বার্গম্যানের কাজে ‘সাংবাদিকতার চেয়ে অ্যাক্টিভিজম’ ও পক্ষপাত গুরুত্ব পায়

ঢাকা, বুধবার   ০৪ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ২১ ১৪২৮,   ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

বার্গম্যানের কাজে ‘সাংবাদিকতার চেয়ে অ্যাক্টিভিজম’ ও পক্ষপাত গুরুত্ব পায়

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২৩ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৪:২৬ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ডেভিড বার্গম্যান। ছবি: সংগৃহীত

ডেভিড বার্গম্যান। ছবি: সংগৃহীত

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরায় বাংলাদেশ সরকার নিয়ে ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স ম্যান’ শীর্ষক বিতর্কিত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে সমালোচিত হচ্ছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান। বিতর্কিত কাজের জন্য এর আগেও তিনি সমালোচিত ও একাধিকবার চাকরি হারিয়েছিলেন।

অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী তাকে কাছে থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা সম্প্রতি এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তুলে ধরেছেন তিনি। খালিদী জানান সাংবাদিক হিসেবে বার্গম্যান অপরিণত, যিনি সাংবাদিকতার বিষয়গুলো সম্পূর্ণ বুঝে উঠতে পারেননি। শুধু তাই নয়, তার কাজে ‘সাংবাদিকতার চেয়ে অ্যাক্টিভিজম’ বেশি গুরুত্ব পায় এবং ‘পক্ষপাতদুষ্ট’। 

বার্গম্যান সম্পর্কে খালিদী বলেন, তার (বার্গম্যানের) এক ধরনের এজেন্ডা আছে, যা বোঝা যায় তার সঙ্গে কাজ করলে। তিনি জানান, ২০১০ সালে ৬ মাসেরও কম সময় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে কাজ করেছেন বার্গম্যান। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে প্রধান সম্পাদক বলেন, আমরা ডেসপারেটলি একজন ইংরেজি কপি রাইটার খোঁজ করছিলাম। আমার তখন সাংবাদিক, রিপোর্টার বা এডিটরিয়াল লিডার দরকার ছিল না। আমার দরকার ছিল ইংরেজি শুদ্ধ করে দেবে এই রকম নেইটিভ স্পিকার। সুতরাং আমরা খুশি হয়ে তাকে নিয়েছিলাম। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে বার্গম্যানের বিভিন্ন প্রশ্নের মধ্য দিয়ে তাকে চেনার বিষয়টিও আলোচনায় তুলে ধরেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী। কিছু কিছু হেডলাইনে বার্গম্যানের সঙ্গে মতান্তর হলে খালিদী তাকে জানান যে, জার্নালিজম ও অ্যাক্টিভিজমের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বার্গম্যান অ্যাক্টিভিস্ট বা ব্লগার হিসেবেই চিন্তা করেন, জার্নালিস্ট হিসেবে নয়।

২০১০ সালের মার্চে বার্গম্যান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে যোগ দেন। ওই বছরের আগস্টে চলে যান। ব্যক্তিগতভাবে বার্গম্যানের প্রতি কোনো আক্রোশ বা অন্য কিছু নেই মন্তব্য করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক বলেন, চলে যাওয়ার পর তিনি দীর্ঘদিন ধরে আমার সহকর্মীদের কাছে আমাদের কোম্পানি ও আমার বিরুদ্ধে অনেক কথা বলার চেষ্টা করেছেন।

বার্গম্যানের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে প্রতিবেদন হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তৌফিক ইমরোজ খালিদী বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে বার্গম্যানের অসম্ভব উৎসাহ ছিল, যা আমার কাছে অস্বাভাবিক বলে মনে হয়েছে।

উল্লেখ্য, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করতে উদ্দেশ্যমূলক প্রচার চালানোর অভিযোগে ২০১৪ সালে ডেভিড বার্গম্যানকে আদালত অবমাননার দায়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। যুদ্ধাপরাধী আবুল কালাম আযাদের মৃত্যুদণ্ডের রায়কে কেন্দ্র করে একটি ব্লগে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ লেখার কারণে তাকে ওই শাস্তি দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স মেন’ প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে তৌফিক খালিদী বলেন যে, তার প্রতিবেদনে পক্ষপাত রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে/এইচএন