নবীজির প্রতি সাহাবাদের ভালোবাসা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ মে ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪২৮,   ০৫ শাওয়াল ১৪৪২

নবীজির প্রতি সাহাবাদের ভালোবাসা

শরীফ আব্দুল্লাহ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৪৩ ২৮ মার্চ ২০২১  

মসজিদে নবাবী ছবি: সংগৃহীত

মসজিদে নবাবী ছবি: সংগৃহীত

প্রিয় নবীজি (সা.) কে ভালোবাসা পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার অন্যতম শর্ত। কেমন ভালোবাসতে হবে প্রিয় নবীকে? আর সাহাবায়ে কেরাম কেমন ভালোবাসতে তাঁকে? তাঁকে ভালোবাসার বিষয়ে কী বলেছেন তিনি? মুমিন মুসলমানের ঈমান পরিপূর্ণ হয়েছে কিনা তা বুঝার অন্যতম মাপকাঠি হচ্ছে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর ভালোবাসা। কেননা প্রিয় নবীর সঙ্গে হজরত ওমর (রা.) এ সম্পর্কিত যে আলোচনা করেছেন। তাই তার প্রমাণ-

- হজরত ওমর (রা.) নবীজীকে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি, তবে নিজের জানের চেয়ে বেশি নয়। নবীজী বললেন, ওহু! তাহলে তো এখনো (ঈমান পরিপূর্ণ) হয়নি। যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! যতক্ষণ না আমি তোমার জানের চেয়েও বেশি প্রিয় না হব ততক্ষণ তোমার ঈমান পূর্ণ হবে না।

কিছুক্ষণ পর হজরত ওমর (রা.) বললেন, আল্লাহর শপথ! এখন আপনি আমার কাছে আমার জানের চেয়েও বেশি প্রিয় হয়ে গেছেন। নবীজী বললেন, ‘হ্যাঁ’, ওমর! এখন তোমার ঈমান পূর্ণ হয়েছে।’ (বুখারি)

- হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পরিপূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার বাবা-মা, সন্তান-সন্ততি ও সব মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় না হব।’ (বুখারি)
সাহাবায়ে কেরাম প্রিয় নবীকে ভালোবাসতেন তাদের জানের চেয়েও বেশি। মুমিন মুসলমানের জন্য এ ভালোবাসাই পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার অন্যতম শর্ত। আসুন জেনে নিই- প্রিয় নবীর প্রতি সাহাবাদের ভালোবাসা কেমন ছিল-

হজরত আবু বকর (রা.) ভালোবাসা
তিনি বিশ্বনবী (সা.) এর ভালোবাসায় ধন-সম্পদসহ সব কিছুই ত্যাগ করেছিলেন। নিজে না খেয়ে তাকে খাওয়ানোতেই পেতেন সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি। মক্কা থেকে মদিনার সফরের সময় ভেড়ার দুধ পানে পিপাসা নিবারণ করলেন প্রিয় নবী আর তৃপ্ত হলেন হজরত আবু বকর (রা.)। তিনি বলেন, ‘মক্কা থেকে মদিনায় যাওয়ার সময় আমরা এক রাখালের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলাম। সে সময় বিশ্বনবী (সা.) খুব পিপাসার্ত। আমি ভেড়ার দুধ দোহন করলাম। তিনি তা পান করলেন, আমি খুব আনন্দিত হলাম। সত্যি বলতে কি, নবীজির দুধ পান দেখে আমি তৃপ্ত হয়ে গেলাম।’ (বুখারি)

মৃত্যুশয্যায় হজরত আবু বকর
হজরত আবু বকর (রা.) মৃত্যু শয্যায় থাকা অবস্থায় জিজ্ঞাসা করলেন- হে আয়েশা! নবীজী কোনদিন ইন্তেকাল করেছিলেন? হজরত আয়েশা (রা.) জানালেন- ‘সোমবার’। তিনি বললেন, আজ কী বার? জবাব এলো- সোমবার। তিনি বললেন, হায় যদি আমার মৃত্যু রাতের আগেই হতো!’ (বুখারি)

নবী পরিবারের প্রতি আবু বকরের ভালোবাসা
হজরত ফাতিমা (রা.) একবার হজরত আলি  (রা.)কে নবীজীর মিরাস (উত্তরাধিকার) চেয়ে হজরত আবু বকর (রা.) র কাছে পাঠালেন। আবু বকর  (রা.) বললেন, হে আলি, নবীর মিরাস তো বন্টণ হয় না! (কেননা) নবীজী বলে গেছেন, ‘আমরা যা রেখে গেছি, তা সদকা হিসেবে বিবেচিত হবে, নবী-পরিবার যতদিন থাকবে; এ সম্পদ থেকে তাদের ভরণপোষোণের ব্যবস্থা করা হবে। নবীজীর যুগে এসব সম্পদ যে নিয়মে খরচ হত আমিও সে নিয়মেই খরচ করব। এতে কোনো পরিবর্তন হবে না।

আলি (রা.) তখন অধিকারের কথা বললেন। নবীজির সঙ্গে তাদের আত্মীয়তার বিষয়টি সামনে আনলেন। হজরত আবু বকর জবাবে বললেন- দেখো আলি! আমার নিজের আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার চেয়েও আমার কাছে নবীজীর আত্মীয়তার সম্পর্কগুলোর গুরুত্ব ও মর্দাযা অনেক বেশি।’ (বুখারি)

হজরত ওমরের ভালোবাসা
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, একদিন আব্বাকে (হজরত ওমর) বললাম, হজরত উসামা (রা.)কে আমার চেয়ে দ্বিগুণ ভাতা দেন কেন? অথচ নবীজীর সঙ্গে তার চেয়ে আমি বেশি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। আব্বাজান হজরত ওমর (রা.) জবাব দিলেন-‘দেখো! উসামার আব্বা হজরত যায়দ তোমার আব্বা (ওমরের) চেয়ে আল্লাহর রাসূলের বেশি প্রিয় ছিলেন। আর উসামা তোমার তুলনায় আল্লাহর রাসূলের বেশি প্রিয়জন ছিল। আমি আমার ভালোবাসাকে রাসূলের ভালোবাসার উপর প্রাধান্য দিতে পারি না।

নবীর ভালোবাসায় প্রাধান্য লাভ
হজরত আব্বাস (রা.) মক্কা বিজয়ের দিন আবু সুফিয়ানকে প্রিয় নবী (সা.) এর কাছে নিয়ে আসলেন। তখনও আবু সুফিয়ান ইসলাম গ্রহণ করেনি; বরং কাফেরদের সরদার। এমন সময় হজরত ওমর (রা.) বিশ্বনবীর কাছে আবু সুফিয়ানকে হত্যার অনুমতি চাইলেন। এবার হজরত আব্বাস বললেন, হে ওমর! একটু শান্ত হও। আবু সুফিয়ান যদি তোমার গোত্রের কেউ হতো তবে তুমি এমনটি করতে না।

হজরত ওমর বললেন, থামুন আব্বাস! শুনুন, আমার কাছে তোমার ইসলাম গ্রহণের মর্যাদা আমার বাবা খাত্তাবের ইসলাম গ্রহণ অপেক্ষা অনেক বেশি আনন্দের ছিল। তা কেন জানো? আমি জানতাম; তুমি ইসলাম গ্রহণ করলে নবীজী (তোমার ভাতিজা) বেশি খুশি হবেন। হায়! আমার পিতাও যদি মুসলমান হতেন।’ (মুসলিম)

হজরত সাওয়াদ (রা.)র ভালোবাসা
বদর যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) যুদ্ধে সারি সোজা করছেন। তাঁর হাতে একটি তীর ছিল। হজরত সাওয়াদ (রা.) (ইচ্ছাকৃতভাবে) সারির একটু সামনে দাঁড়িয়ে যান। বিশ্বনবী তার সামনে এসে তাকে তীর দিয়ে মৃদু খোঁচা দেন; আর বলেন, সারি সোজা করে দাঁড়াও।

এবার হজরত সাওয়াদ (রা.) নবীজী (সা.) কে বলেন, আপনি আমাকে তীর দিয়ে খোঁচা দিয়ে কষ্ট দিয়েছেন। আমি প্রতিশোধ নিতে চাই। নবীজী সাওয়াদের হাতে তীর দিলেন আর নিজের পেট থেকে কাপড় সরালেন এবং সাওয়াদকে প্রতিশোধ নিতে বললেন। এ সুযোগে সাওয়াদ (রা.) নবীজীকে জড়িয়ে ধরলেন এবং চুমু খেতে শুরু করলেন। নবীজী বললেন, সাওয়াদ! এমনকি করলে কেন? তিনি বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! সামনে যুদ্ধ। বাঁচবো কিনা মরবো জানিনা। মৃত্যুর আগে আপনার শরীরের একটু স্পর্শ পাওয়ার জন্যই এমনটি করেছি।’ (সীরাতে ইবনে হিশাম)

হজরত উসাইদ (রা.) র ভালোবাসা
হজরত উসাইদ ইবনে হুদাইর (রা.) আশপাশের মানুষের সঙ্গে কথা বলছিলেন আর রসিকতা করে শ্রোতাদের হাসাচ্ছিলেন। এমন সময় নবীজী রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি কাঠের টুকরা দিয়ে তার পেটে খোঁচা দিলেন।
এবার হজরত উসাইদ বললেন, হে আল্লাহর নবী! আমাকের এর বদলা নিতে দিন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন- ঠিক আছে, বদলা নাও। হজরত উসাইদ বললেন, আপনার গায়ে তো জামা আছে, অথচ আমার গায়ে জামা ছিল না। নবীজী রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর গায়ের জামা খুললেন।

তখন হজরত উসাইদ (রা.) প্রিয় নবীকে জড়িয়ে ধরে তাঁর এক পাশে চুমু দিতে লাগলেন আর বললেন- ‘আপনার বরকত পাওয়ার জন্যই আমি এমনটি করেছি, ইয়া রাসূলাল্লাহ!’ (আবু দাউদ)

হজরত সুমাইয়ার ভালোবাসা
ওহুদের যুদ্ধ শেষ। বিশ্বনবীসহ সাহাবাগণ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে মদিনায় ফিরছিলেন। তারা বনূ দীনার গোত্রের পাশ দিয়ে যখন যাচ্ছিলেন তখন হজরত সুমাইয়া বিনতে কায়েসের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। যুদ্ধ ফেরত সাহাবারা হজরত সুমাইয়াকে জানালেন, তোমার স্বামী, ভাই ও বাবা যুদ্ধে শহিদ হয়েছেন। ওয়াকেদির বর্ণনায় জানা যায়, হজরত সুমাইয়া বিনতে কায়েস তার স্বামী, ভাই ও বাবার শাহাদাতের কথা শোনার পরও কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে জানতে চাইলেন- নবীজী কেমন আছেন? তিনি বেঁচে আছেন তো! তারা (যুদ্ধ ফেরত সাহাবারা) বললেন, ‘আপনি যেমন কামনা করছেন। আলহামদুলিল্লাহ! তিনি ভালো আছেন। এবার হজরত সুমাইয়া বললেন, ‘তাহলে তাঁকে একটু দেখাও। আমি তাঁর জ্যোতির্ময় চেহারা মোবারক একটু দেখে নেই।

রাসূলুল্লাহ (সা.)র প্রতি ইশারা করে তাঁকে দেখানো হল। দেখা মাত্রই তিনি চিৎকার করে বলে উঠলেন- ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে সুস্থ পাবার পর সব বিপদ (স্বামী, ভাই ও বাবার মৃত্যু) আমার কাছে তুচ্ছ।’ অর্থাৎ এখন আর আমার মনে আমার স্বামী, ভাই বা বাবাকে হারানোর কোনো কষ্ট নেই। আপনাকে সুস্থ পেয়ে সব কিছুই আমি ভুলে গেছি।’ (আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া, আলকামিল)

হজরত উম্মে হাবিবা (রা.) র ভালোবাসা
কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ানের কন্যা হজরত উম্মে হাবিবাহ। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)র স্ত্রী। মক্কা বিজয়ের আগে অষ্টম হিজরিতে আবু সুফিয়ান মদিনায় এসে তার (কন্যা উম্মে হাবিবার) ঘরে গেলেন। আবু সুফিয়ান ঘরে প্রবেশ করে বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ (সা.)র বিছানায় বসতে গেলে নবী পত্নী উম্মে হাবিবাহ (রা.) বিছানা গুটাতে শুরু করলেন এবং বসতে বারণ করলেন।

আবু সুফিয়ান তা দেখে বিস্মিত হলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন- মা, আমি কি এ বিছানায় বসার উপযুক্ত নই! এবার হজরত উম্মে হাবিবাহ (রা.) বলেন, এটা রাসূলুল্লাহ (সা.) এর বিছানা। আর তুমি মুশরিক; অপবিত্র।  

তাই আমি চাই না যে, তুমি রাসূলুল্লাহ (সা.) এর বিছানায় বস। এ কথা শুনে আবু সুফিয়ান মেয়ের ঘর থেকে বের হয়ে অন্যত্র চলে গেলেন।’ অর্থাৎ বিশ্বনবীর ভালোবাসা ও সম্মানের কাছে আপন পিতাও ছিল তুচ্ছ। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, গযওয়াতুল ফাতহ)

হজরত আবু তালহা (রা.) র ভালোবাসা
ওহুদ্ধের ঘটনা। বিশ্বনবীর নিরাপত্তায় কাফের অবিশ্বাসীদের নিক্ষেপ করা তীরের সামনে নিজের বুক পেতে দেন। অবিশ্বাসী কুরাইশদের পাল্টা আক্রমণে মুসলিম বাহিনী সাময়িক ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। এ সময় কাফেরা নবীজী ও সাহাবাদের প্রতি প্রচণ্ড আক্রমণ করে বসে। সে সময় বিশ্বনবী  (সা.) এর নিরাপত্তায় কাফেরদের আক্রমণ প্রতিহত করতে থাকেন হজরত তালহা (রা.)।

হজরত তালহা  (রা.)র নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থেকে ময়দানের অবস্থা দেখতে মাথা উঁচু করলেন বিশ্বনবী। এ সময় হজরত তালহা  (রা.) বলে উঠলেন-
‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার মা-বাবা আপনার জন্য কুরবান হোক! আপনি উঁকি দেবেন না; মাথা উঁচু করবেন না। (কাফেরদের নিক্ষেপ করা তীর আপনার পবিত্র দেহে লাগতে পারে। আমার বুক আপনার বুকের সামনে উৎসর্গিত।’ (বুখারি)

হজরত ওরওয়াহ ইবনে মাসউদ (রা.)র বর্ণনা
বিশ্বনবীর প্রতি সাহাবাদের ভালোবাসার বর্ণনা করেন হজরত ওরওয়াহ ইবনে মাসউদ (রা.)। তিনি ইসলাম গ্রহণের আগে হুদাইবীয়ার সন্ধির সময় মুশরিকদের পক্ষে কথা বলতে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে গিয়েছিলেন। হুদাইবীয়া থেকে ফিরে ওরওয়াহ তার কাওমকে বিশ্বনবীর প্রতি সাহাবাদের সম্মান ও ভালোবাসার অনুভূতি সম্পর্কে বলেছিলেন-

‘আমি অনেক রাজা-বাদশাহর কাছে প্রতিনিধি হয়ে গিয়েছি। কায়সার, কিসরা ও নাজ্জাশির দরবারেও গিয়েছি। আল্লাহর কসম! মুহাম্মাদ (সা.)কে তার সাহাবারা যেমন ভক্তি করে, কোনো বাদশাহর প্রতি তার সঙ্গীদের এমন ভক্তি আমি আর কোথাও দেখিনি। আল্লাহর কসম! তিনি থুতু ফেললে তাঁর সঙ্গীদের কেউ না কেউ তা হাতে নিয়ে সঙ্গীদের চেহারায় ও শরীরে মেখে ফেলে। তিনি যখন কোনো আদেশ করেন, তখন তারা তাঁর আদেশ পালনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আর যখন তিনি অজু করেন তখন তাঁর ওজুতে ব্যবহৃত পানি পাওয়ার জন্য প্রায় লড়াই বেধে যাওয়ার মত অবস্থা হয়ে যায়।’ (বুখারি) 
এ ছিল বিশ্বনবী (সা.) এর প্রতি সাহাবায়ে কেরামের প্রতি ভালোবাসার নমুনা।

হে আল্লাহ! আপনি উম্মতে মুহাম্মাদিকেরাসূলুল্লাহ (সা.) এর প্রতি পরিপূর্ণ ভালোবাসা প্রদর্শন ও হৃদয়ে লালন করার তাওফিক দান করুন। পরিপূর্ণ ঈমানদার হিসেবে কবুল করুন। বিশ্বনবী (সা.) এর আদর্শ যথাযথভাবে জীবনের প্রতিটি স্তরে পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে