তিনটি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে জোয়ারের পানি, খোলা আকাশের নিচে পাঠদা

ঢাকা, সোমবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৫ ১৪২৮,   ১১ সফর ১৪৪৩

তিনটি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে জোয়ারের পানি, খোলা আকাশের নিচে পাঠদান

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২৩:২৭ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১  

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চর জপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মৃধা কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পূর্ব নড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওঠে জোয়ারের পানি। ফলে দুটি বিদ্যালয়ে খোলা আকাশের নিচে ও একটিতে পার্শ্ববর্তী এক বাড়ির বারান্দায় চট বিছিয়ে ও স্কুলের বেঞ্চ নিয়ে ব্যবস্থা করা হয়েছে পাঠদানের। 

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, সরকারি নির্দেশনায় এক বছর আট মাস বন্ধ থাকার পর গত রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু শ্রেণিকক্ষে জোয়ারের পানি ঢুকায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়ার উপযোগী ছিল না। এ কারণে বিদ্যালয় থেকে কিছুটা দূরে অন্যের বাড়ির উঠানে সিমেন্টের বস্তার চট ও স্কুল থেকে বেঞ্চ এনে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়। আজ মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) একইভাবে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ক্লাস শুরু হয়। চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত।

চট বিছিয়ে পাঠদান

স্থানীয়রা জানান, ২০১৮ সালে পদ্মার ভাঙনের শিকার শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার পূর্ব নড়িয়া গ্রাম। ওই গ্রামটিতে ছিল পূর্ব নড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকা ভবন। পদ্মার আগ্রাসী ভাঙনে একই বছর বিলীন হয়ে যায় বিদ্যালয়ের ভবনটি। এতে ভেঙে পড়ে পাঠদান ব্যবস্থা। পরবর্তীতে ওই গ্রামটিতে অস্থায়ীভাবে চার রুম বিশিষ্ট একটি টিনের ঘর তৈরি করে পাটদানের ব্যবস্থা করা হয়। অস্থায়ীভাবে পাঠদান কার্যক্রম চালু রাখা হলেও দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায় কমে গেছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। কিন্তু করোনার কারণে এক বছর আট মাস ক্লাস বন্ধ থাকে। গত ১২ সেপ্টেম্বর ক্লাস চালু হলেও বিদ্যালয়টির চারদিকে জোয়ারের পানি ও কাদা থাকায় ক্লাস করানো সম্ভব হচ্ছে না।

পূর্ব নড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসমা আক্তার বলেন, ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে বিলিন হয়। পরে ওই এলাকায় অস্থায়ী একটি টিনের ঘর তৈরি করে দেয় জেলা শিক্ষা অফিস। সেখানেই পাটদানের ব্যবস্থা করা হয়। দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর ১২ সেপ্টেম্বর ক্লাস চালু হলেও বিদ্যালয়টির চারদিকে জোয়ারের পানি ও কাদা থাকায় ক্লাস করানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই বিদ্যালয়ে কাছাকাছি একটি বাড়ির আঙ্গিনায় বিদ্যালয়ের বেঞ্চ নিয়ে ক্লাস করাচ্ছি। তবে অনেকটা পানি নেমে যাওয়ায় আগামীকাল বুধবার থেকে বিদ্যালয়টিতে ক্লাস করার কথা রয়েছে। তবে দ্রুত বিদ্যালয় ভবন বরাদ্দ না পেলে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পানিবন্দি বিদ্যালয়

পূর্ব নড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আনিকা, সাব্বির হোসেন বলে, আমাদের বিদ্যালয়টি পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। এখন নতুন করে আরেক জায়গায় টিনের তৈরি স্কুল হয়। সেখানে এখন জোয়ারের পানি এসে ডুকেছে। ওইখানে আমরা পড়তে যাইতে পারতাছি না। বর্তমানে আমাদের বাড়ি থেকে দূরে একটি বাড়িতে ক্লাস নেওয়া হয়। আমাদের একটি পাকা স্কুল হলে ভালো হতো।

চর জপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলেনা আক্তার বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে জোয়ারের পানি ঢোকায় বিদ্যালয়ে ক্লাস নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী একটি বাড়ির উঠানে ক্লাস নিচ্ছি। শিক্ষার্থী ও আমাদের কষ্ট হচ্ছে।

শরীয়তপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, পূর্ব নড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদী গর্ভে বিলিন হওয়ার পর অস্থায়ী একটি স্কুল ঘর তৈরি করা হয়। সেখানে সম্প্রতি জোয়ারের পানি ঢুকেছে, তার কারণে ক্লাস করা সম্ভব হচ্ছে না। পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে ক্লাস চলমান রয়েছে। এছাড়া চর জপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মৃধা কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে পানি। তাই অন্যত্র ক্লাস চলছে। পানি কমছে গেলে বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ