জুমার দিন দোয়া কবুলের সঠিক সময়

ঢাকা, সোমবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১৩ ১৪২৮,   ১৮ সফর ১৪৪৩

জুমার দিন দোয়া কবুলের সঠিক সময়

ধর্ম ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:০৯ ৩০ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৩:১৩ ৩০ জুলাই ২০২১

আমি (আবু মুসা আশআরি)  আল্লাহর রাসূল (সা.) কে বলতে শুনেছি- সেটি হলো ইমামের (বৈঠকে) বসা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত মাঝখানের সময়টুকু।’ (মুসলিম) ছবি: প্রতীকী

আমি (আবু মুসা আশআরি)  আল্লাহর রাসূল (সা.) কে বলতে শুনেছি- সেটি হলো ইমামের (বৈঠকে) বসা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত মাঝখানের সময়টুকু।’ (মুসলিম) ছবি: প্রতীকী

জুমার দিন বা শুক্রবার সপ্তাহের সেরা মহিমান্বিত দিন। মুসলমানদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদ এই দিনটি। জুমার দিনের অনেক ফজিলত ও গুরুত্বের কথা একাধিকবার হাদিসে এসেছে। পবিত্র আল-কোরআনে জুমা নামে একটি সুরা রয়েছে। 

রাসূলে কারিম (সা.) বলেছেন, ‘এটা শুক্রবার, যে দিনের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা আমাদের পূর্ববর্তী জাতি থেকে পৃথক করেছেন। ইহুদিদের জন্য বিশেষ ইবাদতের দিন ছিল শনিবার, খ্রিস্টানদের জন্য ছিল রোববার। যখন আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রেরণ করলেন, তখন শুক্রবারকে জুমার দিন হিসেবে পালন করতে নির্দেশ দিলেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৭৯৭)।

১. হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন আল্লাহর রাসূল (সা.) জুমার দিনের আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, ‘এতে (এ দিনে) কিছু সময় আছে এমন, যখন কোনো মুসলিম বান্দা দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে তিনি তাকে তা অবশ্যই দেবেন। তিনি হাতের ইশারায় দেখিয়ে দেন যে, ওই সময়টি (খুবই) অল্প।’ (বুখারি)

২. হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন,নবী (সা.) বলেন, জুমার দিন একটি সময় আছে যখন কোনো মুসলিম বান্দা আল্লাহর কাছে কোনো কল্যাণ চাইলে, তিনি তাকে তা অবশ্যই দেবেন। আর সেটি হলো আসরের পর।’ (বুখারি, মুসনাদে আহমাদ)

৩. হজরত জাবির ইবনু আব্দিল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেন, জুমার দিন ১২ ঘণ্টা সময়; এর মধ্যে একটি সময় আছে এমন, যখন কোনো মুসলিম বান্দা আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে, তিনি তাকে তা অবশ্যই দেবেন। সুতরাং তোমরা আসরের পর শেষ সময়টুকুতে তা অনুসন্ধান কর।’ (আবু দাউদ)

৪. হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) র ছেলে হজরত আবু বুরদা (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) আমাকে বলেন, তুমি কি তোমার পিতাকে জুমার দিনের (বিশেষ) সময়ের মর্যাদা সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (সা.) এর কোনো হাদিস বর্ণনা করতে শুনেছ? 

আমি বলি, ‘হ্যাঁ’, আমি তাকে বলতে শুনেছি, আমি (আবু মুসা আশআরি)  আল্লাহর রাসূল (সা.) কে বলতে শুনেছি- সেটি হলো ইমামের (বৈঠকে) বসা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত মাঝখানের সময়টুকু।’ (মুসলিম)

আল্লামা ইবনুল কায়্যিম ও অন্যান্য ইসলামিক স্কলারগণ যে মতটি দিয়েছেন, তাহলো- জুমার দিন দোয়া কবুলের সেই সময়টি হলো আসরের পর। (যাদুল মাআদ)

আল্লামা ইবনুল কায়্যিম বলেন, আমার মতে নামাজের সময়টি মূলত এমন এক সময়, যখন দোয়া কবুলের আশা করা যায়। (সাধারণত নামাজের সময় ও আসরের পর-) উভয়টি হলো দোয়া কবুলের সময়; যদিও বিশেষ এ সময়টি হলো আসরের পর। এটি নির্দিষ্ট। আগে পরে হওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। তবে ‘নামাজের সময়’ কথাটি নামাজের আগের ও পরের উভয় সময়কেই বোঝায়।

এক জায়গায় মুসলিমদের সমবেত হওয়া; তাদের নামাজ আদায় করা এবং বিনয়ের সঙ্গে আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়া- এ সবগুলোরই দোয়া কবুলের পেছনে প্রভাব রয়েছে। তাই তাদের সমবেত হওয়ার সময়টিতে দোয়া কবুর হওয়ার ব্যাপারে আশা করা যায়।

আর এভাবেই জুমার দিনের মর্যাদা ও আমল সম্পর্কে রাসূল (সা.) এর সব হাদিসের মধ্যে সমন্বয় হয়ে যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে