আগামীকাল শুরু হচ্ছে বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপ

ঢাকা, বুধবার   ২০ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৬ ১৪২৭,   ০৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

আগামীকাল শুরু হচ্ছে বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪৬ ২৩ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ২০:১৯ ২৩ নভেম্বর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

অক্টোবরে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ চলাকালীন সময়েই জানানো হয়েছিল সেই টুর্নামেন্ট শেষে পাঁচটি দল নিয়ে আরেকটি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপ নামে নতুন এই টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে আগামীকাল। বেক্সিমকো ঢাকা ও মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে প্রথম আসরের মহারণ। 

ঢাকা ও রাজশাহী ছাড়া আরো তিনটি দল বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপে অংশগ্রহণ করছে। এগুলো হলো ফরচুন বরিশাল, জেমকন খুলনা ও গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম। পাঁচ দলের এই প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৮ ডিসেম্বর। প্রতিদিন দুটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর একদিন করে থাকবে বিরতি। 

টুর্নামেন্টের সবগুলো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। পুরো টুর্নামেন্ট সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টি-স্পোর্টস। 

দিনের প্রথম ম্যাচ শুরু হবে দুপুর দেড়টায়। দ্বিতীয় ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। তবে শুক্রবার দুটি ম্যাচই ৩০ মিনিট পরে শুরু হবে। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল একে অপরের বিপক্ষে দুইবার করে লড়বে। রাউন্ড রবিন লিগ শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ চার দল যাবে পরের রাউন্ডে।

বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের টাইটেল স্পন্সর হয়েছেদেশের শীর্ষ স্থানীয় ইলেক্টনিক্স ও অটোমোবাইল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক নামকরণ হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপ স্পন্সরড বাই ওয়াল্টন’। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে হাই-ভোল্টেজ এই টুর্নামেন্টটির আয়োজন করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বিসিবির ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশও এই টুর্নামেন্টটি। গেল মার্চে করোনার কারনে দেশের ক্রিকেট কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবার পর দেশের ক্রিকেটকে পুনরায় শুরু করতেই বিসিবির এমন পরিকল্পনা। বিসিবি আশা করছে, বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপ দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে ফিরিয়ে আনতে মূখ্য ভূমিকা পালন করবে।

খেলোয়াড়, কর্মকর্তা এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের নিরাপদ জোনে রাখার জন্য জৈব-সুরক্ষা পরিবেশে এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। পাঁচটি দল এবং ৮০ জন ক্রিকেটারসহ প্রায় ৩০০ জন টুর্নামেন্টের শেষ অবধি জৈব-সুরক্ষা পরিবেশের মধ্যে থাকবেন। জৈব-সুরক্ষা পরিবেশে এত বিপুল সংখ্যক লোককে পরিচালনা করা কঠিন কাজ, তবে বিসিবির লক্ষ্য, টুর্নামেন্টটি সফলভাবে আয়োজন করে বিশ্বকে একটি বার্তা দেয়া।

এর আগে ৭০ জনকে জৈব-সুরক্ষা পরিবেশে রেখে ওয়ানডে ফরম্যাটে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ আয়োজন করেছিলো বিসিবি। সাফল্যের সঙ্গে ঐ টুর্নামেন্ট শেষও করেছিলো তারা।

বিসিবির মিডিয়া ও কমিউনিকেশন কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেন, ‘টি-২০ টুর্নামেন্টটি বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের ফলো-আপ টুর্নামেন্ট। যেহেতু সামনে আমাদের অনেক আন্তর্জাতিক ম্যাচ আছে। তাই এই টুর্নামেন্টটি পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে আমাদের সহায়তা করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিদেশি দলগুলোকে জানাতে চাই, আমরা এখানে জৈব সুরক্ষা বলয় পরিবেশ নিশ্চিত করেছি। এই টুর্নামেন্ট ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনে সহায়ক হবে।’

এই টুর্নামেন্টটি বর্তমান পরিস্থিতিতে শীর্ষস্থানীয় এবং নতুন ক্রিকেটারদের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে খেলার সুযোগ করে দিবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন জানিয়েছেন, নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনে বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপ স্থানীয় খেলোয়াড়দের জন্য বড় একটি প্লাটফর্ম।

তিনি বিশ্বাস করেন, আসন্ন টুর্নামেন্টটি একই সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেটকেও উপকৃত করবে। কারণ টিম ম্যানেজমেন্ট অবশ্যই আরো কিছু খেলোয়াড়কে খুঁজে পাবে, যারা জাতীয় দলে জায়গা পূরণ করার যোগ্য।

বিপিএলে বিদেশী খেলোয়াড়দের ছায়ায় থাকতে হয় স্থানীয় ক্রিকেটারদের। এতে স্পটলাইটে আসতে পারে না তারা। বেশিরভাগ সময় স্থানীয় খেলোয়াড়রা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের হয়ে ব্যাটিং বা বোলিংয়ে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পায় না। এবার সবাই ভালো সুযোগ পাবে।

এ ব্যাপারে সুজন বলেন, প্রতিভা প্রদর্শনের জন্য এই টুর্নামেন্টটি স্থানীয় খেলোয়াড়দের জন্য একটি ভাল সুযোগ। খেলোয়াড়রা যেমন স্পটলাইটে যেতে সক্ষম হবে, একই সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটও এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে উপকৃত হবে। এছাড়া বিদেশী ক্রিকেটাররা না থাকায় বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পাবে তরুণ ক্রিকেটাররা।

তিনি আরো বলেন, তরুন ক্রিকেটারদের জন্য এটি খুবই ভালো সুযোগ। যখন বিপিএল শুরু হয়, বিদেশী খেলোয়াড়দের কারণে আমাদের তরুন বোলাররা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বোলিং করতে পারে না। ফলে ডেথ ওভারে আমরা ভালো বোলার খুঁজে বের করতে পারিনি। আমরা এই টুর্নামেন্ট থেকে কিছু প্রতিভাবান ক্রিকেটার পেতে পারি। অনেক তরুণ ক্রিকেটারকে এই আসরে নিজেদের বিসিবির সামনে প্রমাণ করতে হবে।

সুজন মনে করেন, তরুণ খেলোয়াড়দের উন্নতিতে প্রতিযোগিতাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি যোগ করেন, নিজেদের প্রমানের ভালো সুযোগ পেয়েছে তরুণ ক্রিকেটাররা। তারা চার ও পাঁচ নম্বরের মত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ব্যাট করবে এবং ম্যাচ শেষ করে আসতে হবে। এটি তাদের দক্ষতার পরীক্ষা। এই টুর্নামেন্ট থেকে তারা অনেক কিছুই শিখতে পারবে। তারা কিভাবে চাপকে নিতে পারবে, সেটিই এখন  দেখার বিষয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএস/এএল