ছিলেন ভলিবল খেলোয়াড়, হলেন ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের নায়ক

ঢাকা, শনিবার   ০১ অক্টোবর ২০২২,   ১৫ আশ্বিন ১৪২৯,   ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

ছিলেন ভলিবল খেলোয়াড়, হলেন ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের নায়ক

ক্রীড়া প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৫৮ ৫ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১২:৪৭ ৫ জানুয়ারি ২০২২

এবাদত হোসেন

এবাদত হোসেন

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে ওভালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮ উইকেটের বিশাল জয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ। টেস্টের বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ডকে তাদেরই মাটিতে হারিয়ে ইতিহাস সৃষ্টির মূল কারিগর বাংলাদেশের ফাস্ট মিডিয়াম বোলার এবাদত হোসেন চৌধুরী। যিনি এক সময় ছিলেন ভলিবল খেলোয়াড়।

দ্বিতীয় ইনিংসে ২১ ওভার বল করে ৪৬ রান দিয়ে একাই ৬ উইকেট নেন এবাদত। তার একের পর এক উইকেট নেয়াতেই কিউইরা দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হয়ে যায় মাত্র ১৬৯ রানে। বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় কেবল ৪০ রানের। মুশফিক-মুমিনুল ৮ উইকেটের জয় নিয়েই মাঠ ছেড়ে আসেন।

এই জয় সম্ভব হয়েছে মূলত এবাদতের বিধ্বংসী বোলিংয়ের কারণেই। অথচ এবাদতের এই জায়গায় আসাটা এত সহজ ছিল না। হয়তো বা ক্রিকেটারই হতে পারতেন না তিনি। সেটা কেবল সম্ভব হয়েছে তার অদম্য ইচ্ছা আর অসম্ভব একটি সুন্দর স্বপ্নের কারণে।

এবাদত হোসেন ছিলেন মূলত একজন ভলিবল খেলোয়াড়। সেখান থেকে হলেন ক্রিকেটার। আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর ম্যাচ সেরার পুরস্কার নিতে গিয়ে নানা প্রশ্ন করতে গিয়ে সে প্রসঙ্গটাই এনেছিলেন সঞ্চালক।

জবাবে এবাদত বলেছিলেন, ‘ভলিবল থেকে ক্রিকেটে আসার গল্পটা অনেক লম্বা। আমি ক্রিকেটটা উপভোগ করছি। বাংলাদেশ ও বিমানবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করাটাও।’

মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার কাঁঠালতলী গ্রাম থেকে উঠে এসেছেন এবাদত হোসেন। আগে পাড়ার মাঠে মাঝেমধ্যে ক্রিকেট খেলতেন। বাবা চাকরি করতেন বিজিবিতে। বাবার দেখানো পথে হাঁটবেন বলে ২০১২ সালে বিমান বাহিনীতে যোগ দেন তিনি।

তবে খেলার মাঠ এবাদতকে বারবার টানত। যে কারণে চাকরির পাশাপাশি চলছিল খেলাধুলাও; ভলিবল, হ্যান্ডবল, বাস্কেটবল এসব। এরপর বিমানবাহিনীর নিয়মিত ভলিবল খেলোয়াড় হয়ে যান।

কিন্তু ভলিবলেও নিজেকে বেধে রাখতে পারলেন না। কারণ তার মন পড়ে থাকে ক্রিকেট মাঠে। তার প্রতিষ্ঠান বিমানবাহিনীও এবাদতের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসে। তার খেলাধুলায় বাধা দেয় না। যার ফলশ্রুতিতে ধীরে ধীরে ক্রিকেটে নিজেকে জড়াতে শুরু করেন।

২০১৪ সালে সিটি ক্লাবের হয়ে ঢাকায় প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে খেলার সুযোগ পান এবাদত। ক্রিকেটে পরিচিত হতে থাকেন ধীরে ধীরে। ২ বছর পর সামনে চলে আসে সূবর্ণ সুযোগ।

২০১৬ সালে রবির সহযোগিতায় বিসিবি আয়োজন করে পেসার হান্টের। সারাদেশ থেকে প্রতিভাবান পেসারদের তুলে আনার লক্ষ্য নিয়ে এই পেসার হান্টের আয়োজন করে তারা। এখানেই নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করতে যান এবাদত হোসেন। প্রথমে ঢাকা থেকে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে ফরিদপুর গিয়ে পেসার হান্টে অংশ নেন।

এবাদতের পাশাপাশি প্রায় ১৪ হাজার ৬৪১ জন প্রতিযোগী নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষা করতে সেখানে যান। এতো মানুষের ভিড়ে শুধু দুটি বল করার সুযোগ পান তিনি। যেখানে একটি বল করলেন ১৩৯.০৯ কিলোমিটার গতিতে। এই দুটি বল করেই নির্বাচকদের নজর কাড়তে সক্ষম হন তিনি।

পেসার হান্টে নির্বাচিত হওয়ার পর পরবর্তী ধাপে পরীক্ষা দিতে এবাদত চলে আসেন ঢাকার মিরপুর স্টেডিয়ামে। এখানে পেসারদের নির্বাচিত করার কাজ ছিল পাকিস্তানের সাবেক পেসার আকিব জাবেদের। বলের গতি দিয়ে কোচদের সন্তুষ্ট করতে সক্ষম হন বিমাবাহিনীর এ তরুণ।

শেষ পর্যন্ত প্রায় লক্ষাধিক প্রতিযোগীর মধ্যে পেসার হান্টে প্রথম হন তিনি। প্রায় ৬৩ জনকে বাছাই করা হয় প্রতিযোগিতাটি থেকে। এই কজনের মধ্যে ১৩৯ কিলোমিটার গতিতে বল করে প্রথমস্থান অধিকার করেন এবাদত।

এরপর তিনি চলে আসেন হাই পারফরমেন্স দলের হয়ে ট্রেনিং করতে। আকিব জাবেদও এবাদতকে নিয়ে গ্রিন সিগন্যাল দিয়ে যান।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এবাদতের অভিষেক হয় ২০১৯ সালের মার্চে। নিউজিল্যান্ডের মঠেই তার অভিষেক ঘটে। কিউইদের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ দিয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামেন তিনি।

২০১৯ সালেই কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে ৯১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে একবার আলোচনায় আসেন এবাদত। এবার তো তিনি হয়ে গেলেন চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটার। বাংলাদেশকে এনে দিলেন ঐতিহাসিক এক জয়।

বাংলাদেশের ম্যাচ জয়ের মুহূর্তটি দেখুন এখানে

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএস/এএল

English HighlightsREAD MORE »