প্রিয়নবী যে কারণে বেছে বেছে খাবার খেতেন

ঢাকা, শুক্রবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ২ ১৪২৮,   ০৮ সফর ১৪৪৩

প্রিয়নবী যে কারণে বেছে বেছে খাবার খেতেন

ধর্ম ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১৪ ৩ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ১৬:২০ ৩ আগস্ট ২০২১

খেজুর ছিল বিশ্বনবীর একটি প্রিয় খাবার

খেজুর ছিল বিশ্বনবীর একটি প্রিয় খাবার

আমাদের প্রিয়নবী রাসূলুল্লাহ (সা.) সব সময় স্বাস্থ্য সম্মত খাবার পছন্দ করতেন। আর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর খাবার থেকে বিরত থাকতেন। পাকস্থলীর ওপর চাপ পড়ে এবং ফুসফুসের কার্যকারীতা হ্রাস পায় এমন খাবার ও পানীয় থেকে বিরত থাকতেন বিশ্বনবী। এমনকি এ জাতীয় খাবার গ্রহণের কথাও কাউকে বলতেন না তিনি। অতিরিক্ত স্বাদ ও রুচির জন্য বেশি মশলাযুক্ত খাবার খাওয়া থেকেও বিরত থাকার উপদেশ দিতেন।

যেসব খাবার থেকে তিনি বিরত থাকতেন; তাহলো-
১. বেশি মিহি ময়দার পাতলা চাপালা পছন্দ করতেন না। তিনি চালাবিহীন আটার রুটি পছন্দ করতেন।

২. স্বাদ ও রুচির জন্য অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার থেকে বিরত থাকতেন।

৩. যেসব খাবার দ্রুত হজম হয় না; তা খাওয়া থেকেও বিরত থাকতেন।

৪. অতিরিক্ত স্বাদ ও রুচিসম্মত খাবার ও বেশি খেতেন না।

৫. অতিরিক্ত গরম যে কোনো খাবার থেকেই তিনি বিরত থাকতেন। যে খাদ্য থেকে ধোঁয়া বের হয়, এরূপ খাবারও খেতেন না প্রিয় নবী (সা.)। এ রকম অতিরিক্ত গরম খাবার ঠাণ্ডা হওয়া পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করতেন। অতিরিক্ত গরম খাবার সম্পর্কে তিনি কখনও কখনও বলতেন-

'আল্লাহ তায়ালা আমাদের আগুন খাওয়ানি।' আবার কখনও বলতেন, 'গরম খাদ্যে বরকত নেই।'

শুধু তা-ই নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.)  কখনও অতিরিক্ত খাবারও খেতেন না। এক নাগাড়ে শুদু খাবার খাওয়ার উপর থাকতেও নিষেধ করেছেন। অতিরক্তি খাবার খাওয়া সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.)  বলতেন-

' মুমিন এক অন্ত্রণালীতে খাবার খায়। আর কাফের অবিশ্বাসীরা সাত অন্ত্রণালীতে খাবার খায়।' (তিরমিজি)

মনে রাখতে হবে, রারাসূলুল্লাহ (সা.) হালাল কোনো খাবারকেই খারাপ বলেননি। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)  কখনও কোনো খাবারকে খারাপ বলেননি। তিনি কোনো খাবার পছন্দ হলে খেয়েছেন আর অপছন্দ হলে তা ত্যাগ করেছেন।’ (বুখারি)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) এর অপছন্দনীয় খাবারগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকা। যেসব খাবার সুস্থতা ও সুস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, তা খাওয়া। খাবার গ্রহণেও মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা। তবেই সুস্থ শরীর, দেহ ও মনের অধিকারী হবে মুমিন।

আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে সঠিক নিয়মে যথাযথ খাবার গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। অতিরক্তি গরম ও মশলাযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। খাবারের সময় নিজেদের সংযত রাখার তাওফিক দান করুন। খাবার নিয়ন্ত্রণ করে সুস্থ থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে