দরিদ্রদের প্রতি ইসলামের সম্মান (পর্ব-২)

ঢাকা, শুক্রবার   ২৭ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৭,   ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

দরিদ্রদের প্রতি ইসলামের সম্মান (পর্ব-২)

ওমর শাহ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:২৪ ১৭ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৪:৩৯ ২১ নভেম্বর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নবীদের অনুসারীগণ দরিদ্রই হয়:

অন্যান্য নবীদের সঙ্গেও এ আচরণ করা হয়েছে। সে যুগের কাফেররা তাদের বলেছে,

ما نراك اتبعك إلا الذين هم أراذلنا بادي الرأي

আমরা তো দেখছি বাহ্যত আমাদের নিম্নশ্রেণির লোকেরাই আপনার অনুসরণ করছে।

আরো দেখুন >>> দরিদ্রদের প্রতি ইসলামের সম্মান (পর্ব-১)

অর্থাৎ: আমাদের মতো বুদ্ধিমান ও মর্যাদাবান লোক আপনার পেছনে কী করে আসতে পারে? আল্লাহ তায়ালা বলেন, যাদেরকে তোমরা দরিদ্র দুর্বল ও নিম্ন শ্রেণির মনে করছ, আল্লাহ তায়ালার দরবারে তাদের অনেক মর্যাদা রয়েছে। তাদেরকে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখো না। 

এটি আইনি বিষয়, এমন নয়-সম্পদ, মর্যাদা ও নেতৃত্বের ওপর ভর করে তোমাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হবে। এটি এমন এক আইন যার ওপর আল্লাহ ও তার রাসূল (সা.) কখনো আপস করেননি। যত অসুন্দর ও দুর্বল মনে হোক তিনি আমাদেরকে তার বান্দা হিসেবেই দেখতে চান। তার কাছে আমাদের অনেক উচ্চ মর্যাদা রয়েছে।

হজরত যাহের (রা.) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক দোস্ত:

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কখনো কখনো গ্রাম থেকে এক লোক আসত। তার নাম যাহের। একেবারে কালো ও গ্রামীণ লোক। অর্থনৈতিকভাবে নিম্নস্তরের। মানুষের অন্তরে তার কোনো মর্যাদা ছিল না। তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ভালোবাসতেন।

একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাজারের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। দেখলেন যাহের বাজারে খাড়া। বাজারে যদি জীর্ণ বস্ত্র পরিহিত, নিম্নস্তরের কালো একজন গ্রাম্য লোক দাঁড়িয়ে থাকে, কে তার প্রতি খেয়াল করবে? কেউ তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করবে না। এটাই স্বাভাবিক। 

তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বাজার দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন সব বাজারিদের ছেড়ে হজরত যাহের (রা.) এর কাছে পেছন দিক দিয়ে গেলেন এবং পেছন থেকে বগলের নিচ দিয়ে তার চক্ষুদয় বন্ধ করে দিলেন। যেমন এক বন্ধু আরেক বন্ধুর পেছন দিক দিয়ে এসে তার চোখ বন্ধ করে দেয়।

যখন তিনি তার চোখ বন্ধ করে দিলেন, হজরত যাহের (রা.) নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে লাগলেন। তিনি তো জানেন না কে ধরেছে। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিক্রেতার মতো আওয়াজ দিলেন,

من يشتري هذا العبد مني؟

‘এ গোলাম কে ক্রয় করবে’?

এতক্ষণ পর্যন্ত হজরত যাহের (রা.) এর জানা ছিল না কে তার চোখ বন্ধ করেছে। এ জন্য নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে যখন এ শব্দ শুনলেন, চিনে ফেললেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। 

এখন নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়ার পরিবর্তে স্বীয় কোমড় আরো বেশি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীরের সঙ্গে মিলাতে লাগলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে যদি গোলাম বানিয়ে বিক্রি করেন, তাহলে অল্প মূল্যই পাবেন। কারণ সাধারণ ব্যক্তি হওয়ায় গ্রাহক অধিক মূল্য নির্দিষ্ট করবে না। সুবহানাল্লাহ!

উত্তরে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কত চমৎকার বাণী ইরশাদ করেছেন,

و لكن عند الله لست بكاسد

‘হে যাহের! মানুষ তোমার মূল্য যা-ই নির্দিষ্ট করুক, আল্লাহ তায়ালার কাছে তোমার মূল্য কম নয় বরং অনেক বেশি।

লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, সমস্ত বাজারে বড় বড় ব্যবসায়ী অর্থের মালিক রয়েছে। তবে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমস্ত বাজারি লোকদের ছেড়ে তাকে সুসংবাদ দেয়ার জন্য তার কাছে তাশরিফ এনেছেন এবং অকৃত্রিম বন্ধুর মতো আচরণ করেছেন।

সারা জীবন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দোয়া করতেন,

اللهم أحيني مسكينا و أمتني مسكينا و احشرني في زمرة المساكين

‘হে আল্লাহ! আমাকে মিসকিন বানিয়ে জীবিত রাখ, মিসকিন অবস্থায় মৃত্যু দিও এবং মিসকিনদের সঙ্গে আমার হাশর করো’।

চাকরদেরও সম্মান করো:

আজ মর্যাদার মানদণ্ড পরিবর্তন হয়ে গেছে। চিন্তা-চেতনা পরিবর্তন হয়ে গেছে। দুনিয়াতে যারা পদ মর্যাদা ও টাকা-পয়সার মালিক তারাই সম্মানিত। তারই প্রতি ধাবিত হয়। আর যে ব্যক্তি দুনিয়ার বিচারে দুর্বল, তার কোনো সম্মান নেই, তার প্রতি কেউ মনোনিবেশ করে না, তার প্রতি তাচ্ছিল্যের আচরণ করা হয়। 

মনে রেখ, দ্বীনের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। কখনো তো আমরা মুখে বলি,

إن أركمك عند الله أتقاكم

‘তোমাদের নিকট সর্বাধিক খোদাভীরুরা আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত’।

তবে বাস্তবে তাদের সঙ্গে আমাদের আচরণ কেমন? তোমাদের ঘরে যে চাকর কাজ করে, যে দরিদ্র লোক তোমাদের কাছে আসে, তাদের সঙ্গে কীভাবে কথা বলবে? তাদের অন্তর শীতল করে দাও নাকি তাদের হেয় করবে? এ হাদিসগুলোর উপর আমল কর? তাদের সঙ্গে তাচ্ছিল্যের আচরণ করা বড় ভয়ানক। আল্লাহ আমাদেরকে তা থেকে হেফাজত করুন।

মিসকিনদের ফজিলত:

عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه و سلم قال : احجت الجنة و النار، فقالت النار- في الجبارون و المتكبرون. و قالت الجنة : في ضعفاء الناس و مساكنهم فقضى الله بينهما إنك الجنة رحمتي و أرحم بك من أشاء و إنك النار عذابي، أعذب بك من أشاء، و لكليكما على ملئوها

বেহেশত ও দোযখের বিতর্ক:

হজরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, বেহেশত ও দোযখের মধ্যে বিতর্ক হলো, এতদুভয়ের মধ্যে উত্তম কে, দোযখ বললো, আমার মর্যাদা বেশি। কারণ আমার ভেতরে ক্ষমতাবান দাম্ভিকরা থাকবে। বড় বড় পদ মর্যাদার অধিকারী, সম্পদশালী, অহংকারীরা আমার ভেতরে থাকবে। এভাবে দোযখ গর্ব করবে। 

এর বিপরীতে বেহেশত বলবে, আমার ভেতরে দুর্বল মিসকিন জাতীয় লোক থাকবে। বেহেশত এভাবে গর্ব করবে। আল্লাহ তায়ালা এতদুভয়ের মধ্যে মীমাংসা করবেন। বেহেশতকে সম্বোধন করে বলবেন, তুমি তো বেহেশত। আমার রহমত-দয়ার নিদর্শন এবং তা বর্ষণের স্থান। 

তোমার মাধ্যমে আমি যার উপর চাই স্বীয় রহমত বর্ষণ করি। আর দোযখকে সম্বোধন করে বলবেন, তুমি তো দোযখ। আমার শাস্তির নিদর্শন ও তা আপতিত হওয়ার স্থান। তোমার মাধ্যমে আমি যাকে চাই শাস্তি দেব। উভয়কে আমি এ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি-আমি তোমাদের দু’জনকে পূর্ণ করে দেব। আমার রহমতপ্রাপ্ত লোকদের দ্বারা বেহেশতকে পূর্ণ করবো। আমার শাস্তিপ্রাপ্ত লোকদের দ্বারা দোযখ পূর্ণ করবো। আল্লাহ তায়ালা আমাদের হেফাজত করুন। আমিন।

দুর্বল ও মিসকিনরা বেহেশতে যাবে:

বেহেশত দুর্বল ও মিসকিন দ্বারা পূর্ণ হবে। বাহ্যত দেখতে যাদেরকে দুর্বল মনে হয়, যারা বিনয়ী হয়, অন্যদের সঙ্গে নম্রতার আচরণ করে, বিনয় অবলম্বন করে, নিজেকে ছোট মনে করে, এরূপ লোকদের দ্বারা বেহেশত পূর্ণ হবে।

অহংকার আল্লাহর কাছে অপছন্দনীয়:

দোযখকে আল্লাহ তায়ালা অহংকারীদের দ্বারা পূর্ণ করে দেবেন। কারণ অহংকারী ওই ব্যক্তি যে নিজেকে অন্যের ওপর বড় মনে করে এবং অন্যদেরকে ছোট মনে করে। এ অহংকার ও গর্ব এক মুহূর্তের জন্যও আল্লাহ তায়ালার কাছে পছন্দনীয় নয়। এক  হাদিসে আছে, আল্লাহ তায়ালা বলেন,

الكبرياء ردائي، فمن نازعني فيه قذفته في النار

‘বড়ত্ব আমার চাদর। আমার গুণ-আল্লাহু আকবার-আল্লাহ সবচে বড় । যে আমার চাদর নিয়ে ঝগড়া করবে, তাকে আগুনে ফেলে দেব’।

অহংকার আসলে দোযখে পৌঁছার আমল। আল্লাহ তায়ালা স্বীয় রহমতে এ গুনাহ থেকে রক্ষা করুন। এটি মারাত্মক গুনাহ। ‘উম্মুল আমরাদ’ সব রোগ বা পাপের মূল। অহংকার দ্বারা বহু পাপের পথ খুলে যায়। একবার যখন মানুষের অন্তরে অহংকার এসে যায়, নিজেকে বড় মনে করতে থাকে, তখন সে মানুষকে বিভিন্ন পাপে জড়িত করে দেয়।

অহংকারীর উপমা:

আরবি ভাষায় একটি বিস্ময়কর ও বিজ্ঞচিত বচন আছে, যার অর্থ হলো, অহংকারীর উপমা ওই ব্যক্তির মতো, যে পর্বতচূড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। উঁচুতে হওয়ার কারণে সে অন্যদেরকে ছোট মনে করে, অন্যরাও তাকে ছোট মনে করে। 

অহংকারী যখন অন্যদের প্রতি দৃষ্টিপাত করে, তার অন্তরে অন্যদেরকে হেয় মনে হয়। আর কোনো মুমিন তো দূরে থাক, কাফেরের প্রতিও তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে তাকানো কবিরা গুনাহ। 
অহংকারী ব্যক্তি অন্যদেরকে হেয় দৃষ্টিতে দেখে। যতো মানুষকে হেয় দৃষ্টিতে দেখবে, তত কবিরা গুনাহ তার আমল নামায় বৃদ্ধি পেতে থাকবে। অহংকারী যখন অন্যদের সঙ্গে কথা বলে, কর্কষভাবে কথা বলে। যার দ্বারা অন্যের হৃদয় ভাঙ্গে। কোনো মুসলমানের হৃদয় ভাঙ্গাও গুনাহ।

বেহেশদে দুর্বল ও মিসকিনদের আধিক্য:

এ হাদিসের দ্বিতীয়াংশে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, বেহেশত দুর্বল ও মিসকিনদের দ্বারা পূর্ণ থাকবে। তোমরা দুনিয়াতে যাদেরকে দরিদ্র, সাধারণ কাপড় পরিধানকারী মনে করতে, যাদের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হতো না, এরূপ লোকদের অধিকাংশই আল্লাহ তায়ালার নিকটবর্তী হয়। 

তাদের অন্তরে আল্লাহ তায়ালার প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা থাকে, আল্লাহর রহমত তাদের উপর অবতীর্ণ হয়। এরূপ লোকদের অধিকাংশই বেহেশতে থাকবে।

কোরআনে কারিমের মধ্যে নবীদের ঘটনাবলী দেখুন। দুনিয়াতে যত নবী আগমন করেছেন তাদের অনুসারীরা দরিদ্র ও মিসকীন প্রকৃতির ছিল। এ কারণেই মুশরিকরা আপত্তি করতো আমরা তাদের সঙ্গে কীভাবে বসবো? 

তাদের কেউ তো মৎসশিকারী জেলে, কেউ তো মিস্ত্রী, কেউ অন্য কোনো সাধারণ পেশার লোক। এরা আপনার কাছে এসে বসে। আমরা সরদার, আমরা তাদের সঙ্গে কীভাবে বসবো? 

আল্লাহ তায়ালা তাদের উপর দরিদ্রদের অনুগ্রহ করেছেন। তাদেরকে এমন উচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন অন্যরা যার জন্য লালায়িত। তাই বাহ্যত যারা দুর্বল তাদেরকে তুচ্ছ মনে করো না। তাদের সঙ্গে কখনো অবজ্ঞার আচরণ করো না।

দুর্বল ও মিসকিন কারা:

এ হাদিসের উল্লেখযোগ্য আরেকটি বিষয় হলো, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতে দু’টি শব্দ ব্যবহার করেছেন। ১. ضعفاء ২. مساكين। ضعفاء অর্থ হলো-শারীরিক, আর্থিক ও পদ মর্যাদার বিচারে যে দুর্বল। আর مساكين শব্দটি مسكين এর বহুবচন। মিসকীন দু’টি অর্থে আসে। 

১. যার কাছে পয়সা নেই, যে দরিদ্র তাকে মিসকিন বলে। ২. মিসকিন ওই ব্যক্তি যার স্বভাব-চরিত্রে নম্রতা থাকে। তার কাছে পয়সা থাকুক বা না থাকুক তার স্বভাবে কোনো অহংকার নেই, সে মিসকিনদের সঙ্গে উঠা-বসা করে। মিসকিনদেরকে কাছে রাখে। তার স্বভাবে নম্রতা আছে, অহংকার নেই। এরূপ লোক মিসকিনদের দলভুক্ত হবে।

বিনয় ও সম্পদ একত্রিত হতে পারে:
  
এ সন্দেহ না থাকা চাই যদি কারো মাল থাকে, সে স্বচ্ছল হয়, অবশ্যই সে দোযখে যাবে, ‘আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন’ বিষয়টি এমন নয়। বরং আল্লাহ তায়ালা তাকে সম্পদ দিয়েছেন, এটি আল্লাহ তায়ালার একটি নেয়ামত। 

তবে যদি স্বভাবে বিনয় ও নম্রতা থাকে, অহংকার না থাকে, অন্যদের সঙ্গে আচরণ সুন্দর হয়, আল্লাহ তায়ালাও বান্দার হক আদায় করেন। সেও আল্লাহ চাহে তো মিসকিনদের দলভুক্ত হবে।

দরিদ্রতা ও নম্রতা ভিন্ন ভিন্ন জিনিস:

এক হাদিসে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দোয়া করেছেন,

اللهم أحيني مسكينا و أمتني مسكينا و احشرني في زمرة المساكين

‘হে আল্লাহ! আমাকে মিসকিন অবস্থায় জীবিত রাখ, মিসকিন অবস্থায় মৃত্যু দাও এবং মিসকিনদের সঙ্গে আমার হাশর করো’।

অন্য একটি হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দোয়া করেছেন,

اللهم إني أعوذ بك من الفقر

‘হে আল্লাহ! আমি দরিদ্রতা ও অন্যের মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে
তোমার কাছে আশ্রয় চাই’।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দরিদ্রতা থেকে আশ্রয় ও মিসকিনি কামনা করেছেন। এতে প্রতীয়মান হয়-মিসকিনি অন্য কোনো জিনিস, দরিদ্রতা নয় বরং মিসকিনি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, স্বভাবের নম্রতা, বিনয়, মিসকিনদের সঙ্গে সদাচার। 

যদি বিনয় নম্রতা অন্তরে সৃষ্টি হয়ে যায় তাহলে সে আল্লাহ তায়ালার রহমতে হাদিসে বর্ণিত সুসংবাদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

চলবে...

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে