প্রবীণদের অধিকার রক্ষায় ইসলামি দর্শনই যথার্থ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১২ ১৪২৭,   ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

প্রবীণদের অধিকার রক্ষায় ইসলামি দর্শনই যথার্থ

গাজী মো. রুম্মান ওয়াহেদ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪৫ ১ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৭:০৮ ১ অক্টোবর ২০২০

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো বৃদ্ধকে তার বয়সের কারণে সম্মান করল, আল্লাহপাকও অন্যের দ্বারা তাকে সম্মান করাবেন।’ (সুনানে আবু দাউদ)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো বৃদ্ধকে তার বয়সের কারণে সম্মান করল, আল্লাহপাকও অন্যের দ্বারা তাকে সম্মান করাবেন।’ (সুনানে আবু দাউদ)।

আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। ‘বৈশ্বিক মহামারির বার্তা, প্রবীণদের সেবায় নতুন মাত্রা’ স্লোগান নিয়ে বিশ্বের সব দেশের মতো বাংলাদেশেও  উদ্যাপিত হচ্ছে দিবটি।

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশ ষাটোর্ধ্ব বয়সী।  দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।

১৯৯০ সালে জাতিসংঘ প্রতি বছর ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রবীণদের সুরক্ষা এবং অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি বার্ধক্যের বিষয়ে বিশ্বব্যাপী গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৯১ সাল থেকে দিবসটি পালন শুরু হয়।

আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অর্থাৎ পারিবারিক, সামাজিক ও জাতীয় জীবনে প্রবীণদের অবদান অপরিসীম। তাই তাদের সবসময় শ্রদ্ধা ও সম্মান করতে হবে। তাদের যথার্থ মূল্যায়ন করা হলে আগামী প্রজন্মও আমাদের মূল্যায়ন করবে। 

প্রবীণদের সম্মান করা বিষয়ে অনেক হাদিস এসেছে। একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো বৃদ্ধকে তার বয়সের কারণে সম্মান করল, আল্লাহপাকও অন্যের দ্বারা তাকে সম্মান করাবেন।’ (সুনানে আবু দাউদ)।

পিতা-মাতা অকৃত্রিম বন্ধু ও আমাদের প্রতি পরম দয়াবান। পৃথিবীতে তাদের মতো আর কেউ নেই। অন্যদের বন্ধুত্বে কোনো স্বার্থ থাকতে পারে; কিন্তু পিতা-মাতার স্নেহ-মায়া ও দান-দয়ায় কোনো স্বার্থ নেই। সন্তানের প্রতি তাদের দরদ স্নেহ ও দয়া হয় নির্মল ও নিষ্কলুষ। সৃষ্টির মধ্যে তাদের মতো দরদি আর কেউ থাকার প্রশ্নই আসতে পারে না।

তাই প্রবীণদের অধিকার রক্ষায় ইসলামি দর্শনই যথার্থ। পবিত্র কোরআনুল কারিমে মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ,

وَقَضَى رَبُّكَ أَلاَّ تَعْبُدُواْ إِلاَّ إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلاَهُمَا فَلاَ تَقُل لَّهُمَآ أُفٍّ وَلاَ تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلاً كَرِيمًا
‘তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারো এবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব-ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং বলো তাদেরকে শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা।’ (সূরা: বনি ইসরাইল : ২৩)।

তাদের সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক আরো ইরশাদ করেছেন,

وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُل رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
‘তাদের সামনে ভালোবাসার সঙ্গে, নম্রভাবে মাথা নত করে দাও এবং বলঃ হে পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম করো, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।’
 (সূরা: বনি ইসরাইল: ২৪)

হাদিসে এসেছে, হজরত উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মুমিন বান্দা যখন চল্লিশ বছর বয়সে উপনীত হন, তখন আল্লাহপাক তার হিসাব-নিকাশ সহজ করে দেন। যখন ষাট বছরে উপনীত হন, তখন আল্লাহ তাকে আল্লাহভীরুতা দান করেন। যখন সত্তর বছরে উপনীত হন, তখন আসমানের অধিবাসীরা তাকে ভালোবাসতে শুরু করেন। যখন তিনি আশি বছরে উপনীত হন, আল্লাহ তখন তার ভালো কাজগুলোকে সুবিন্যস্ত করে দেন এবং খারাপ কাজগুলো মিটিয়ে দেন। আর যখন তিনি নব্বই বছর বয়সে উপনীত হন, তখন আল্লাহপাক তার আগের-পরের সব গুনাহ মাফ করে দেন, তার পরিবারের জন্য সুপারিশ করার অধিকার প্রদান করেন এবং আসমানে তার নামের সঙ্গে লেখা হয়- ‘এই বান্দা পৃথিবীতে আল্লাহর জন্য আবদ্ধ।’ (মুসনাদে আহমদ)।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে