এবাদত হোসেন: গতির আগুনে স্বপ্নের অভিষেক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২,   ১৫ আশ্বিন ১৪২৯,   ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

এবাদত হোসেন: গতির আগুনে স্বপ্নের অভিষেক

আসাদুজ্জামান লিটন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৩৪ ১০ আগস্ট ২০২২   আপডেট: ২১:৩৮ ১০ আগস্ট ২০২২

এবাদত হোসেন

এবাদত হোসেন

তার ক্রিকেটে আসাই ছিল বড় চমক। স্বপ্নযাত্রার রোলার কোস্টারে চড়ে জাতীয় দলে অভিষেক হলো টেস্ট ফরম্যাটে। ক্রিকেটের কুলীন সংস্করণে খুব ভালো করেছেন এমন নয়। আবার খুব যে খারাপ, তাও বলা যাবে না। সেই এবাদত হোসেন অবশেষে অভিষিক্ত হয়েছেন সাদা বলের ক্রিকেট, ওয়ানডে ফরম্যাটে।

২০১৯ সালে টেস্ট অভিষেকের পর এবাদতকে মূলত এই ফরম্যাটের বোলার হিসেবেই ধরা হতো। দারুণ বোলিং অ্যাকশনের পাশাপাশি গতির কারণেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন তিনি। ছিলেন বিমান বাহিনীতে, সেই ধারাই বয়ে এনে উড়তে চেয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।

পথচলা যে খুব মসৃণ ছিল, তা বলা যাবে না মোটেও। পারফরম্যান্সে ভাটার কারণে এক পর্যায়ে এবাদতকে টেস্ট থেকে বাদ দেওয়ার দাবিও উঠেছিল জোরেশোরেই। এরপর এলো চলতি বছরের নিউজিল্যান্ড সফর। যেখানে নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম বড় জয় পায় বাংলাদেশ। আর নায়ক ছিলেন এই দীর্ঘদেহী ফাস্ট বোলার।

দেশের অন্যতম স্মরণীয় এই জয়ে বল হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবাদত। এরপর আর টেস্ট ফরম্যাটে দলে জায়গা করে নিতে খুব সমস্যা হয়নি তার। কিন্তু আক্ষেপ ছিল একটাই। তিন বছর হয়ে গেলেও জাতীয় দলের হয়ে রঙিন পোশাক গায়ে মাঠে নামতে পারছিলেন না।

জাতীয় দলে টেস্ট বোলার হিসেবেই প্রসিদ্ধ এবাদত হোসেনবলা যায়, জীবনে কিছু কিছু সুযোগ হঠাৎ করেই আসে। এবাদতের ক্ষেত্রেও ওয়ানডে অভিষেকের ঘটনাটি যেন ঠিক এমনই। ওয়ানডে সিরিজের স্কোয়াডে না থাকলেও দলের অন্য পেসারের চোটের ফলে আচমকা ডাক পান, উঠে বসেন হারারের বিমানে।

সেখানে পৌঁছেও কি এবাদত ভাবতে পেরেছিলেন, জাতীয় দলে অভিষেক হবে? হয়তো ভেবেছিলেন, হয়তো ভাবেননি। তবে স্বপ্ন যে সত্যি হয়েছে, এটা তো নিশ্চিত করে বলাই যায়। আর অভিষেকেই বল হাতে ছড়ালেন গতি আর নিয়ন্ত্রণের মিশেলে মুগ্ধতার বাতাস।

বল হাতে নেন ইনিংসের চতুর্থ ওভারে। প্রথম বলটাই দিয়ে বসেন ওয়াইড, ওভারে দেন আরো একটি। তবে ছয়টি লিগ্যাল ডেলিভারি থেকে এক রানের বেশি নিতে পারেননি ব্যাটাররা। পরের ওভারের শুরুটাও হয় ওয়াইড দিয়েই।

তবে এরপরই যেন দেখালেন নিজের সেরা রূপ। সেই ওভারের তৃতীয় বলেই লাইন, লেন্থ ও গতির মিশেলে বোকা বানান ওয়েসলে মাধেভেরেকে। তাকে মেহেদি হাসান মিরাজের তালুবন্দী করার মাধ্যমে পেয়ে যান প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেটের স্বাদ।

দারুণ অ্যাকশনে বল করা এবাদতের অভিষেকটা হয়েছে স্বপ্নের মতোইপরের বলটা যেকোনো ফাস্ট বোলারের জন্যই ড্রিম ডেলিভারি! একদম দারুণ ইয়র্কারে উপড়ে ফেলেন জিম্বাবুয়ের সেরা খেলোয়াড় সিকান্দার রাজার দুটি স্ট্যাম্প! ক্রিজে এসেই এভাবে অসহায়ের মতো আউট হবেন, সেটা বোধ হয় আগের দুই ম্যাচেই সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া রাজা ভুলেও ভাবেননি।

ম্যাচে এবাদত এরপর আর উইকেট পাননি ঠিকই। তবে সেই ওভারে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকারের মাধ্যমে ম্যাচ বাংলাদেশের হাতের মুঠোয় এনে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচে টাইগারদের জয় ১০৫ রানে। আর এবাদতের বোলিং ফিগার ছিল ৮-১-৩৮-২।

এই বোলিং ফিগারকে অভিষেক হিসেবে খারাপ করার সুযোগ নেই মোটেও। তবে সাদা বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলে বলা যায় ফাস্ট বোলারদের মধুর প্রতিযোগিতা চলছে। সেখানে টিকে থাকতে গেলে এবাদতকে নিয়মিত পারফরম্যান্স করে যেতে হবে। 

এবাদত অবশ্যই এই প্রতিযোগিতায় ভড়কে যাবেন না। দেশ রক্ষায় আকাশে ওড়ার মতো সাদা ও লাল দুই বলের ক্রিকেটেই বারবার জাতীয় দলের হয়ে ওড়ার সক্ষমতা তার আছে। আর এক্ষেত্রে তিনি সফল হবেন, এ আশা করতে দোষ নেই।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএল

English HighlightsREAD MORE »