ডেভিড বার্গম্যানকে নিয়োগ করে জামায়াত

ঢাকা, বুধবার   ২৩ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৯ ১৪২৮,   ১১ জ্বিলকদ ১৪৪২

ডেভিড বার্গম্যানকে নিয়োগ করে জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:১১ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৫:৪২ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

বিতর্কিত ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি জামায়াতে ইসলামীর একজন লবিস্ট। ছবি: সংগৃহীত

বিতর্কিত ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি জামায়াতে ইসলামীর একজন লবিস্ট। ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন এমনকি রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে আল জাজিরার বস্তুনিষ্ঠতা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরতে একের পর এক বিতর্কিত প্রতিবেদন করেছে কাতারভিত্তিক এ সংবাদমাধ্যমটি। আর এসব সংবাদের অধিকাংশই করেছেন বিতর্কিত ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি জামায়াতে ইসলামীর একজন লবিস্ট। এ চরমপন্থী গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করেন তিনি।

আল জাজিরার রিপোর্টে একসময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন যুদ্ধাপরাধীদের ‘ইসলামী ক্লার্জি’ বা ‘ইসলামী বুদ্ধিজীবী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হতো। এসময় বার্গম্যান যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন এবং তাদের বাঁচাতে নানা অপচেষ্টা চালান। যেভাবেই সুযোগ পেয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু তার সব উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। এমনকি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের রায় নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় জরিমানাও গুনতে হয়েছে তাকে; এজলাসে বসে থাকতে হয়েছে দিনভর।

ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন বিষয়ে সমালোচনা, ব্লগে আপত্তিকর মন্তব্য ও মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় আদালত অবমাননার দায়ে ২০১৪ সালের ২ ডিসেম্বর ডেভিড বার্গম্যানকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে সাতদিনের কারাদণ্ড দেন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শুধু তাই নয়, ওইদিন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত এজলাস কক্ষে বসে থাকারও নির্দেশ দেয়া হয়। দীর্ঘ রায়ে বার্গম্যানের সমালোচনা করে ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য প্রতিবেদন লেখার ক্ষেত্রে সর্তক করে দিয়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, বিশেষ গোষ্ঠী যারা ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রমকে বিতর্কিত করতে চায় তাদের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছেন বার্গম্যান।

শুধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়েই নয়, বাংলাদেশের সামাজিক কিংবা রাজনৈতিক আন্দোলন, ইস্যু ও সংকট নিয়েই বার্গম্যানের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। বাংলাদেশকে হেয় করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে জামায়াতে ইসলামীর এজেন্ডা বাস্তবায়নে মেতেছিলেন তিনি।

২০১৪ সালে যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীর নেতা মীর কাশেম আলীর ফাঁসির রায়ের পর মরিয়া হয়ে ওঠে আল জাজিরা। পরদিনই জামায়াতের নিয়োগ করা লবিস্ট টবি ক্যাডম্যান ও ডেভিড বার্গম্যানকে নিয়ে আয়োজন করা হয় এক অনুষ্ঠানের। ‘হোয়াটস বিহাইন্ড বাংলাদেশ ওয়ার ক্রাইমস ট্রায়াল’ নামক ওই অনুষ্ঠানে যুদ্ধাপরাধের বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে নানা বক্তব্য দেন টবি ও বার্গম্যান। যুদ্ধাপরাধের বিচার চলাকালীন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সমান সুযোগ পেলেও অনুষ্ঠানে এক তরফা বিচার বলে প্রচার করেন টবি ও বার্গম্যান।

শুধু তাই নয়, মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলে ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন বার্গম্যান। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এবং দলটির সাবেক সদস্য (রুকন) আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে দেয়া রায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেছেন, মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশে ৩০ লাখ মানুষ শহিদ হন, আড়াই লাখ নারী সম্ভ্রম হারান আর প্রায় এক কোটি মানুষ দেশ ছেড়ে পার্শ্ববর্তী দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। কিন্তু বার্গম্যান তার ব্লগে লিখেছেন, ট্রাইব্যুনালের রায়ে দেয়া এসব তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই।

এ ঘটনায় ২০১৪ সালে ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি হতে হয় বার্গম্যানকে। ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে নিহতের সংখ্যা নিয়েও মিথ্যাচার ছড়িয়েছিলেন বার্গম্যান।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে/এইচএন