পৃথিবীর চারপাশে ঘুরছে ২০০ ‘টাইম বোমা’, ঘটতে পারে লঙ্কাকাণ্ড!

ঢাকা, সোমবার   ১৪ জুন ২০২১,   আষাঢ় ১ ১৪২৮,   ০২ জ্বিলকদ ১৪৪২

পৃথিবীর চারপাশে ঘুরছে ২০০ ‘টাইম বোমা’, ঘটতে পারে লঙ্কাকাণ্ড!

বিজ্ঞান ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৪১ ৮ মে ২০২১  

পৃথিবীর চারপাশে ঘুরছে মহাকাশের আবর্জনা। ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর চারপাশে ঘুরছে মহাকাশের আবর্জনা। ছবি: সংগৃহীত

চীনা রকেটের ধ্বংসাবশেষ আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই অনিয়ন্ত্রিতভাবে পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কখন এবং কোথায় এটি আছড়ে পড়বে সেটা নির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। এই খবরে তোলপাড় পুরো বিশ্ব। এরই মধ্যে বিজ্ঞানীরা আলোচনায় এনেছেন মহাকাশে আবর্জনা কথা; যা যেকোনো মুহূর্তে ‘টাইম বোমা’র মত বিস্ফোরিত হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মহাকাশে এখন এমন দুইশ’ স্যাটেলাইট পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে, যেগুলো আবর্জনায় পরিণত হয়েছে। এগুলো একেকটা যে ‘টাইম বোমা’। যা বিস্ফোরিত বা অন্য স্যাটেলাইটের ওপর আছড়ে পড়ে লঙ্কাকাণ্ড ঘটতে পারে। খবর বিবিসি

অসংখ্য কৃত্রিম উপগ্রহ পৃথিবীর চারপাশে ঘুরছে। প্রতিনিয়তই পৃথিবী থেকে এমন উপগ্রহ পাঠানো হচ্ছে। মহাকাশে যতই কৃত্রিম উপগ্রহ বাড়ছে, সেই সঙ্গে ভাঙা, বাতিল ও অকেজো স্যাটেলাইট ও রকেটের টুকরো নিয়ে চিন্তা বাড়ছে বিশেষজ্ঞদের।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র আইএসএস তীব্র গতিতে মহাশূন্যে ঘুরপাক খাচ্ছে, আবার ‘মহাকাশের আবর্জনা’র গতি রোধ করার জন্য বাতাসের প্রতিরোধ পর্যন্ত নেই। কাজেই ধাক্কা লাগলে যে কী ঘটতে পারে, তা বোঝাই যাচ্ছে! অতি ক্ষুদ্র ধাতব টুকরোগুলোও মহাকাশযানের বহিরাবরণে বড় বড় বিপজ্জনক ফুটো করে দিতে পারে।

শুধু আইএসএস নয়; এসব ‘আবর্জনা’ আছড়ে পড়ে ক্ষতি করে বসতে পারে এমন সব কর্মক্ষম স্যাটেলাইটকে, যেগুলো জিপিএস এবং আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিস্ফোরণ কিংবা ভালো স্যাটেলাইটের সংঘর্ষ - সে যাই হোক না কেন, উভয় ক্ষেত্রে স্যাটেলাইটগুলো হাজার হাজার টুকরোতে পরিণত হয়ে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা বিরাট বিপদের কারণ ঘটাবে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এসব ঝুঁকিপূর্ণ আবর্জনাকে ‘সুপার স্প্রেডার’ বলে বর্ণনা করছেন বিজ্ঞানীরা। এরই মধ্যে এগুলোকে নজরে রাখতে একটি ‘প্রায় রিয়েল টাইম’ মানচিত্র তৈরি করেছেন মোরিবাহ জাহ নামে একজন প্রফেসর ও তার সহকর্মীরা। ‘সুপার স্প্রেডার’গুলো বিস্ফোরিত হলে কিংবা সংঘর্ষ ঘটালে কী ঝুঁকি তৈরি হবে তা অনুমান করা যাবে এতে।

কৃত্রিম উপগ্রহগুলো ও এর আবর্জনা একটা জালের মতো পৃথিবীকে জড়িয়ে রেখেছে – মাধ্যাকর্ষণের ফলে তাদের বা পৃথিবীর এ বাঁধন থেকে মুক্তি নেই। মোবাইল টেলিফোন থেকে শুরু করে জিপিএস বা টেলিভিশন– সব কিছু চলে এই স্যাটেলাইটগুলোর কল্যাণে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে