ব্ল্যাক হোল বানানো হলো গবেষণাগারে

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৫ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ২ ১৪২৮,   ০২ রমজান ১৪৪২

ব্ল্যাক হোল বানানো হলো গবেষণাগারেই, ৪৭ বছর পর হকিংয়ের পূর্বাভাস প্রমাণিত

বিজ্ঞান ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২৪ ৫ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৩:২৫ ৫ মার্চ ২০২১

ব্ল্যাক হোল। ফাইল ছবি

ব্ল্যাক হোল। ফাইল ছবি

৪৭ বছর আগে ব্ল্যাক হোলের বিকিরণ নিয়ে স্টিফেন হকিং যা বলেছিলেন, তা সত্যি হলো। গবেষণাগারে একটি ব্ল্যাক হোলের জন্ম দিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন হকিংয়ের সব কিছুই নির্ভুল। প্রমাণ করেছেন, আলো বিকিরণ করে ব্ল্যাক হোলও। যে বিকিরণের নাম ‘হকিং রেডিয়েশন’।

মার্চের প্রথম সপ্তাহে বিজ্ঞান-জার্নাল ‘নেচার ফিজিক্স’-এ ‘টেকনিয়ন-ইসরায়েল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি’র বিজ্ঞানীদের সেই সাড়াজাগানো গবেষণাপত্রটি প্রকাশ হয়েছে।

এক সময় সবার ধারণা ছিল,  ব্ল্যাক হোলের অভিকর্ষ বল অনেক জোরালো হওয়ায় সবকিছুই সেখানে পড়তে বাধ্য। সেই টান অগ্রাহ্য করতে পারে না আলোর কণা ফোটনও। সেই টান এড়াতে গেলে যেকোনো বস্তুকে আলোর গতির চেয়ে বেশি গতিবেগে ছুটতে হবে। যা অসম্ভব। তাই ব্ল্যাক হোলকে দেখা যায় না।

আধুনিক যুগের বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং ১৯৭৪ সালে হকিংই প্রথম জানালেন প্রচলিত ওই ধারণায় ভুল রয়েছে। তিনি জানালেন, ব্ল্যাক হোলও আলো বিকিরণ করতে পারে। এবার বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করলেন হকিং সবই নির্ভুল বলেছেন। তারা দেখলেন, ব্ল্যাক হোলও বিকিরণ করে হকিং রেডিয়েশন। এ-ও দেখলেন হকিং যেমন বলেছিলেন, সেই বিকিরণের প্রাবল্য সময়ের সঙ্গে বাড়া-কমা করে না।

গবেষকরা ৮ হাজারটি রুবিডিয়াম পরমাণুর গ্যাসপ্রবাহকে শূন্যের ২৭৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম ঠাণ্ডা করেছিলেন। তার পর সেই জমাট বাঁধা গ্যাসপ্রবাহকে একটি লেজার রশ্মি দিয়ে একটি জায়গায় আটকে রেখেছিলেন। তাতে পদার্থের একটি অদ্ভূতুড়ে অবস্থার জন্ম হয়েছিল; যার নাম- ‘বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট (বিইসি)’।

এমন অবস্থায় পদার্থের হাজার হাজার পরমাণু মিলেমিশে একটি পরমাণুর মতো আচরণ করে। তার পর আর একটি লেজার রশ্মির মাধ্যমে গবেষকরা সেই রুবিডিয়াম গ্যাসকে ঝরনার জলের মতো বইয়ে দিতে পেরেছিলেন। সেভাবেই জন্ম হয়েছিল ব্ল্যাক হোলের, গবেষণাগারে। গবেষকরা অবশ্য ফোটনের পরিবর্তে শব্দতরঙ্গের কণা ‘ফোনন’কে ব্যবহার করেছিলেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে