শিশুকালেই অপরাধের হাতেখড়ি আল জাজিরার ‘বানোয়াট’ ফিল্মের মূল চরিত্র সামির

ঢাকা, শনিবার   ০৮ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৬ ১৪২৮,   ২৫ রমজান ১৪৪২

শিশুকালেই অপরাধের হাতেখড়ি আল জাজিরার ‘বানোয়াট’ ফিল্মের মূল চরিত্র সামির

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০৭ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৭:০৭ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আল জাজিরার ‘বানোয়াট’ ফিল্মের মূল চরিত্র সামি। ছবি: সংগৃহীত

আল জাজিরার ‘বানোয়াট’ ফিল্মের মূল চরিত্র সামি। ছবি: সংগৃহীত

কখনও তানভীর সাদাত, কখনও সায়ের জুলকারনাইন, আবার কখনও জুলকারনাইন সায়ের খান। এভাবে নাম বদলে প্রতারণাসহ অগণিত অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিটিই আল জাজিরার ‘বানোয়াট’ ফিল্মের মূল চরিত্র সামি। ডেইলি বাংলাদেশের অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিশুকালেই অপরাধের হাতেখড়ি হয়ে যায় তার।

আল জাজিরা ইস্যুতে তার সহপাঠী ও পরিচিতরাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব অভিযোগ করেছেন। ‘সামিউল আহমেদ খান’ ওরফে সামির নিকট আত্মীয় ও বন্ধু-সহপাঠিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এমন কোনো অপরাধ নেই যার সঙ্গে তিনি (সামি) জড়াননি। শিশুকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত যার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই।

ডেইলি বাংলাদেশের তিন পর্বের অনুসন্ধানের প্রথম পর্বে বারবার ভোল পাল্টানো ‘সামিউল আহমেদ খান’ ওরফে সামির অপরাধের হাতেখড়ি নিয়ে থাকছে বিশেষ প্রতিবেদন।

সামির বাবার নাম মো. আবদুল বাসেত খান। তার চার সন্তানের মধ্যে সামিউল আহমেদ খান সবার বড়। জন্ম ১৯৮৪ সালে হলেও স্কুলের তথ্য মোতাবেক তার জন্ম তারিখ ৮ অক্টোবর, ১৯৮৬। 

১৪ বছর বয়সে সামি মাকে হারায়। তার দুই বছর পর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সৎ মায়ের সংসারে থাকার সময় থেকেই অন্ধকার জগতে পা বাড়ায় সামি। একের পর এক তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ উঠতে থাকে। চুরি বিদ্যায় এতোটাই পারদর্শী হয়েছিলেন যে, নিজের আত্মীয় স্বজনদেরও পকেট মারতেন তিনি।

স্কুল জীবনে ক্যাডেট কলেজ থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর ভর্তি হন কুমিল্লার ইস্পাহানি স্কুলে। এ সময় ড্রাগ নেয়া, মেয়েদের উত্যক্ত করাসহ নানা অভিযোগ ওঠে সামির বিরুদ্ধে। মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে সহপাঠীরাও তাকে এড়িয়ে চলতো।

কৈশোর বয়সে চুরিতে হাত পাকান সামিউল আহমেদ খান ওরফে সায়ের জুলকারনাইন ওরফে সামি। ১৭ বছর বয়সে ২০০০ সালের ৩০ জানুয়ারি ইসিবিতে কর্মরত মেজর ওয়াদুদের বিদেশ থেকে আনা ট্র্যাক স্যুট চুরি করে ধরা পড়েন। একই বছরের জুলাই মাসে টাইগার অফিসার্স মেস থেকে হাতির দাঁত চুরি করে চট্টগ্রামের নিউ মার্কেটে অঙ্গনা জুয়েলার্সে বিক্রি করতে গিয়েও ধরা পড়েন।

বাবার চাকরির সুবাদে নিজেকে কখনও সেনাবাহিনীর সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট, কখনও ক্যাপ্টেন হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিতেন। ২০০১ সালের ২৮ ও ২৯ এপ্রিল ঢাকা সেনানিবাসে নিজেকে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করেন সামি। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বন্ধু উৎপলের কাছে নিজেকে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে প্রমাণের জন্য বেল্ট, বুট ও র‍্যাংক ইউনিফর্ম কেনেন। 

উৎপলের বাসা থেকেই সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম পরে ট্যাক্সি ক্যাব দিয়ে সেনানিবাসসহ ঢাকার একটি পত্রিকা অফিস, রাপা প্লাজা, ধানমন্ডি ও চিড়িয়াখানা ঘুরে জাহাঙ্গীরগেট হয়ে সিএমএইচে প্রবেশের সময় দুপুর ২টায় মিলিটারি পুলিশের (এমপি) হাতে ধরা পড়েন সামি। এর ঠিক দু’দিন পর ২ মে বাবার অঙ্গীকারনামায় আর্মি এমপি ডেস্ক থেকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।  

২০০৬ সালের ২০ জুলাই র‌্যাব কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে রাজধানীর ফার্মগেটের এজে টেলিকমিউনিকেশন থেকে ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার মোবাইল ফোন কিনে একটি ভুয়া চেক দেন। একইভাবে প্রাইজ ক্লাব নামক একটি কম্পিউটার ফার্ম থেকে ১০টি ল্যাপটপ কেনার কথা বলে, পরে চেক দিয়ে ২টি ল্যাপটপ  নিয়ে আসেন। চেক ডিজঅনার হলে অভিযোগের ভিত্তিতে র‍্যাব-১ তাকে গ্রেফতার করে। 

এ ঘটনার পর তাকে পিএনজি ঘোষণা করে সব সেনানিবাস ও দফতরে অবাঞ্ছিত করা হয়। এর পর অনিয়ন্ত্রিত ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের জন্য সামিকে ত্যাজ্য করেন তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল বাসেত। পরদিন ২০০৬ সালের ২৩ জুলাই এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে