বাবার রিকশার সন্ধানে ঢাবি শিক্ষার্থী রফিকুল

ঢাকা, বুধবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১৫ ১৪২৭,   ১২ সফর ১৪৪২

বাবার রিকশার সন্ধানে ঢাবি শিক্ষার্থী রফিকুল

ধ্রুব ইকরামুল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:২৬ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:৫০ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

রফিকুল ইসলাম ও তার বাবার রিকশা

রফিকুল ইসলাম ও তার বাবার রিকশা

মিরপুরের বাসিন্দা আলাউদ্দিন হোসেন, পেশায় একজন রিকশাচালক। একসময় রিকশা চালনা বাদ দিয়ে রিকশা কারিগর হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন জীবিকার মাধ্যম। কিন্তু করোনার ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে ছয় মাস আগে নতুন করে রিকশা তৈরি করে নিজেই নামতে বাধ্য হন রাজপথে। শখ করে নিজের রিকশার নামও দিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একমাত্র ছেলে রফিকুলের নামে। আর সেই ছেলেই এখন হন্যে হয়ে খুঁজছেন বাবার রিকশা।

গত ২৬ আগস্ট মধ্যরাতে রাজধানীর ফার্মগেট থেকে তিনজন যাত্রীবেশে মিরপুর-২ নম্বরের উদ্দেশ্যে উঠেন আলাউদ্দিন এর রিকশায়। কিন্তু সেখানে পৌঁছালে, না নেমে আবার মিরপুর-৬ এ যেতে চান তারা। এরপর সেখানে একটি নিরিবিলি রাস্তায় একজন যাত্রী পেছন থেকে গলা চেপে ধরে এবং বাকি দুজন কিল, ঘুষি মারতে থাকেন। একপর্যায়ে আলাউদ্দিন অজ্ঞান হয়ে গেলে রিকশা নিয়ে পালিয়ে যান ছিনতাইকারীরা।

পরের দিন সকালে মিরপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তার ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও বিমা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. রফিকুল ইসলাম।

সম্প্রতি রিকশার সন্ধান চেয়ে ফেসবুকের কয়েকটি পাবলিক গ্রুপে রিকশার ছবি সহ পোস্ট দিয়েছেন রফিকুল।

এ প্রসঙ্গে রফিকুল ডেইলি বাংলাদেশ-কে বলেন, এতোদিন অপেক্ষায় ছিলাম পুলিশ কোনো সন্ধান দিতে পারে কি না। কিন্তু তেমন কোনো অগ্রগতি না দেখেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করি যাতে কেউ এরূপ রিকশা দেখলে আমাদের খোঁজ দিতে পারে।

তিনি বলেন এখনো আহত অবস্থাতেই কর্মহীন দিন কাটাচ্ছেন তার বাবা। ডান পা অবশ। দু সপ্তাহ আয় নেই। মা কাজ করছেন পোশাক শ্রমিক হিসেবে, অন্যদিকে লেখাপড়ার পাশাপাশি দুটি টিউশনি করছেন রফিকুল।

রফিকুল অনুরোধ করেন চলার পথে অনুরূপ ডিজাইনের কোনো রিকশা কারো চোখে পড়লে সেটির ছবি তুলে তাকে অবহিত (ফোনঃ ০১৭৭৫৮৮৮১৭১) করার জন্য।

যাত্রীবেশি ছিনতাইকারীদের আইনের আওতায় এনে তাদের থেকে তার বাবার কর্মহীন বিগত দিনগুলোর ক্ষতিপূরণের দাবি জানান রফিকুল।

অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টের কমেন্টে, তার বাবা ও তার পেশার প্রতি সন্তানের ভালবাসা ও শ্রদ্ধাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন নেটিজেনরা।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/EKD