বাধা পেরিয়ে ফিফা রেফারি সালমার এগিয়ে যাওয়ার গল্প

ঢাকা, শনিবার   ১৭ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ৪ ১৪২৮,   ০৪ রমজান ১৪৪২

বাধা পেরিয়ে ফিফা রেফারি সালমার এগিয়ে যাওয়ার গল্প

ক্রীড়া প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৫২ ৮ মার্চ ২০২১  

সালমা আক্তার মনি

সালমা আক্তার মনি

একসময় ঘরের বাইরে বের হয়ে কাজ করাই কঠিন ছিল নারীদের জন্য। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে পরিস্থিতি। বাধা, বিড়ম্বনা আর নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে বাংলার নারীরা এখন এগিয়ে চলেছে মাথা উঁচু করে। বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে নিজ কর্মক্ষেত্রে। এমনই একজন নারী সালমা আক্তার মনি। ফিফার সহকারী রেফারি হিসেবে বর্তমানে কাজ করছেন তিনি।

গত বছর দেয়া পরীক্ষায় পাশ করলেও বয়স কম থাকায় ফিফার সহকারী রেফারি হতে পারেননি সালমা। তবে এবার পুনরায় পরীক্ষা দিয়েছেন। যথারীতি পাস করে ২০২১ সালের জন্য ফিফার সহকারী রেফারি নির্বাচিত হয়েছেন নেত্রকোনার এ যুবতী।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে দেশের এক গণমাধ্যমকে অনুভূতি জানাতে গিয়ে সালমা বলেন, সফলতা পেতে সবার আগে প্রয়োজন লক্ষ্য। তারপর চেষ্টা ও বিশ্বাস। লক্ষ্য স্থির না করলে কখনোই সেখানে পৌঁছানো যায় না। লক্ষ্য ছিল বলেই অনেক বাধা, প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে আজ আমি ফিফার সহকারী রেফারি।

তিনি আরো বলেন, মেয়েদের কার্যক্ষেত্র, পরিবার, সমাজ নানা জায়গা থেকেই প্রতিবন্ধকতা আসতে পারে। তবে লক্ষ্যে পৌঁছতে এসব জয় করতে হবে। চলার পথে পরিবারের সহায়তা দরকার হয়, অর্থনৈতিক সহায়তা দরকার পরে। আমি পরিবার থেকে দারুণ সাপোর্ট পেয়েছি। 

নেত্রকোনার মেয়ে সালমা আক্তার মনি স্কুল জীবনে অ্যাথলেটিকস ও হ্যান্ডবল খেলতেন। অথচ তার ক্যারিয়ারের বড় অর্জন ফুটবলে। ফিফার সহকারী রেফারি হওয়া তো আর কম কথা নয়!

ক্যারিয়ারের এই বাঁক পরিবর্তনের কথা জানাতে গিয়ে সালমা বলেন, আমাদের গ্রামের ফিফা রেফারি ফেরদৌস আহমেদ ভাই অ্যাথলেটিকসে আমার রানিং আর ফিটনেস দেখে বাড়িতে গিয়ে মায়ের কাছে প্রস্তাব দিয়েছিলেন যেন আমাকে যাতে রেফারিং শেখান। মা সম্মতি দিলে তখন থেকেই আমার রেফারিং জগতে পথচলা শুরু। 

২০১৩ সালে নেত্রকোনায় ৭ দিনের একটা রেফারিং কোর্স করেছিল বাফুফে। ওই কোর্সে ছেলেদের সঙ্গে একমাত্র নারী ছিলেন সালমা। তখন অনেকেই তাকে বাধা দিয়েছিলেন। অভিযোগ ছিল রেফারিং কোর্সের জন্য তার নাকি বয়স কম ছিল। তারপরও থেমে যাননি সালমা। কোর্সে অংশ নিয়ে তৃতীয় হয়ে সবাইকে চমকে দেন তিনি।

কোর্সের সবগুলো ধাপ পার হয়ে ২০১৬ সালে জাতীয় রেফারি হন সালমা। একসময় অবশ্য নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে রেফারি প্রশিক্ষণটা ছেড়েই দিয়েছিলেন তিনি। সেই কারণ জানাতে গিয়ে এ কৃতি নারী বলেন, ব্যক্তিগত কিছু কারণে আমি ২০১৭ ও ২০১৮ সালে রেফারি প্রশিক্ষণ থেকে দূরে ছিলাম। তবে পরে আমি আবার প্র্যাকটিস শুরু করি। 

নেত্রকোনা সদরের মো. শহর আলী ও রেখা আক্তার দম্পতির ছোট সন্তান সালমা এখন আর শুধু নিজ পরিবারের নন, পুরো দেশের গর্ব। ফিফার সহকারী রেফারি হওয়ার পাশাপাশি পড়াশোনাও পুরোদমে চালিয়ে গেছেন তিনি। নেত্রকোনা আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করেন সালমা। ঢাকার বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর বর্তমানে ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএল