টিপসই নিয়ে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিল জামায়াত নেতা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৮ ১৪২৮,   ১৪ সফর ১৪৪৩

টিপসই নিয়ে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিল জামায়াত নেতা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০১:৩৫ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১২:৪৭ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন অভিযোগকারী বেদারুল হক চৌধুরী

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন অভিযোগকারী বেদারুল হক চৌধুরী

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শিলকুপ ইউনিয়নের জামায়াতের রোকন কাজী নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন বেদারুল হক চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি। সোমবার বিকেলে একটি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি। জামায়াত নেতা কাজী নুর মোহাম্মদ অভিযোগকারীর আত্মীয় হন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বেদারুল হক চৌধুরী বলেন, আমরা বর্তমানে ৩ ভাই ৪ বোন। বোনেরা শ্বশুর বাড়িতে থাকেন। ১৯৯৯ সালে আমার বাবা মারা যান। আমার মা বয়োবৃদ্ধ। গত ৮ ফেব্রুয়ারি আমার মা একটি জায়গা বিক্রি করে ৪০ লাখ ২৮ হাজার পান। আমার মা জায়গা বিক্রির টাকাগুলো ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের বাঁশখালী শাখায় জমা রেখে চেক বই গ্রহণ করেন। আমার মার টাকার ওপর বড় বোন ফরিদা ও তার স্বামী জামায়াত নেতা কাজী নুর মোহাম্মদ ও তার ছেলে কাজী শাহরিয়ারের কুদৃষ্টি পড়ে। পরে তারা আমার অসুস্থ মাকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাদের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে যাওয়ার সময় মা চেক বই সঙ্গে নিয়ে যান। পরে আমার বোন ফরিদা খানম মাকে বলেন, আমাকে ৩০ হাজার টাকা দেন আমার ছেলে কাজী শাহরিয়ার বেতন পেলে দিয়ে দেব। আমার মা সরল বিশ্বাসে একটি ব্যাংক চেকে টিপসই দেন। পরে চেক ভুল হয়েছে বলে আরো দুটি চেকে টিপসই নেয়া হয়। পরবর্তীতে তারা মাকে ব্যাংকে নিয়ে যান। একপর্যায়ে তারা মায়ের ৩০ হাজার টাকা তোলার পরিবর্তে ৩০ লাখ টাকা ফরিদা খানের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করিয়ে নেয়া হয়। কিছুদিন পর আমি আমার মায়ের টাকাগুলো এফডিআর করতে ব্যাংক অফিসারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করতে গিয়ে এ ঘটনা জানতে পারি।

বেদারুল হক চৌধুরী আরো বলেন, মাকে বিষয়টি বললে মা হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন এবং এক পর্যায়ে হার্ট অ্যাটাক করেন। পরে মাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি করি। সেখান থেকে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর মাকে বাসায় নিয়ে আসি। পরে মা বাঁশখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বাঁশখালী থানাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হলে থানা সরেজমিনে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেছে বলে একটি তদন্ত রিপোর্ট দেয়। থানা দু’পক্ষকে ডাকলে ফরিদা গং টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে স্বীকার করেন। টাকাগুলো এক সপ্তাহের মধ্যে মাকে পরিশোধ করবে বলে অঙ্গীকার করেন। পরে আমরা মায়ের টাকাগুলো চাইতে গেলে টাকা না দিয়ে উল্টো আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছেন। সন্ত্রাসীদের দিয়ে আমাদের গুম করারও হুমকি দিচ্ছেন। পরে তারা আমাদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে আমরা নিরাপত্তাহীনতাই ভুগছি। আমি আমার মায়ের টাকাগুলো উদ্ধার করার জন্য প্রশাসনের সহায়তা কামনা করছি।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বেদারুল হক চৌধুরীর বড় ভাই দিদারুল হক চৌধুরী, তার ছেলে এম মুসফিকুল হক চৌধুরী ও রবিউল ইসলাম।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/এইচএন