পৃথিবীর সবচেয়ে গভীরে যা দেখে ফিরলেন রিচার্ড

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৪ জুন ২০২১,   আষাঢ় ১২ ১৪২৮,   ১২ জ্বিলকদ ১৪৪২

পৃথিবীর সবচেয়ে গভীরে যা দেখে ফিরলেন রিচার্ড

বিজ্ঞান ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৩৯ ২০ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৮:৪৩ ২০ মার্চ ২০২১

ছবিঃ সংগৃহীত

ছবিঃ সংগৃহীত

মহাকাশ এবং সমুদ্র অন্বেষণকারী রিচার্ড গ্যারিয়ট। এছাড়াও তার আরো একটি পরিচয় রয়েছে। পৃথিবীর উত্তর মেরু, দক্ষিণ মেরু অন্বেষণ, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে উড্ডয়ন এবং পৃথিবীর গভীরতম স্থানে নামা বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি তিনি।

সম্প্রতি প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা ট্রেঞ্চের বিরল পরিদর্শনযোগ্য গভীরতার দিকে গিয়েছেন রিচার্ড গ্যারিয়ট। প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝেই অবস্থিত পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর স্থান মারিয়ানা ট্রেঞ্চ। এটি চ্যালেঞ্জার ডিপ নামেও পরিচিত।

রিচার্ড গ্যারিয়ট সেই ব্যক্তি, যিনি প্রথমবারের মতো সাগরের এত গভীরে গেছেন সাবমেরিন দিয়ে। মূলত প্যাসিফিক প্লেট আর ফিলিপিন্স প্লেটের যেখানে সংঘর্ষ হয়েছে, সেখানেই মারিয়ানা ট্রেঞ্চ তৈরি হয়েছে। এখানে কিছু ব্যতিক্রম পাথর আছে, যেগুলো পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো পাথর। এখান থেকে কিছু পাথর গবেষণার জন্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

মারিয়ানা ট্রেঞ্চ এর ডুব থেকে ফিরে এসে গ্যারিয়ট জানান, প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরতম অঞ্চলে ১১ কিলোমিটার অবতরণ করতে প্রায় চার ঘন্টা সময় লেগেছে তার। তার এই যাত্রায় তার সঙ্গে ছিল গভীরতায় প্রচণ্ড চাপ সহ্য করার জন্য ডিজাইন করা একটি ছোট জাহাজ। যার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল গবেষণার জন্য ভূতাত্ত্বিক, জল এবং সমুদ্রের প্রাণী নমুনাগুলো সংগ্রহ করা।

রিচার্ড গ্যারিয়ট বলেন, মারিয়ানা ট্রেঞ্চের চ্যালেঞ্জার ডিপ পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর স্থান। এটি এতো গভীর যে এভারেস্ট পর্বতকে উল্টো করে দিলেও এক কিলোমিটার কম হবে মারিয়ানা ট্রেঞ্চে পৌঁছাতে। আমিই পৃথিবীর প্রথম ব্যক্তি, যিনি মেরু থেকে মেরুতে, মহাকাশে এমনকি সমুদ্রের গভীরে যাওয়ার সাহস করেছে। দুর্লভ হওয়ার আগেই গবেষণার জন্য এখানকার কিছু বৈচিত্র্য আমি সংগ্রহ করেছি। তবে হতাশার বিষয়, সমুদ্রের এত নিচেও ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের অভাব নেই। খাদ্যচক্রেও এগুলো অনায়াসে প্রবেশ করছে। এটা বন্ধ করতে হবে।

তিনিই একমাত্র ব্যক্তি পৃথিবীর উভয় মেরুতে যাত্রা করেছেন, গ্রহকে প্রদক্ষিণ করেছেন, জঙ্গলের সন্ধান করেছেন, আগ্নেয়গিরিতে উপনীত হয়েছেন এবং উল্কা শিকার করেছেন।

গ্যারিয়ট জানান, তার বিশ্বাস নতুন প্রজাতির অনেক প্রাণের অস্তিত্ব এই মেরুগুলোতে পাওয়া যাবে, যেগুলো আগে দেখেনি বিজ্ঞান।  রিচার্ড গ্যারিয়ট মহাকাশ আর সমুদ্রের নতুনত্ব আবিষ্কার করতে ভালোবাসা একজন।

প্রসঙ্গত, গ্যারিয়ট পেশায় একজন কেমব্রিজ-বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ-আমেরিকান কম্পিউটার গেম উদ্যোক্তা। তবে বহু দুঃসাহসিক ভ্রমণ, বাণিজ্যিক স্থান প্রচেষ্টা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য ব্যাপক পরিচিত গ্যারিয়ট। এছাড়াও তার বাবা ছিলেন নাসার নভোচারী ওভেন গ্যারিয়ট। যিনি ২০১৯ সালে মারা গিয়েছিলেন।

সূত্রঃ রয়টার্স

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ