নির্বাচনের ক্ষেত্রে বন্ধুত্বে প্রভাব পড়বে না: দুর্জয়

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৯ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৫ ১৪২৮,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

নির্বাচনের ক্ষেত্রে বন্ধুত্বে প্রভাব পড়বে না: দুর্জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৫৩ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৮:৫৩ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছেন নাইমুর রহমান দুর্জয়

মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছেন নাইমুর রহমান দুর্জয়

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন আগামী ৬ অক্টোবর। এর মধ্যে শেষ হয়েছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া। ক্যাটাগরি-১ এ ঢাকা বিভাগ থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছে। সাবেক বোর্ড পরিচালক নাইমুর রহমান দুর্জয়। তার এবার ৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বী -সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু (কিশোরগঞ্জ), তানভির আহমেদ টিটু (নারায়ণগঞ্জ) ও খালিদ হোসেন (মাদারীপুর)। তিনি মনে করেন, নির্বাচনের ক্ষেত্রে বন্ধুত্বে প্রভাব পড়বে না। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলেন দুর্জয়। সোমবার সকালে দেশে ফিরে বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সোজা মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে এসে স্বশরীরে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।

দুর্জয় বলেন, সবকিছুরই একটা সময় আছে এবং কিছু নির্ধারিত ফরম্যাট আছে। এসকল ফরম্যাটগুল্যোকে মাথায় রেখে বিসিবি যেভাবে চিন্তা করছে, এই বোর্ডে যারা ছিলেন, বা সামনের বোর্ডে যারা আসবেন তারা অবশ্যই এটা মাথায় রেখে কাজ করবেন। যেভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট এগিয়ে যাচ্ছে, একটা সময় কিছু নয়, দশ, এগারো এরকম একটা অবস্থানে ছিলাম। আমরা সেটি চার পাঁচ এরকম র‍্যাঙ্কিংয়ে নিয়ে এসেছি। সেখান থেকে আমরা আগাচ্ছিও। এটা কিন্তু প্রমাণ করে বাংলাদেশের ক্রিকেট এগিয়ে যাচ্ছে। আরো আগানোর জন্য যা যা পদক্ষেপ দরকার বোর্ড সেই পদক্ষেপগুলো নেবে। 

ঢাকা বিভাগ থেকে পরিচালক বাড়ানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, ঢাকা বিভাগে ১৭টা জেলা আছে। এই ১৭টা থেকে মাত্র দুই জন কাউন্সিলর। দুইজন বোর্ডের পরিচালক হয়ে আসবেন। অন্যান্য বিভাগগুলোতে আরো কম আছে। সেখান থেকে একজন একজন করে আসে। আমরা যদি সেই পরিসংখ্যান থেকে হিসাব করি তাহলে ঢাকা বিভাগ থেকে অন্তত আরো একজন বাড়ানো উচিত।

ক্রিকেটের উন্নায়নের দিকে ভেবে দুর্জয় যোগ করেন, চট্টগ্রাম ক্রিকেট আসোসিয়েশনের কাজ শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম এবং সিলেট থেকে। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে আগে একটা সময় ছিল যখন বোর্ডের সংকীর্ণতা ছিল, সীমাবদ্ধতা ছিল। সেইগুলো কিন্তু এখন নাই। আমরা যদি শুধু মনে করি টাকা জমিয়ে রাখা, এফডিআর করা, এই বিষয়গুলো থেকে বেড়িয়ে এসে আঞ্চলিক ক্রিকেটের উন্নয়নে, অ্যাকাডেমির উন্নয়নে আরো বেশি ব্যয় করা উচিত।

এইচপি দলের উন্নয়ন সম্পর্কে সাবেক এ অধিনায়ক বলেন, আমি আসলে ব্যক্তিগতভাবে বেশ খুশি। আমি এইচপি দলকে নিয়ে কাজ করতে পেরেছি। কারণ এই জায়গাটাকে অবহেলার দৃষ্টিতে দেখার কোনো সুযোগ নেই। অন্যন্য দিকগুলোর যেমন প্রয়োজনীয়তা আছে, এইচপিরও ক্রিকেটের উন্নয়নে তেমন প্রয়োজনীয়তা আছে। সেই দিক বিবেচনা করলে আমি অন্য কোনো ডিপার্টমেন্টের দিকে অতোটা চোখ রাখি না। আর মূলত ডিপার্টমেন্টের বিষয়গুলো যিনি বোর্ড সভাপতি হন তিনি দেখেন। আমি এইচপি দলের সঙ্গে থেকেই খুশি। বা অন্য কোথাও যদি যিনি বোর্ড প্রেসিডেন্ট হবেন তিনি মনে করেন বা আমি যদি বোর্ড আসি পরিচালক হয়ে সেটা তো পরের ব্যপার। সেটার দায়িত্ব বোর্ড প্রেসিডেন্টই নির্ধারণ করবেন। 

তিনি যোগ করেন, আমি সবসময়ই বলি নির্বাচন একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। সবারই অধিকার আছে নির্বাচনে অংশ নেয়ার। এবং ভোট দেয়া যার যার ব্যক্তিগত পছন্দ। আমরা বন্ধু আছি, বন্ধু থাকবো। নির্বাচনের ক্ষেত্রে সেটার প্রভাব পড়বে না। শুধুমাত্র আমাদের দুইজনই না, বাকি যেই দুইজন আছে, তাদের সঙ্গেও আমাদের কোনো বৈরিতা তৈরি হবে না। আমরা সবাই খেলার জগতের মানুষ তো। আমরা সবাইকে একই পরিবারের মনে করি। সবাই যে যার জায়গাটা যোগ্যতা অনুসারে গড়ে নিতে পারবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএস