কী আছে মঙ্গলে যার কারণে এত অভিযান?

ঢাকা, বুধবার   ০৩ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ১৮ ১৪২৭,   ১৮ রজব ১৪৪২

কী আছে মঙ্গলে যার কারণে এত অভিযান?

বিজ্ঞান ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৩৯ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ২০:৪২ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ছবিঃ সংগৃহীত

ছবিঃ সংগৃহীত

বেশ কয়েকদিন আগে নাসার রোভার পারসিভারেন্স মঙ্গল গ্রহের নিরক্ষীয় অঞ্চলের নিকটবর্তী জেজেরো নামক একটি গিরিখাতে অবতরণ করে। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অরবিটার হোপ মঙ্গলের চারপাশে ঘুরে আসে। চীনের তিয়ানওয়েন-১ মঙ্গলের কক্ষপথে প্রবেশ করেছে এবং এর ল্যান্ডার ও রোভার আগামী মে বা জুনে গ্রহটিতে নামার চেষ্টা করবে।

কী আছে মঙ্গল গ্রহে যার কারণে এতগুলো দেশ এবং সংস্থা মঙ্গল অভিযানে মনোনিবেশ করেছে। এ প্রশ্নের উত্তর পেতে দশকের পর দশক ধরে ধারণা পেতে অরবিটার, ল্যান্ডার এবং রোভারগুলো পাঠানো হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা গেছে, গ্রহটিতে রয়েছে স্রোত চিহ্ন। এছাড়া শুস্ক নদী উপত্যকা, অববাহিকা এবং ব-দ্বীপের অস্তিত্ব থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এর উত্তর গোলার্ধে পানির অস্তিত্ব থাকতে পারে।

মঙ্গল গ্রহের ভৌগোলিক বিবরণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা অনুজীবের অস্তিত্ব বিকাশকারী পদার্থের সন্ধান পান। আর তা থেকে তারা ধারনা করেন যে, গ্রহটিতে অতীতে প্রানের অস্তিত্ব ছিল বা আজও বিদ্যমান থাকতে পারে।

প্রতিবেশী দেশ ভারত ও জাপানের সাথে চীনের ক্রমবর্ধমান মহাকাশ প্রতিযোগিতা পৃথিবীতে তাদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাকে প্রতিফলিত করে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, যার মহাকাশ সংস্থাটি সবে ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত, তারাও এই প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়ে দাবি করেছে যে, তাদের হোপ অরবিটার আরব দেশগুলোর মধ্যে সর্ব প্রথম আন্তঃমহাকাশ পরিভ্রমনকারী।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং তুরস্ক সহ বেশ কয়েকটি দেশ ২০১০ সাল থেকে নিজেদের মহাকাশ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে। আপাতত, মঙ্গল গ্রহে দেশগুলোর একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে। এদিকে বেসরকারী রকেট নির্মাতা সংস্থা স্পেসএক্স-এর প্রধান ইলন মাস্ক দাবি করেছেন যে, তিনি ২০২৬ সালের মধ্যে মানুষকে মঙ্গলে নিয়ে যাবেন।

জেফ বেজোসও সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে, তিনি তার মহাকাশ উদ্যোগ ‘ব্লু অরিজিন’র প্রতি মনোনিবেশ করতে সাময়িকভাবে অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী হিসাবে পদত্যাগ করবেন। গত মাসে সংস্থাটি যাত্রী বহনের জন্য নকশাকৃত একটি রকেট সফলভাবে পরীক্ষা করে।

উল্লেখ্য, হোপ-এর আসার আগে মঙ্গলের কক্ষপথে ৬ টি কৃত্রিম উপগ্রহ ছিল। নাসার কিউরিওসিটি রোভার এবং ইনসাইট ল্যান্ডার, যেগুলো যথাক্রমে ২০১২ এবং ২০১৮ সালে মার্সে পাঠানো হয়েছিল, সেগুলোও গ্রহটি থেকে তথ্য পাঠাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোভার মঙ্গলের পাথরের ওপর গবেষণা করবে এবং প্রাচীন অণুজীবের রাসায়নিক চিহ্নগুলো সন্ধান করবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের হোপ অরবিটার বিজ্ঞানীদের বুঝতে সাহায্য করবে যে, কীভাবে মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে নির্গত গ্যাস গ্রহটিকে ঠান্ডা ও শুষ্ক করে তুলেছে। এভাবে বেশ কয়েকটি দেশ ও সংস্থা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে মঙ্গল গ্রহ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে।

সূত্রঃ দ্য ইকোনমিস্ট

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ