ম্যাচ ফিক্সিং, যৌন হেনস্থায় জড়ানো পাকিস্তানের সেই আম্পায়ার এখন জুতা বিক্রেতা
15-august

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৯ আগস্ট ২০২২,   ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯,   ১০ মুহররম ১৪৪৪

Beximco LPG Gas
15-august

ম্যাচ ফিক্সিং, যৌন হেনস্থায় জড়ানো পাকিস্তানের সেই আম্পায়ার এখন জুতা বিক্রেতা

স্পোর্টস ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৪৮ ২৪ জুন ২০২২   আপডেট: ২১:৫০ ২৪ জুন ২০২২

আসাদ রউফ

আসাদ রউফ

এক সময় চুটিয়ে আম্পায়ারিং করেছেন। তিন ধরনের ক্রিকেট মিলিয়ে ১৭০টি ম্যাচে আম্পায়ার হিসাবে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এক মডেলকে যৌন হেনস্থা এবং জুয়াড়িদের থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগে কালিমালিপ্ত হয় তার জীবন। পাকিস্তানের সেই আম্পায়ার আসাদ রউফ এখন লাহোরের বাজারে পুরনো জুতো বিক্রি করছেন।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে রউফের এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। ক্রিকেটের সঙ্গে এখন তার কোনও সম্পর্ক নেই। খবরও রাখেন না। এখন তার মাথায় শুধু ব্যবসা। বলেছেন, জীবনে অনেক ম্যাচে আম্পায়ারিং করেছি। আর নতুন করে কিছু দেখার নেই। ২০১৩-র পর থেকে খেলার সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ নেই। পুরোপুরি ক্রিকেট থেকে দূরে রয়েছি।

২০১২ সালে রউফের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন এক মডেল। দাবি করেছিলেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিনের পর দিন তার সঙ্গে সহবাস করেছিলেন রউফ। পরে পিছিয়ে এসেছিলেন। সেই সময় রউফ অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। এখনো তিনি ওই ঘটনা স্বীকার করতে চান না। বলেছেন, মেয়েটি অভিযোগ করার পরের মরসুমেও আইপিএলে আমি আম্পায়ারিং করেছিলাম। তবে এটা মানছেন, ওই ঘটনা কিছুটা হলেও তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছিল।

রউফের জীবনে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছিল ২০১৬ সালে। তাকে পাঁচ বছর নির্বাসিত করেছিল বিসিসিআই। ২০১৩ সালে আইপিএলে ম্যাচ গড়াপেটার সঙ্গে নাম জড়িয়ে গিয়েছিল রউফের। অভিযোগ ছিল, জুয়াড়িদের থেকে দামি দামি উপহার এবং টাকা নিয়ে একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

দোকানে কাজ করছেন আসাদ রউফ২০১৩-র পর থেকেই ক্রিকেটের মূলস্রোত থেকে দূরে সরতে থাকেন রউফ। তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও আর ম্যাচ পরিচালনা করতে দেখা যায়নি। সেই প্রসঙ্গে রউফ বলেছেন, জীবনের সেরা সময় আইপিএলে কাটিয়েছি। ওই অভিযোগ নিয়ে এখন আর কিছু বলার নেই। বিসিসিআই নিজেরাই অভিযোগ করেছিল, নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রউফ জানিয়েছেন, আইসিসির অনুরোধের কারণেই আম্পায়ারিংয়ে আসা তার। দীর্ঘ দিন আগে তৎকালীন পাক বোর্ডের সিইও মজিদ খানকে আইসিসি বলেছিল সে দেশ থেকে উন্নতমানের আম্পায়ার তুলে আনার জন্য। সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে আম্পায়ারিং শেখা শুরু করেন রউফ এবং এক সময় তিনি পুরোদস্তুর আম্পায়ার হয়ে যান। 

একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করা শুরু করেন রউফ। তিনি জানান, যতই ম্যাচ গড়াপেটা কাণ্ডে তার নাম জড়াক, ক্রিকেটারদের সঙ্গে সম্পর্ক বরাবরই ভাল ছিল। বলেছেন, আমি খুব খোলামেলা ভাবে ক্রিকেটারদের সঙ্গে মিশতাম। ক্রিকেটার তো বটেই, ওদের স্ত্রীরাও বলত যে আমার সঙ্গ ওরা উপভোগ করে।

লাহোরের লান্ডা বাজারে যে দোকান রউফ চালান, সেখানে পুরনো জামাকাপড়, জুতো কম দামে পাওয়া যায়। হঠাৎ করে এরকম একটা দোকান তিনি খুলতে গেলেন কেন? রউফ বলেছেন, আমার কর্মচারীদের জন্য এই কাজ করি। ওদের সংসার যাতে চলে, সেটার চেষ্টা করি। কোনও লোভ নেই। 

তিনি আরো বলেন, অনেক টাকা দেখেছি জীবনে। আমার এক সন্তান বিশেষভাবে সক্ষম। আর এক জন সদ্য আমেরিকা থেকে পড়াশোনা করে ফিরেছে। ওদের নিয়েই সময় কেটে যায়। আমি যেটাই করি, সেটার শিখরে পৌঁছানোর চেষ্টা করি। এখন দোকানদার হিসেবেও সবার উপরে পৌঁছাতে চাই।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএল

English HighlightsREAD MORE »