপে অংশ নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আর এই পর্যন্ত ক্রিকেট দল সর্বমোট ৫টি  বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলো ২০১৫ বিশ্বকাপ। সেই বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত উঠতে পারে বাংলাদেশ দল। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ মোট ম্যাচ খেলে ৩৩টি। জয় ১১টি। পরাজয় ২০টি। ফলাফল হয়নি ২টিতে।

দলীয় পারফরমেন্সঃ

সাল ম্যাচ জয় পরাজয় পরিত্যক্ত অধিনায়ক অবস্থান
১৯৯৯ ০৫ ০২ ০৩ ০০ আমিনুল ইসলাম ৯ম (১২টি দলের মধ্যে)
২০০৩ ০৬ ০০ ০৫ ০১ খালেদ মাসুদ পাইলট ১৩তম(১৪টি দলের মধ্যে)
২০০৭ ০৯ ০৩ ০৬ ০০ হাবিবুল বাশার ৭ম (১৬টি দেশের মধ্যে)
২০১১ ০৬ ০৩ ০৩ ০০ সাকিব আল হাসান ৯ম(১৪টি দেশের মধ্যে)
২০১৫ ০৭ ০৩ ০৩ ০১

মাশরাফি মোর্ত্তজা

জা৭ম(১৪টি দেশের মধ্যে)
সর্বমোট ৩৩ ১১ ২০ ০২

বিশ্বকাপের দলীয় পরিসংখ্যান

সর্বোচ্চ রান ৬৪০ (সাকিব)  
সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত রান ১২৮ (মাহমুদুল্লাহ)  
সর্বোচ্চ দলীয় রান ৩২২ (বিপক্ষ-স্কটল্যান্ড)  
সর্বনিম্ন দলীয় রান ৩২ (বিপক্ষ-উইন্ডিজ)  
সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয় ৩১৮ (বিপক্ষ-স্কটল্যান্ড)  
সর্বোচ্চ পার্টনারশীপ ১৪১ (মুশি-রিয়াদ)  
সবচেয়ে ভালো ব্যাটিং গড় ৫৬.৭১ (মাহমুদুল্লাহ)  
সবচেয়ে বেশি উইকেট ২১ (সাকিব)  
বেস্ট বোলিং ফিগার ৪/২১ (শফিউল)  
সবচেয়ে বেশী ক্যাচ ধরেছেন ৯টি (তামিম ইকবাল)  
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন মুশফিক, তামিম, সাকিব(২১টি)  
সবচেয়ে বেশি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন
হাবিবুল বাসার (৯ ম্যাচ)
 

২০১৯ বিশ্বকাপ যাত্রা এবং স্বপ্ন

২০১৯ বিশ্বকাপে টিম বাংলাদেশ:

এবারই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ বিশ্বকাপে তাদের সেরা দলকে পাঠিয়েছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে বিগত বিশ্বকাপ খেলা বাংলাদেশ দলগুলোর মধ্যে এবারের দলটি হচ্ছে একটা ভারসাম্যপূর্ণ দল। যে দলে আছেন পঞ্চপাণ্ডব, আছেন সাকিব-মাশরাফিদের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়ার। সেমি ফাইনাল পর্যন্ত যাবার লক্ষ্য নিয়ে এবারের মিশন শুরু করেছে টিম বাংলাদেশ। 

বাংলাদেশ স্কোয়াড:

মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা (অধিনায়ক), লিটন দাস, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ মিঠুন, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, মুশফিকুর রহিম, মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, সাব্বির রহমান, সৌম্য সরকার, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), মোসাদ্দেক হোসেন, আবু জায়েদ চৌধুরী।

ভিডিও...

 

সাধারণ তথ্য

পৃষ্ঠপোষক বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)
টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসান
ওডিআই অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা
টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান
কোচ স্টিভ রোডস

আইসিসি র‍্যাঙ্কিং

  বর্তমান সর্বোচ্চ অর্জন
টেস্ট ৯ম ৮ম
ওডিআই ৭ম ৬ষ্ঠ
টি-টোয়েন্টি ১০ম ৪র্থ

ইতিহাস

আইসিসি স্ট্যাটাস এসোসিয়েট মেম্বার (১৯৭৭), পূর্ণ সদস্য(২০০০)
টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জন  ২০০০ সাল
প্রথম টেস্ট ভারত, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম, ঢাকা, ১০-১৩ নভেম্বর, ২০০০
প্রথম টেস্ট জয় জিম্বাবুয়ে, চট্টগ্রাম,০৬-১০ জানুয়ারি, ২০০৫
প্রথম ওডিআই পাকিস্তান, ট্রয়ন ফার্নান্দো স্টেডিয়াম শ্রীলংকা, ৩১ মার্চ, ১৯৮৬
প্রথম ওডিআই জয় কেনিয়া, ১৭ মে, ১৯৯৮
প্রথম টি-টোয়েন্টি জিম্বাবুয়ে, ২৮ নভেম্বর ২০০৬
প্রথম টি-টোয়েন্টি জয় জিম্বাবুয়ে, ২৮ নভেম্বর ২০০৬

জয়-পরাজয় পরিসংখ্যান

  ম্যাচ জয় পরাজয় ড্র/পরিত্যক্ত
টেস্ট ১১৪ ১৩ ৮৫ ১৬
ওডিআই ৩৫৮ ১১৮ ২৩৩
টি-টোয়েন্টি ৮৫ ২৬ ৫৭ ০২

বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ

  সংখ্যা সর্বোচ্চ অর্জন
আইসিসি বিশ্বকাপ ৫ বার কোয়াটার ফাইনাল (২০১৫) সুপার এইট (২০০৭)
আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ৬ বার দ্বিতীয় রাউন্ড (২০০৭, ২০১৪, ২০১৬)
আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ৫ বার সেমিফাইনাল (২০১৭)
এশিয়া কাপ ১৩ বার রানার্স আপ (২০১২, ২০১৬, ২০১৮)

শিরোনাম: