পাবনায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে স্কুলশিক্ষিকা আটক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৮ ১৪২৮,   ১৪ সফর ১৪৪৩

পাবনায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে স্কুলশিক্ষিকা আটক

পাবনা প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০১:৫৮ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১  

আটক হওয়া স্কুলশিক্ষিকা

আটক হওয়া স্কুলশিক্ষিকা

ব্যাংকে টাকা রাখলে যে মুনাফা হয় তার চেয়ে দ্বিগুণ মুনাফা দেয়ার লোভ দেখিয়ে গ্রাহকদের ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক স্কুল শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। সীমা আক্তার নামে ওই নারী পাবনা পৌর সদরের পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাথমিক শাখার শিক্ষিকা। তিনি  পাবনা শহরের আটুয়া হাউজ পাড়া মহল্লার হানিফুল ইসলামের স্ত্রী। প্রতারিত লোকজন তাকে মঙ্গলবার সারাদিন তার বাসায় অবরুদ্ধ করে রাখেন। মঙ্গলবার(১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। গ্রাহকদের হিসেবে ১০ কোটি টাকা কিন্তু ওই নারী স্বীকার করেছেন তিনি তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।  

প্রতারণার শিকার একাধিক ব্যক্তি জানান, ওই শিক্ষিকা তাদের বৈধ ব্যবসার মাধ্যমে লাভ দেওয়ার লোভ দেখান। পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক হওয়ায় সবাই তাকে সরল মনে বিশ্বাস করেন। ওই নারী জানিয়েছিলেন তিনি গরুর খামার ও আরো নানা ধরনের হালাল ব্যবসা করে লাভ করেন। সে লাভের অংশ আমানতকারীদের দেওয়ার কথা বলেন। সবার বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের বেশ কিছুদিন সবাইকে কথিত লাভের টাকা নিয়মিত দিতে থাকেন। এতে লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়েন তার কাছে। এভাবে তিনি হাতিয়ে নেন ১০ কোটি টাকা। এরপর গত একমাস ধরে তার সঙ্গে গ্রাহকরা যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। তখন তারা প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন। তাদের কেউ কেউ পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগও করেন।

এই প্রতারক নারী শিক্ষিকা অনেকের কাছ থেকে চেক ও স্ট্যাম্পের মাধ্যমেও টাকা নিয়েছেন। তার প্রতারণার জালে পড়েছেন তার সহকর্মী থেকে শুরু করে একাধিক পুলিশ সদস্য। মাসিক লাভ বন্ধ হওয়ায় তার বাড়িতে গ্রাহকদের ভিড় বাড়তে থাকায় ভুক্তভোগীরা টের পান প্রতারিত হয়েছেন অনেকেই। মঙ্গলবার গ্রাহকরা তাকে বাড়িতে পেয়ে তাকে সারাদিন অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে ওই নারীকে উদ্ধার করেন। এরপর তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। 
 
ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই প্রতারক নারী ব্যবসায়ীর বৈধ কোনো কাগজ পত্র পাওয়া যায়নি। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি একজনের কাছে থেকে নেয়া টাকা আরেক জনকে দিয়েছেন বলে জানান। 

তিনি আরো জানান, তার কোনো বৈধ ব্যবসা নেই। যারা টাকা দিয়েছে তাদেরকে সুদে অনেক টাকা লাভ দিয়েছেন। কারো টাকা আত্মসাৎ করেননি। মানুষ না জেনে না বুঝে তাকে টাকা দিয়েছে, এটা তাদের ভুল। তিনি জানান, সম্প্রতি যারা তাকে টাকা দিয়েছে তাদের টাকার একটি হিসাব তিনি করেছেন। এর পরিমাণ তার হিসাবে তিন কোটি টাকা। তিনি সেসব টাকা দিয়ে দেবেন। আর যারা বেশি লাভের আশায় দিয়েছেন তাদের দাবি করা টাকা তিনি দিতে পারবেন না।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আখতার বলেন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের কারণে তাকে স্কুল থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। অনেকেই তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ নিয়ে এসেছেন। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের আলোকে মামলা করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ