ফরম পূরণে ভোগান্তি ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রাবি শিক্ষার্থীরা

ঢাকা, শনিবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৪ ১৪২৮,   ০৯ সফর ১৪৪৩

ফরম পূরণে ভোগান্তি ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রাবি শিক্ষার্থীরা

রাবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:০৩ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১  

করোনা পরিস্থিতিতে এতে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

করোনা পরিস্থিতিতে এতে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

দীর্ঘ ১৮ মাস পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বিভিন্ন বর্ষের স্থগিত হওয়া পরীক্ষা শুরু হয়েছে। প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ২০২০ সালের পরীক্ষা গ্রহণের প্রস্তুতি। এরইমধ্যে বিভিন্ন বিভাগে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ শুরু হয়েছে। যা শিক্ষার্থীদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে করতে হচ্ছে। ব্যাংকে লাইন ধরে টাকা জমা দেয়া, বিভাগ, হলসহ বিভিন্ন জায়গায় দৌড়াতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। করোনা পরিস্থিতিতে এতে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদ, কৃষি অনুষদ, প্রকৌশল অনুষদের বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষার আবেদন ফরম পূরণ চলছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দুই থেকে তিনটি অফিস প্রধানের স্বাক্ষর লাগে। এসব স্বাক্ষর নিতে শিক্ষার্থীদের সশরীরে উপস্থিত হতে হয় অফিসে। সাক্ষর শেষে টাকা জমা দিতে হয় ব্যাংকে। বিভিন্ন বিভাগের একসঙ্গে পরীক্ষার ফরম পূরণ থাকায় বাড়তি চাপ পড়েছে ব্যাংকে। লাইন ধরে টাকা জমা দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। একই প্রক্রিয়ায় ভর্তি হতে হয় বিভিন্ন বর্ষে। এছাড়াও হারিয়ে যাওয়া মার্কশিট উত্তোলন, সনদপত্র উত্তোলন, রেজিস্ট্রেশন কার্ড উত্তোলন, প্রশংসাপত্র উত্তোলনসহ শিক্ষার্থীদের প্রায় সবকিছু একই প্রক্রিয়ায় করতে হয়।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রতিবছর ভর্তি পরীক্ষার পর নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তির পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পাদন করা হয়। অথচ আমাদের প্রত্যেক বর্ষের ভর্তি ও পরীক্ষার ফরম পূরণ অনলাইনে করতে পারে না। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসিনতা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে। আগামীতে শিক্ষার্থীদের আর এই সমস্যায় পড়তে হবে না।

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তাপস লাকড়া বলেন, করোনা মহামারি বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনলাইনে পরীক্ষার আবেদন ফরম পূরণের ব্যবস্থা করতে পারতো। পরীক্ষার বাকি ১০ দিন। এর মধ্যে ফরম ফিলাপ করতে হচ্ছে। বিভাগ থেকে হল, হল থেকে ব্যাংকে দৌড়াতে হচ্ছে। এখানেই ভোগান্তির শেষ নেই ব্যাংকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে টাকা জমা দিতে হচ্ছে। মানা হচ্ছে না কোনো স্বাস্থ্যবিধি। এদিকে সময়ের অপচয় অন্যদিকে করোনার ভয়।

সমাজকর্ম বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবিদা সুলতানা বলেন, দুই ঘণ্টার বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে টাকা জমা দিতে পেরেছি। করোনার মহামারির কথা চিন্তা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনলাইনে পরীক্ষায় ফরম পূরণের ব্যবস্থা করতে পারতো। শুধু ডিজিটালাইজেশনের কথা মুখে মুখেই শুনে গেলাম। তার কোনো প্রয়োগ এখনো দেখলাম না। পরীক্ষার হলে সামাজিক দূরত্ব মেনে ঠিকই পরীক্ষা দেবো কিন্তু এখন গাদাগাদি করে লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দিতে হচ্ছে।

আইসিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক বাবুল ইসলাম বলেন, এবিষয়ে ভিসি স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানোর জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। আশা করছি নভেম্বর মাস থেকে শিক্ষার্থীদের আর লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হবে না।

এবিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির বিষয়ে আমরা অবগত আছি। পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। এরইমধ্যে আইসিটি সেন্টারে কথা বলেছি। আশা করছি আগামীতে এই সমস্যা আর থাকবে না। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সব রকমের ব্যবস্থা করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম