আল জাজিরার প্রতিবেদন ভিত্তিহীন দাবি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৫ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ২ ১৪২৮,   ০২ রমজান ১৪৪২

আল জাজিরার প্রতিবেদন ভিত্তিহীন দাবি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের

আশিক ইসলাম, রাবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:০২ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৫:৩৭ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। ছবি: সংগৃহীত

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। ছবি: সংগৃহীত

চলতি মাসের শুরুতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বাংলাদেশকে নিয়ে ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স মেন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ভিত্তিহীন, মানহানিকর ও যথাযথ তথ্যপ্রমাণহীন এ প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে সংবাদমাধ্যমটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে। টেলিভিশন নেটওয়ার্কটি এর আগেও বাংলাদেশ সম্পর্কে বিভ্রান্তিমূলক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করে দেশ ও দেশের বাইরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালিয়েছে।

আল জাজিরা দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম শুরু হলে সে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়েছিল, এমনকি মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল। এছাড়া শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনে বিপুলসংখ্যক মানুষ মারা গিয়েছিল বলে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করেছিল।

দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের শিক্ষকগণ এই পরিপ্রেক্ষিতে বলছেন যে, আল জাজিরার ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স মেন’ একটি ভিত্তিহীন প্রতিবেদন। এটা দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য একদল স্বার্থান্বেষী মানুষ কর্তৃক দেশের বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্র মাত্র। আল জাজিরাকে তথ্য সন্ত্রাসী মিডিয়া ও হলুদ সাংবাদিকতার ধারক হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন তারা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আশরাফুল ইসলাম খান বলেন, বাংলাদেশ দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২১ ও ২০৪১ সালের টার্গেট পূরণে আমরা প্রস্তুত, যা দেশ ও দেশের বাইরে সব মানুষের কাছে রোল মডেল হিসেবে আলোচনায় আসছে। সমসাময়িক চিত্র লক্ষ্য করলে দেখা যাবে ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের মিডিয়াতে বাংলাদেশের উন্নয়নগুলো প্রচার হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিতর্কিত কিছু লোকজন বা কুচক্রীমহল আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে হেয় করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। তারা মিথ্যা, ভিত্তিহীন কিছু অভিযোগ দাঁড় করাচ্ছে। দেশের উন্নয়নে প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। এটাকে ভিন্নখাতে বা ভিন্নভাবে অপ্রচার করা তাদের দ্বারাই সম্ভব, যারা দেশের ভালো চান না।

তিনি আরো বলেন, একটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি কোনো মিডিয়া এভাবে বলার এখতিয়ার রাখে না। আমরা আল জাজিরার অপপ্রচার, অপপ্রয়াস এবং এর সঙ্গে যারা জড়িত আছে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাই। নিঃসন্দেহে এটি একটি অপপ্রচার, ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র। আমাদের এসব অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে, সেই সঙ্গে প্রত্যেকের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর কবির বলেন, আল জাজিরার ডকুমেন্টারি একাধিকবার দেখেও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহীকে জড়ানোর মতো কোনো বিষয় কোনোভাবেই সেখানে আমি খুঁজে পাইনি। বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং আরো উন্নতি করছে। আমরা করোনা পরিস্থিতি ভালোভাবে মোকাবিলা করেছি। এখন আমাদেরকে মানসিকভাবে দুর্বল ও উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতেই এ ধরনের ডকুমেন্টারি। বাংলাদেশ যখন সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করা যায় কিনা আল জাজিরার ডকুমেন্টারি তারই এক অপচেষ্টা বলে আমি মনে করি।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশীদ আসকারী বলেন, আল জাজিরার বাংলাদেশ বিদূষণ এটা কোনো নতুন ঘটনা নয়। এর আগেও অনেকবার বাংলাদেশকে নিয়ে এমন মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশকে যারা এক সময় ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিল, সেই ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ ঘোষিত বাংলাদেশকে বর্তমানে সবচাইতে দ্রুতগামী বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশে রূপান্তরিত করেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। তাদের টার্গেট সরাসরি প্রধানমন্ত্রী। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে কোনোভাবে আক্রমণ করার মতো সংগত কারণ না পেয়ে আল জাজিরা পরোক্ষভাবে তীরটি তার দিকে ছুড়েছে। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আল জাজিরা ঘোলা জলে মাছ শিকারের যে চেষ্টায় নেমেছে, এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক আদালতে এর বিপক্ষে শক্তভাবে দাঁড়ানো উচিত। কেননা বাংলাদেশ তথ্য সন্ত্রাসের কাছে মাথা নত বা বশ্যতা স্বীকার করার মতো দেশ নয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে/এইচএন