পাপকে ঘৃণা করো, পাপীকে নয় (শেষ পর্ব)

ঢাকা, রোববার   ২৯ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৫ ১৪২৭,   ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

পাপকে ঘৃণা করো, পাপীকে নয় (শেষ পর্ব)

নুসরাত জাহান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৩৯ ২৭ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২০:৪৩ ২৭ অক্টোবর ২০২০

‘এক মুমিন অন্য মুমিনের জন্য আয়না স্বরূপ’।

‘এক মুমিন অন্য মুমিনের জন্য আয়না স্বরূপ’।

হজরত জোনায়েদ বাগদাদী (রহ.) এর চোরের পা চুমু খাওয়া:

হজরত জোনায়েদ বাগদাদী রহ. কোথাও যাচ্ছিলেন। এক  স্হানে দেখলেন একজন মানুষকে শূলেতে ঝুলানো হয়েছে। তার এক হাত ও এক পা কর্তিত। তিনি লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, ঘটনা কী?

আরো দেখুন >>> পাপকে ঘৃণা করো, পাপীকে নয় (পর্ব-২)

লোকেরা উত্তরে বললো, এ লোকটি পাকা চোর। প্রথমবার গ্রেফতার হলে তার হাত কেটে দেয়া হয়। দ্বিতীয়বার গ্রেফতার হলে তার পা কেটে দেয়া হয়। যখন তৃতীয়বার গ্রেফতার হলো, তখন তাকে শূলেতে ঝুলানো হয়েছে।

হজরত জোনায়েদ বাগদাদী রহ. সামনে বাড়লেন এবং তার পায়ে চুমু খেলেন। লোকেরা বললো, হজরত! সে এত বড় চোর-পাকা চোর, আপনি তার পদচুম্বন করছেন! তিনি উত্তরে বললেন, যদিও সে জঘন্য অপরাধ করেছে, পাপ কাজ করেছে, যে কারণে তাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। তবে তার ভেতরে একটি উত্তম গুণ আছে, তা হলো استقامت বা অবিচলতা। যদিও এ গুণটি সে ভুল ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছে, কারণ যে কাজকে সে তার কর্তব্য বানিয়েছে এবং তার ওপর অবিচল থেকেছে। 

তার হাত কেটে দেয়া হলো তবুও সে কাজ ছাড়েনি। তার পা কেটে দেয়া হলো তবুও সে কাজ ছাড়েনি। অবশেষে মৃতুর শাস্তি হলো, তবে সে তার কাজে অবিচল ছিল। এর দ্বারা প্রতীয়মান হয়, তার ভেতরে অবিচলতার গুণ ছিল। সে কারণে আমি তার পদচুম্বন করেছি। আল্লাহ তায়ালা তার এবাদত ও আনুগত্যের গুণ দান করুন।

অতএব, যিনি আল্লাহর নেক বান্দা, তিনি মানুষকে ঘৃণা করেন না। বরং তার মন্দ কর্মকে ঘৃণা করেন। তিনি বলেন, যদি কোনো মন্দ মানুষের ভেতরে ভালো গুণ থাকে, সেটি লাভ করার উপযুক্ত এবং তার ভেতরে যে মন্দতা আছে তা দূর করার চিন্তা করা। প্রেম ভালোবাসার মাধ্যমে বুঝাও।

তাকে বলো, অন্যের কাছে তার মন্দের বর্ণনা করো না। এক মুমিন অন্য মুমিনের জন্য আয়না স্বরূপ।

হাদিস শরিফে এসেছে,

المؤمن مرآة المؤمن

‘এক মুমিন অন্য মুমিনের জন্য আয়না স্বরূপ’।

যদি কোনো মানুষের চেহারায় কোনো দাগ লাগে আর সে আয়নার সামনে দাঁড়ায়, আয়না বলে দেবে, তোমার চেহারায় দাগ লেগে আছে। আয়না যেমন তার দোষ বর্ণনা করে দেয়। অনুরূপ এক মুমিন অন্য মুমিনের ভেতরে কোনো দোষ দেখলে প্রেম ভালোবাসার সঙ্গে বলে দেবে-তোমার ভেতরে এ দোষ আছে, একে দূর করো।

যদি কেউ কারো শরীরে কীড়া বা পিপিলিকা চলতে দেখে সে তাকে হৃদ্যতার সঙ্গে বলে দেবে-ভাই! তোমার শরীরে কীড়া চলছে, তাকে দূর করো। এমনিভাবে কোনো মুসলমান ভাইয়ের ভেতরে কোনো ধর্মীয় দোষ দেখলে প্রেম ভালোবাসার সঙ্গে তাকে বলে দেবে তোমার ভেতের এ দোষ আছে। কারণ এক মুমিন অন্য মুমিনের আয়না স্বরূপ।

কারো দোষ বর্ণনা করো না:

হজরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবি রহ. বলেন, এ হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়, যখন কারো দোষ নজরে পড়ে শুধু তাকেই বলো-তোমার ভেতরে এ দোষ আছে। অন্যকে বলো না-অমুকের ভেতরে এ দোষ আছে।

কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুমিনকে আয়নার সঙ্গে তুলনা করেছেন। আয়না শুধু ওই ব্যক্তিকেই চেহারার দোষ বলে দেয় যে তার সামনে দন্ডায়মান। আয়না অন্যকে বলে না-অমুকের চেহারায় দোষ আছে। অতএব, একজন মুমিনের কাজ হলো, যার ভেতরে কোনো দোষ বা মন্দত্ব দেখবে শুধু তাকে বলবে। অন্যদের সামনে তার দোষ বলে বেড়াবে না। 

কেননা অন্যদের সামনে তার দোষ চর্চা করার অর্থ হলো, প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণ করা। এটা দ্বীনের কাজ নয়। আর যদি শুধু তাকেই একন্তে ভালোবাসা ও দরদ নিয়ে তার দোষের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়, এটা ভ্রাতত্ব ও ঈমানের দাবি। তবে তাকে  হেয় মনে করা, অবজ্ঞা করা কোনো অবস্হাতেই জায়েজ নেই। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে বুঝবার ও আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে