ট্রেনের মূর্তিমান আতঙ্ক ‘পাথর’: কেউ হারিয়েছেন চোখ, কেউবা প্রাণ

ঢাকা, সোমবার   ২৯ নভেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ১৫ ১৪২৮,   ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

ট্রেনের মূর্তিমান আতঙ্ক ‘পাথর’: কেউ হারিয়েছেন চোখ, কেউবা প্রাণ

তানভীর রাসিব হাশেমী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১২ ৩ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১৮:৫০ ৩ অক্টোবর ২০২১

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

জীবনের তাগিদে প্রায়ই আমাদের দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে হয়। দূরপাল্লার যাত্রার ক্ষেত্রে সবাই বাস, ট্রেন, লঞ্চ কিংবা অন্যান্য যানবাহন ব্যবহার করে থাকেন। তবে তুলনামূলক আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য অনেকেই ট্রেনকে বেশি বেছে নেন। তাছাড়া চলাচলের ক্ষেত্রে ট্রেনের ভাড়াও সাশ্রয়ী, নিরাপদও বটে। বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় ট্রেন ভ্রমণ হয়েছে আরো আধুনিক ও আরামদায়ক। এতকিছুর পরেও ট্রেনে ভ্রমণরত অবস্থায় আতঙ্কে থাকছেন ট্রেনের যাত্রীরা। কিন্তু কী এই মূর্তিমান আতঙ্ক? চলন্ত ট্রেনে ঢিল ছুঁড়ছে একদল দুর্বৃত্ত। সেসব ঢিলে ভাঙছে জানালার কাঁচ। কখনও সেই ঢিল এসে লাগছে যাত্রীদের চোখে-মুখে। শিশুসহ যাত্রীদের প্রাণও গেছে ঢিলের আঘাতে।

১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল উপ-মহাদেশে যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হওয়ার পর থেকে কোনো না কোনো স্থানে শিশু ও দুষ্কৃতিকারীদের দ্বারা চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম নয়। স্বাধীনতা উত্তরকালে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে এবং ক্রমেই তা ভয়াবহ সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের হার বেড়েছে এবং এতে ট্রেনের গার্ড, কর্মচারীসহ যাত্রীরা আহত হয়েছেন। এতে কেউ চোখ হারিয়েছেন, এমনকি মৃত্যুবরণের ঘটনাও ঘটেছে। মূলত চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের কারণে ঘটে যাওয়া এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাই আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে যাত্রীদের মাঝে। ফলে দিনদিন ট্রেন ভ্রমণে আগ্রহ হারাচ্ছেন তারা।

বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় ট্রেন ভ্রমণ হয়েছে আরো আধুনিক ও আরামদায়ক - ফাইল ছবি

বাংলাদেশের পথে প্রান্তরে ছড়িয়ে থাকা প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার রেলপথ দিয়ে ট্রেন চলাচলের সময় এ ধরণের পাথর নিক্ষেপের ঘটনা প্রায়শই ঘটে। গত কয়েক বছরে এ ধরনের ঘটনায় নিহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। ২০১৩ সালে চট্টগ্রামে প্রীতি দাশ নামের একজন প্রকৌশলী নিহত হবার পর বেশ শোরগোল হয় বিষয়টি নিয়ে। প্রীতি দাশ নিহত হওয়ার পর রেলওয়ের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির সদস্য রেলওয়ে কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, দুষ্কৃতকারীরা ইচ্ছা করে ট্রেনে ঢিল ছুঁড়ে ওই ঘটনা ঘটিয়েছে। ওই ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। 

গেল ৯ মাসেই ১১০ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ

১০৩টি জানালা ভেঙে আহত ২৯

২০১৮ সালে ঠিক একই কারণে নিহত হন রেলেরই একজন পরিদর্শক। ওই বছরের ৩০শে এপ্রিল খুলনা-বেনাপোল রুটের বেনাপোল কমিউটার ট্রেনে দায়িত্ব পালন করছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিদর্শক বায়োজিদ শিকদার। বেনাপোল থেকে খুলনা যাওয়ার পথে দৌলতপুর স্টেশন এলাকায় দুর্বৃত্তরা ট্রেনে পাথর ছুঁড়ে মারে। এতে আহত হন বায়োজিদ শিকদার। পরে তাকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে ঢাকায় এনে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর কিছুদিন পর তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪১ দিনের মাথায় ১২ই জুন বায়োজিদ মারা যান। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে চার জনকে আসামি করে মামলা করা হয়।

পাথরের আঘাতে ইঞ্জিন কামরার জানালার কাচ ভেঙে সহকারী ট্রেনচালকের দুই চোখে বিদ্ধ হয়, বর্তমানে তার এক চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে - ডেইলি বাংলাদেশ

সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ঢাকাগামী কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে দুর্বৃত্তরা পাথর নিক্ষেপ করে। এ সময় পাথরের আঘাতে ইঞ্জিন কামরার জানালার কাচ ভেঙে সহকারী ট্রেনচালকের দুই চোখে বিদ্ধ হয়। তিনি গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তার এক চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। 

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের হিসাবে, গত পাঁচ বছরে ট্রেনে পাথর ছুঁড়ে ২ হাজারের বেশি জানালা-দরজা ভাঙার ঘটনা ঘটেছে।

রেলপথমন্ত্রী যা বলছেন-

রোববার দুপুরে রেলভবনের যমুনা সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন জানিয়েছেন, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ১১০টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় রেলের ক্ষতির পাশাপাশি ২৯ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় বিভিন্ন ট্রেনের ১০৩টি জানালা ভেঙে গেছে। আহত হয়েছেন ২৯ জন। 

রেলভবনের যমুনা সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন - ডেইলি বাংলাদেশ

নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ একটি ভয়াবহ সমস্যা। বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ডের মতো উন্নত দেশগুলোতেও এই সমস্যা রয়েছে। সেখানে ট্রেনের জানালায় নিক্ষেপ করা বড় পাথর দ্বারা যাত্রী এবং ট্রেনের কর্মীরা আহত হয়েছেন। এ বিষয়টি বলার কারণ—উন্নত বিশ্বেও এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকে। চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বর্তমানে বাংলাদেশের ভয়াবহ সমস্যা।

পাথর নিক্ষেপপ্রবণ এলাকা

রেলওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় দেশের পাথর নিক্ষেপপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। পূর্বাঞ্চলের চারটি জেলার পাঁচটি চিহ্নিত এলাকা হলো- চট্টগ্রামের পাহাড়তলী, সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড, ফেনীর ফাজিলপুর-কালীদহ এবং নরসিংদী জেলার নরসিংদী, জিনারদী ও ঘোড়াশাল এলাকা।

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বর্তমানে বাংলাদেশের ভয়াবহ সমস্যা - ফাইল ছবি

অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলের ১০টি জেলার ১৫টি এলাকা হলো- চুয়াডাঙ্গার চুয়াডাঙ্গা আউটার, নাটোরের আব্দুলপুর রেলওয়ে স্টেশন, সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী রেলওয়ে স্টেশন, বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম রেলওয়ে স্টেশন, পাবনার মুলাডুলি রেলওয়ে স্টেশন, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার কিসমত-রুহিয়া, পাবনার ভাঙ্গুরা রেলওয়ে স্টেশন, বগুড়ার ভেলুরপাড়া রেলওয়ে স্টেশন, গাইবান্ধার বামনডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর রেলওয়ে স্টেশন, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশন, সলপ রেলওয়ে স্টেশন, জামতৈল রেলওয়ে স্টেশন, পাবনার বড়ালব্রিজ রেলওয়ে স্টেশন এবং খুলনার ফুলতালা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা।

আইন কি বলে?

বাংলাদেশ রেলওয়ে আইন (১৮৯০)–এর ১২৭ ধারায় চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।

আইনে বলা হয়েছে, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের জন্য ১০ হাজার টাকা জরিমানার পাশাপাশি ১০ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। আর কোনো রেলযাত্রী মারা গেলে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় ফাঁসির বিধান ও পাথর নিক্ষেপকারী অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে সেক্ষেত্রে তার অভিভাবককে শাস্তি ভোগ করতে হবে।

জড়িতদের বেশিরভাগই শিশু-কিশোর

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ট্রেনে পাথর ছোঁড়ার যেসব ঘটনা ঘটে, তার সঙ্গে জড়িত কমবেশি ৮০ ভাগই শিশু–কিশোর। তাদের আটক করা হলেও বেশিরভাগ সময় মুচলেকা দিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণত শিশু কিশোররা এক হয়ে এই পাথর নিক্ষেপের মতো ‘নিষ্ঠুর খেলা’য় মেতে ওঠে। এতে প্রায়ই যাত্রীরা গুরুতর আহত হচ্ছেন। ক্ষতি হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ট্রেনের।

সাম্প্রতিক সময়ে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের হার অনেক বেড়েছে - ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, জড়িতদের বেশিরভাগই শিশু। তাদের অধিকাংশই পাগল, ভবঘুরে ও টোকাই। কয়েকজন টিনএজার একসঙ্গে হলেই ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়ে মারে। আমরা এসব শিশু কিশোরকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তারা কোনও কারণ বলতে পারে না। অকারণেই তারা ট্রেনের জানালা টার্গেট করে পাথর নিক্ষেপ করে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, পাথর নিক্ষেপপ্রবণ চিহ্নিত এলাকাগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এছাড়া পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় হতাহত ঠেকাতে কোচের জানালায় নেট লাগানো কথাও ভাবছে মন্ত্রণালয়।

ট্রেনের কোচের জানালায় নেট লাগানো কথা ভাবছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ

অপরাধ বিশ্লেষকরা যা বলছেন

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, চলন্ত ট্রেনে পাথর ছুঁড়ে মানুষকে হত্যা ও আহত করার বিষয়টি অমানবিক। বছরের পর বছর থেকে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। কারণ প্রতিটা রেলওয়ে স্টেশনের আশপাশে অপরাধীরা ওঁৎ পেতে থাকে। স্টেশন থেকেই নানা অপরাধের সৃষ্টি হয়। ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য নিরাপদে ট্রেন ভ্রমণে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। ঢিল ছোড়া দুষ্কৃতকারীদের এমন দৌরাত্ম্যের কারণে রেলওয়ের পক্ষ থেকে এই অপরাধ বন্ধে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এই অপরাধ বন্ধে জরিমানাসহ অন্যান্য শাস্তি বাড়িয়ে বিদ্যমান আইন সংশোধনের সুপারিশ করেছেন তারা।

দুষ্কৃতকারীদের এমন দৌরাত্ম্যের কারণে রেলওয়ের পক্ষ থেকে এই অপরাধ বন্ধে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন - ফাইল ছবি

রেলওয়ে পুলিশের পুরস্কার ঘোষণা

সম্প্রতি পাথর নিক্ষেপকারীদের ধরতে পুরস্কার ঘোষণা করেছে রেলওয়ে পুলিশ। চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপকারীর তথ্য দিলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে তারা। রেলওয়ে পুলিশ জানায়, রেললাইনের পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বস্তি, দোকানপাট ও নানা স্থাপনার আশপাশ থেকে ছোড়া হয় পাথর। পাথর নিক্ষেপের ঘটনা সবচে বেশি ঘটে সিলেট ও চট্টগ্রাম রুটে। ওই সব এলাকায় পুলিশি তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি পাথর নিক্ষেপকারী সম্পর্কে তথ্য দিলে নগদ ১০ হাজার টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছে রেলওয়ে পুলিশ।

পাথর নিক্ষেপকারীর তথ্য দিলেই ১০ হাজার টাকা পুরস্কার

তুলতে হবে ছবি, দিতে হবে রেলওয়ে পুলিশকে

ঢাকা জেলা রেলওয়ে পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, কেউ পাথর ছুঁড়েছে, এমন দেখলে কেউ ছবি তুলে আমাদের দিতে পারেন, অথবা প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বলতে পারেন আমাদের, এক্ষেত্রে আমরা নগদ ১০ হাজার টাকা দেওয়ার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এখন সবাই স্মার্ট মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। চলন্ত ট্রেনে কে পাথর ছুঁড়ছে, তা যদি ট্রেনের কোনো যাত্রী দেখতে পান এবং ছবি তুলে রাখেন, সেটি আমাদের জানালে আমরা পাথর নিক্ষেপকারীকে দ্রুত খুঁজে পাব। পাশাপাশি যেসব এলাকায় পাথর নিক্ষেপ করছে, সেসব এলাকার লোকজনও যদি দেখে থাকে এবং আমাদের জানায়, তাহলে আমাদের জন্য কাজটি করতে আরো সুবিধা হবে। যিনি আমাদের পাথর নিক্ষেপকারীর তথ্য দেবেন, তাকে ১০ হাজার টাকা পুরস্কৃত করব।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ রোধে সামাজিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ক্যাম্পেইন কর্মসূচি পালন করা যেতে পারে। প্রত্যেক মসজিদে জুমার বয়ানে ইমাম সাহেব এ বিষয়ে জনসাধারণকে অবহিত করতে পারে।

তুলনামূলক আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য অনেকেই ট্রেনকে বেশি বেছে নেন - ফাইল ছবি

তারা বলছেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা জোরদার করা, রেলের জনবল বাড়ানোসহ ইত্যাদি দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। প্রতিটি ট্রেনে রেলওয়ে পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীকে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে রেলওয়ে পুলিশকে নিরপেক্ষ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের খুঁজে বের করতে হবে। 

বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি তথ্য ও অনুসন্ধানমূলক গ্রুপ- বাংলাদেশ রেলওয়ে ফ্যানস ফোরামের অ্যাডমিন মো. তানজির পারভেজ ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে সমাজের পাশাপাশি পরিবারেরও সচেতনতা বাড়াতে হবে। এর কুফল নিয়ে আলোচনা করতে হবে। পাথর নিক্ষেপে ভুক্তভোগী ব্যক্তির পাশাপাশি রাষ্ট্রেরও বহুবিধ ক্ষতি সাধন হয়। তাই আসুন পরিবারের, সমাজের ও রাষ্ট্রের কল্যাণে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ থেকে নিজে বিরত থাকি, অন্যকেও বিরত থাকতে উদ্বুদ্ধ করি।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ