ঝিনাইদহে নিউমোনিয়ার প্রকোপ: ৮ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি ১১৫ শিশু

ঢাকা, সোমবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৫ ১৪২৮,   ১১ সফর ১৪৪৩

ঝিনাইদহে নিউমোনিয়ার প্রকোপ: ৮ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি ১১৫ শিশু

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৩১ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১  

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড

ঝিনাইদহে শিশুদের নিউমোনিয়া ও জ্বরসহ শ্বাসতন্ত্রের রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে এসব রোগ নিয়ে গড়ে ৩০-৩৫ জন শিশু ভর্তি হচ্ছে। শয্যা ও জনবল সঙ্কটে বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সরা।

মঙ্গলবার ঝিনাইদহ সদর হাসাপাতালের শিশু ওয়ার্ডে দেখা যায়, সেখানে ৮ শয্যার বিপরীতে ভর্তি আছে ১১৫ জন শিশু। যাদের অধিকাংশই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। অন্য সময় হাসপাতালে গড়ে ৪০-৫০ জন রোগী থাকলেও বর্তমানে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে ৩০-৩৫ জন। তাদের মধ্যে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যাই বেশি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৬-১৮ মাস বয়সী শিশুরা বেশি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিটি শয্যার বিপরীতে কয়েক গুণ বেশি রোগীকে সেবা দিচ্ছে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সদর উপজেলার কমলাপুরের লতিফ মিয়া বলেন, আজ আটদিন ধরে আমার ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে আছি। প্রথমে ঠান্ডা আর কাশি ছিল। হাসপাতালে আসার পর ডাক্তার বলছেন- আমার ছেলের ডাবল নিউমোনিয়া হয়ছে। ওষুধ খাওয়াচ্ছি। আল্লাহর রহমতে এখন একটু ভালো।

শৈলকুপা উপজেলার কাঁচেরকোল গ্রাম থেকে আসা দুই মাস বয়সী রাবেয়াকে ভর্তি করা হয়েছে রোববার বিকেলে। এখন তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা ভালো। রাবেয়ার বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, রোববার বিকেলে এসেছি। ডাক্তার এখনো দেখেনি। রাতে মাত্র একজন নার্স আর একজন আয়া ছিল। ওষুধ দেওয়া হয়ছে। এখন বাচ্চা ভালো আছে।

সদর উপজেলার কালুহাটি গ্রামের হাবিল নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, এ হাসপাতালে প্রতিদিন ১০০-১৫০ রোগী ভর্তি থাকছে। কিন্তু মাত্র একজন ডাক্তার দিয়ে এত রোগীর চিকিৎসা অসম্ভব। ভর্তি রোগী ছাড়াও আউটডোরে প্রতিদিন কয়েকশ রোগী আসে। হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে আরো ডাক্তার-আয়া-নার্স দরকার।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের শিশু ও নবজাতক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ঋতু পরিবর্তণের কারণে শিশুরা বেশি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। হঠাৎ গরম আবার হঠাৎ ঠান্ডার কারণে এ সমস্যা হচ্ছে। বাচ্চাদের যেন গা না ঘামে বা অতিরিক্ত ঠান্ডা না লাগে সে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। বুকের দুধ খাওয়ানোর পাশাপাশি শিশুদের সুষম খাবার দিতে হবে।

চিকিৎসক সঙ্কটের বিষয়টি স্বীকার করে এ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্বাবধায়ক ডা. মো. আলাউদ্দিন বলেন, শিশু ওয়ার্ডের জন্য দুইজন চিকিৎসক ছিলেন। কিছুদিন আগে একজন প্রশিক্ষণের জন্য চলে গেছেন। এখন আরেকজন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। জনবল ও চিকিৎসক নিয়োগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর