বিশ্ববিদ্যালয়ের দেড় লাখ টাকায় কেনা মোবাইল ফেরত দিলেন ভিসি কলিমউল্লাহ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৮ ১৪২৮,   ১৪ সফর ১৪৪৩

বিশ্ববিদ্যালয়ের দেড় লাখ টাকায় কেনা মোবাইল ফেরত দিলেন ভিসি কলিমউল্লাহ

বেরোবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:১৭ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৪:১৮ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ।

অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। রাত সোয়া ৩টায় ক্লাস নেয়া, দৈনিক ২২-২৩ ঘণ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কাজ করা, ৬ মাসের সেমিস্টার ১৫ দিনে শেষ করার ঘোষণাসহ নানান বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের শেষ হতে না হতেই মেয়াদ শেষ হওয়ায় ভিসির পদ থেকে গত ১৩ জুন বিদায় নিয়েছিলেন তিনি। বিদায়ের তিনমাস পর বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায় কেনা এক লাখ ২৯ হাজার ৬১০ টাকা দামের মোবাইল ফোনটি ফেরত দিয়েছেন।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভাণ্ডারের কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম রনি মোবাইল ফেরতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমি কয়েকদিন হলো কেন্দ্রীয় ভাণ্ডারে যোগদান করেছি। এখনও সব গুছিয়ে নিতে পারিনি। তবে সাবেক ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে কেনা মোবাইলটি ফেরত দিয়েছেন বলে জেনেছি। আর যারা এখনও অন্যান্য জিনিসপত্র জমা দেননি তালিকা তৈরি করে বিষয়টি বর্তমান ভিসিকে জানানো হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভাগ ও কেন্দ্রীয় ভাণ্ডার দফতর সূত্রে জানা গেছে, অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ ভিসি হিসেবে যোগদান করার পর চার বছর আগে দেশের সবচেয়ে দামি মডেলের মোবাইলের জন্য চাহিদাপত্র দিয়েছিলেন। কয়েকদফা তাকে বিভিন্ন মডেলের মোবাইল দেখানো হলেও তার পছন্দ হয়নি বলে নেননি। পরে বিদেশি কোম্পানির সর্বাধুনিক একটি মোবাইল তার পছন্দ হয়। যার বাজার মূল্য ছিলো এক লাখ ২৯ হাজার ৬১০ টাকা। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে মোবাইলটি কিনে দেয়।

তিনি ভিসি থাকাকালে এটি ব্যবহার করেছেন। কিন্তু চলতি বছরের ১৩ জুন তার ভিসি পদে মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তাকে নতুন করে নিয়োগ দেয়া হয়নি। ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশীদকে। কিন্তু দায়িত্ব হস্তান্তর করতে ক্যাম্পাসে আসেননি সাবেক ভিসি। বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায় কেনা মূল্যবান মোবাইলটিও আর ফেরত দেননি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভাণ্ডার বিভাগ থেকে বেশ কয়েকবার মৌখিকভাবে যোগাযোগ করার পরও কোনো সাড়া মেলেনি। অবশেষে তাকে চিঠি দিয়ে মোবাইলটি ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানতে পেরে অবশেষে এক বাহকের মাধ্যমে মোবাইলটি ফেরত দেন তিনি।

এদিকে, ভিসি কলিমউল্লাহ মোবাইল ফোন ফেরত দিলেও তার সহযোগী বেশ কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কেন্দ্রীয় ভাণ্ডার থেকে নেয়া কম্পিউটার ফাইল কেবিনেট, দামি চেয়ার-টেবিল ও আলমারিসহ মূল্যবান আসবাবপত্র বিশ্ববিদ্যালয়কে না জানিয়ে তাদের কক্ষ থেকে অন্য দফতর অথবা বিভাগে বদলি হওয়ার পর সেখানে নিয়ে যান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে নাম না প্রকাশের শর্তে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ভাণ্ডারের এক কর্মকর্তা বলেন, যেকোনো কর্মকর্তা যে কোন বিভাগের দায়িত্বে থাকতে পারেন। এটা দোষের কিছু নয়। কিন্তু সেই দফতর থেকে অন্যত্র বদলি হলে সব মালামাল কেন্দ্রীয় ভাণ্ডারের কাছে হস্তান্তর করবেন এটাই নিয়ম। এ নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য। ফলে যারা দেননি তাদের নিয়ম অনুযায়ী চিঠি দেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম