পাকিস্তানি ক্রিকেটারের স্ত্রী হয়েও কোহলির পাগল এই নারী

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৫ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ২১ ১৪২৮,   ২৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

পাকিস্তানি ক্রিকেটারের স্ত্রী হয়েও কোহলির পাগল এই নারী

স্পোর্টস ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪৫ ২২ জুন ২০২১  

সামিয়া আলি

সামিয়া আলি

ক্রিকেট মাঠে যে গতিতে বল করেন, সে গতিতে স্ত্রীর ‘মন ঘোরাতে’ পারছেন না পাকিস্তানের হাসান আলী। বিয়ের ২ বছর হয়ে গেলেও ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলির ওপর থেকে স্ত্রীর নজর কিছুতেই নিজের দিকে ঘুরিয়ে আনতে পারছেন না তিনি। 

পাকিস্তানি পেসারের স্ত্রীর প্রিয় ক্রিকেটার কি না বিরাট কোহলি! এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন হাসান-পত্নী। 

পাকিস্তানের এই ‘বৌমা’ আসলে মনেপ্রাণে ভারতীয়, যার নাম সামিয়া আলি। হরিয়ানার মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম সামিয়ার। তার বাবা লিয়াকত আলি ছিলেন হরিয়ানা সরকারের অধীনস্ত সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক। 

হরিয়ানায় জন্ম হলেও গত ১৫ বছর ধরে সপরিবারে ফরিদাবাদে থাকে সামিয়ার পরিবার। ফরিদাবাদেই সামিয়ারা ৬ ভাইবোন একসঙ্গে বড় হয়েছেন।

স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর পর সামিয়া ফরিদাবাদের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেন। তারপর একটি বিমান সংস্থার ইঞ্জিনিয়ার হয়ে দুবাই চলে যান। সামিয়া কর্মসূত্রে দুবাইয়েই থাকতেন।

২৬ বছরের হাসান তখন পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উঠতি তারকা। ৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তেমন সুযোগও পাননি। তার উপর পাকিস্তানি।

দুবাইয়ে একটি টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়েছিলেন হাসান। তখনই এক বন্ধুর মারফত তাদের আলাপ। এরপর ২০১৯ সালে দুবাইয়েই একটি ছোট অনুষ্ঠান করে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের আগে ছিল ১ বছরের বন্ধুত্ব এবং প্রেম।

প্রথম দেখাতেই সামিয়াকে ভাল লেগে গিয়েছিল হাসানের। কিন্তু সামিয়া ক্রিকেট নিয়ে কোনোদিন কৌতূহলী ছিলেন না। তাই হাসানকেও তিনি চিনতেন না। সামিয়ার এই নিরীহ মন ছুঁয়ে গিয়েছিল হাসানকে। প্রথম দিন থেকেই তাদের বন্ধুত্ব হয়ে যায়। ক্রমেই মিশুক এবং যত্নশীল হাসানকে ভাল লেগে যায় সামিয়ার।

এক বছরের বন্ধুত্ব এবং প্রেমের পরই তারা নিজেদের পরিবারকে এই সম্পর্কের কথা জানান। যদিও সীমান্তের দু’পাড়ের দুই পরিবার বিষয়টি কীভাবে নেবে তা নিয়ে দু’জনেই যথেষ্ট ধন্দ্বে ছিলেন।

তবে বাস্তবে হয়েছিল উল্টোটা। হাসানকে নিয়ে যেমন সামিয়ার পরিবারের কোনো আপত্তি ছিল না, তেমনি সামিয়ার কথা জানা মাত্রই তাকে স্বাগত জানান হাসানের পরিবারও।

সীমান্তের দুই পাড়ের রাজনীতির সঙ্গে এই সম্পর্ক কখনো মিশিয়ে ফেলে না তাদের পরিবার। সামিয়ার পরিবার পাকিস্তানকে আলাদা দেশ বলে মনেও করেন না। সে দেশে আজও তার পরিবারের কিছু লোক থাকেন। তাদের সঙ্গে নিত্য যোগাযোগও রাখেন সামিয়ার বাবা। দেশ ভাগের সময়ই তারা পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন।

২০১৯ সালের ২০ আগস্ট হাসান ও সামিয়ার বিয়ে হয়। বিয়েতে অনেক ভারতীয় ক্রিকেটারও আমন্ত্রিত ছিলেন। ওই বছরই একটি বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন হাসান। সে সময় ভারতের ক্রিকেট ভক্তরা তার কড়া সমালোচনা করেছিলেন।

২০২১ সালের ৬ এপ্রিল এই দম্পতির প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। তার নাম রাখা হয়েছে হেলেনা।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

ডেইলি বাংলাদেশ/এএল