যেসব শর্তে বাংলাদেশে খেলতে রাজি হয়েছে অস্ট্রেলিয়া

ঢাকা, রোববার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৫ ১৪২৮,   ১০ সফর ১৪৪৩

যেসব শর্তে বাংলাদেশে খেলতে রাজি হয়েছে অস্ট্রেলিয়া

ক্রীড়া প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:০৮ ৩ আগস্ট ২০২১  

অস্ট্রেলিয়া দল

অস্ট্রেলিয়া দল

করোনার এই সময়ে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশে খেলতে আসবে কি না এ নিয়ে ছিল শঙ্কা। তবে সব শঙ্কা দূর করে কয়েকদিন আগেই ঢাকায় পা রেখেছে অজিরা। আজ পাঁচ ম্যাচের সিরিজের প্রথম টি-২০তে মাঠে নামবে দুই দল। তবে ক্যাঙ্গারুরা খুব সহজে যে বাংলাদেশ সফরে রাজি হয়েছে এমন নয়। বরং এক গাদা শর্ত দেওয়ার পর বিসিবি সেসব মেনে নিলে তবেই রাজি হয়েছে তারা।

সিরিজ শুরুর আগেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে জানিয়ে দেয়া হয়েছিল, তাদের বেধে দেওয়া নিয়ম ও কোভিড সতর্কতা মেনে চললেই কেবল মাঠে খেলা গড়াবে। ঢাকায় বিমানবন্দরে পা রাখার পর অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের ইমিগ্রেশন থেকে শুরু করে হোটেলে কোয়ারেন্টাইন পর্যন্ত সবখানেই তাই লক্ষ্য করা গেছে সতর্ক অবস্থান।

বাংলাদেশে আসার আগেই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) বিসিবিকে জানিয়ে রাখে একটা পুরো হোটেল তাদের জন্য বুক করে রাখতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা যে কয়দিন হোটেলে থাকবেন ততদিন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট যথাযথ কোভিড প্রটোকলের আওতার বাইরের কোন মানুষকেই হোটেলে ঢুকতে দেয়া হবে না।

বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও অন্য একটি হোটেলে একই ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই এই ক্রিকেট সিরিজে খেলছেন। 

করোনাভাইরাসের আবিভার্বের পর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল), পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) মতো ক্রিকেট টুর্নামেন্টগুলো বাতিল ও স্থগিত হয়েছিল। টি-২০ বিশ্বকাপও এখনো হয়নি। এমতাবস্থায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) কোভিড নিয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এর বাইরেও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দেখাশোনা যারা করেন তাদের সুপারিশ মেনে চলেন।

সেই সুপারিশ অনুযায়ী বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় কোভিড সতর্কতা নেয়ার জন্য বিসিবিকে শর্ত দিয়েছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। সিএ শর্ত দিয়েছিল, যতটা সম্ভব কম চলাচল করার। এই কারণে বিসিবির চট্টগ্রামে ম্যাচ খেলানোর চিন্তা ঝেড়ে ফেলতে হয়েছে।

একটি মাঠে খেলা হলে চলাচল থাকবে সুনির্দিষ্ট। তাই পুরো সিরিজের পাঁচ ম্যাচই মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজিত হতে যাচ্ছে। 

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যখন জিম্বাবুয়ে ছিল, যারা বায়ো বাবলে ছিলেন তারাই এক সঙ্গে ঢাকায় ফিরে হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে চলে গেছেন। যে কারণে বায়োবাবল ভেঙে ছুটিতে যাওয়া মুশফিকুর রহিম অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ খেলতে পারছেন না।

বায়োবাবলে না থাকা ক্রিকেটার, ম্যাচ রেফারি ও গ্রাউন্ডসম্যানরা অন্তত ১০দিন কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। এসব মিলিয়ে এই দশদিন বিসিবি সংশ্লিষ্ট মোট দেড়শ জনের মতো কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন।

এছাড়া দেশে আসার পর এর সঙ্গে যোগ হয় আরো কিছু বিধি-নিষেধ। যেমন মাঠে অজি ক্রিকেটাররা থাকার সময় মাঠকর্মী প্রবেশ করা যাবে না। গ্যালারিতে বল গেলে নতুন বলে খেলা শুরু হবে। বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে অজিরা করমর্দন করবেন না ইত্যাদি। 

এ বিষয়ে বিসিবি পরিচালক জালাল ইউনুস বলেন, কোথাও এখন আর কোন বাধা নেই। তাদের সব শর্ত আমরা মেনে নিয়েছি। ম্যাচ এখন গড়াবে। পাঁচ ম্যাচের জন্য দুজন ধারাভাষ্যকার নিয়ে আসা হয়েছে বিদেশ থেকে।

তিনি আরো বলেন, আমরা আশা করছি যাতে পুরো সিরিজটা নিরাপদে শেষ করতে পারি। দিন-রাত ক্রিকেট বোর্ডের মেডিক্যাল ও গ্রাউন্ডস ডিপার্টমেন্ট কাজ করছে। জীবানুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করছে। কীভাবে নিরাপদে এই সিরিজটা শেষকরা যায় সেটাই এখন মুখ্য বিষয়।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

ডেইলি বাংলাদেশ/এএল