নিষিদ্ধ সাজসজ্জা (শেষ পর্ব)

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৭ ১৪২৭,   ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

নিষিদ্ধ সাজসজ্জা (শেষ পর্ব)

কানীয ফাতেমা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৫৫ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ২০:৩৯ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য কালো কলপ ব্যবহার করা নিষেধ। যারা কালো কলপ ব্যবহার করবে তারা জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না। কালো কলপ ব্যতীত যেকোনো রং ব্যবহার করা যাবে। (মুসলিম হা/৫৪০২; মিশকাত হা/৪৪২৪, ৪৪২৫)

নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য কালো কলপ ব্যবহার করা নিষেধ। যারা কালো কলপ ব্যবহার করবে তারা জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না। কালো কলপ ব্যতীত যেকোনো রং ব্যবহার করা যাবে। (মুসলিম হা/৫৪০২; মিশকাত হা/৪৪২৪, ৪৪২৫)

খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগে বনু আসাদ গোত্রের উম্মু ইয়াকূব নাম্নী এক নারী শুনতে পেলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) যারা সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে ভ্রূ উপড়ে ফেলে, দাঁত সরু করে আল্লাহর সৃষ্টি বদলে দেয় তাদের প্রতি অভিসম্পাত বর্ষণ করেছেন।

এই বক্তব্য শুনে উম্মু ইয়াকূব সোজা ইবনে মাসউদের বাড়িতে চলে আসেন। এসে জিজ্ঞেস করেন, এ কেমন কথা? ইবনে মাউদ বললেন, ‘কেন আমি তাদেরকে অভিশাপ দেব না, যাদেরকে স্বয়ং আল্লাহর রাসূল (সা.) অভিশাপ দিয়েছেন এবং কোরআনে নিন্দা করা হয়েছে’?

নারী বললেন, আল্লাহর কসম! আমি পূর্ণ কোরআন পাঠ করেছি, কিন্তু এ কথা কোথাও পাইনি। তিনি বললেন, ‘আল্লাহর কসম! তুমি যদি তা পড়তে, তবে অবশ্যই পেতে যে, ‘রাসূল তোমাদেরকে যা দেন তা গ্রহণ কর, আর যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক’ (হাশর ৫৯/৭)। (২৬)

আরো পড়ুন >>> নিষিদ্ধ সাজসজ্জা (পর্ব-১)

৮. পরচুলা লাগানো: বিয়ে উপলক্ষে বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে চুলের গোছা ভারী বা দীর্ঘ দেখানোর জন্য অথবা টাক ঢেকে রাখার জন্য নকল চুল লাগানো হয়। নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য পরচুলা লাগানো হারাম। কেননা তা প্রতারণার শামিল। শরীয়াতের একটি অন্যতম মূলনীতি হলো, যে ব্যক্তি পাপকাজে সহয়তা করবে সে পাপে লিপ্ত ব্যক্তির ন্যায় সমান পাপী হবে। 

রাসূলুল্লাহর (সা.) বলেছেন, لَعَنَ اللهُ الْوَاصِلَةَ وَالْمُسْتَوْصِلَةَ ‘আল্লাহ তায়ালা লানত করেন সেসব নারীদেরকে যারা নিজে পরচুলা লাগায় এবং যারা অন্যদের লাগিয়ে দেয়’। (২৭)

জনৈক নারী রাসূলুল্লাহ (সা.) এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল, ‘হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আমার এক মেয়ের বসন্ত রোগ হয়ে মাথার চুল পড়ে গেছে। আমি তাকে বিয়ে দিয়েছি। তার মাথায় কি পরচুলা লাগাব? রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, ‘যে নিজে পরচুলা লাগায় এবং যে তা লাগিয়ে দেয় তাদের উভয়ের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত’। (২৮)

আয়েশা (রা.) বলেন, কোনো এক আনসার নারী তার মেয়েকে বিয়ে দিলেন। কিন্তু তার মাথার চুলগুলো উঠে যেতে লাগালো। এরপর সে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর নিকট এসে এ ঘটনা বর্ণনা করে বলল, তার স্বামী আমাকে বলেছে যে, আমি যেন আমার মেয়ের মাথায় কৃত্রিম চুল লাগিয়ে দেই। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘না, তা কর না। কারণ আল্লাহ তায়ালা এ ধরনের নারীদের ওপর লানত বর্ষণ করেন, যারা মাথায় কৃত্রিম চুল লাগায়’। (২৯)

হুমাইদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) বলেন, আমি যে বছর হজ করেছি, সে বছরই মুআবিয়া (রা.)-কে মিম্বরে ভাষণ দিতে দেখেছি। তিনি তার একজন রক্ষীর হাত থেকে এক গোছা পরচুলা হাতে নিয়ে বললেন, ‘হে মদিনাবাসী! তোমাদের আলেমরা কোথায়? আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে এসব জিনিস ব্যবহার করতে নিষেধ করতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, বনী ইসরাঈল তখনই ধ্বংস হয়েছে, যখন তাদের নারীরা এ ধরনের জিনিস ব্যবহার করা শুরু করেছে’। (৩০)

কৃত্রিম চুল বা পরচুলা (টেসেল) নিজের চুল বেশি দেখানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হারাম, স্বামী চাইলেও তা লাগানো যাবে না। রাসূল (সা.) বলেন, أَيُّمَا امْرَأَةٍ زَادَتْ فِيْ رَأْسِهَا شَعْرًا لَيْسَ مِنْهُ، فَإِنَّهُ زُوْرٌ ‘যে নারী তার মাথায় এমন চুল বাড়তি লাগায় যা তার মাথার নয়, সে তার মাথায় জালিয়াতি সংযোগ করে। (৩১)

যে মেয়েরা মাথায় পরচুলা লাগিয়ে বড় খোঁপা প্রদর্শন করে আল্লাহর রাসূল (সা.) তাদের ওপর অভিসম্পাত করেছেন। [32] 

অবশ্য কোনো  নারীর মাথায় যদি আদৌ চুল না থাকে, তবে ওই ত্রুটি ঢাকার জন্য তার পক্ষে পরচুলা ব্যবহার বৈধ। (৩৩)

সৌন্দর্যের জন্য সামনের কিছু চুল ছাঁটা অবৈধ নয়। তবে কোনো অভিনেত্রী বা কাফের নারীদের অনুকরণে তাদের মতো অথবা পুরুষদের মতো করে চুল ছাঁটা হারাম। (৩৪)

৯. বিভিন্ন প্রসাধনী, অঙ্গরাগ ও অলঙ্কার: চোখের পাতায় অতিরিক্ত ল্যাশ বা লোম লাগানো বৈধ নয়। কারণ তা পরচুলার সাদৃশ্য বহন করে। রাসূলুল্লাহ (সা.) এর বাণী অনুযায়ী এধরনের প্রসাধনী ব্যবহারকারিণী রমণী অভিশপ্ত। (৩৫)

স্বামীর দৃষ্টি ও মন আকর্ষণের জন্য ঠোট-পালিশ, গাল-পালিশ প্রভৃতি অঙ্গরাগ ব্যবহার বৈধ যদি তাতে কোন প্রকার হারাম বা ক্ষতিকর পদার্থ মিশ্রিত না থাকে। (৩৬)

নখ কেটে ফেলা মানুষের এক প্রকৃতিগত রীতি। প্রতি সপ্তাহে একবার না পারলেও ৪০ দিনের ভেতর কেটে ফেলতে হয়। (৩৭)  

কিন্তু এই প্রকৃতির বিরোধিতা করে কতক নারী নখ লম্বা করে, যাতে সৌন্দর্য আছে বলে তারা মনে করে। নিছক পাশ্চাত্যের নারীদের অনুকরণে লম্বা নখে নেইল পালিশ লাগিয়ে বন্য সুন্দরী সাজে। রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি যে জাতির অনুকরণ করে, সে সেই জাতির অন্তর্ভুক্ত’। ৩৮)

নেইল পালিশ ব্যবহার বৈধ নয়, কারণ এতে ওজুর অঙ্গে পানি প্রবেশ করে না। এরপরও যদি ব্যবহার করে তবে ওজুর পূর্বে তা তুলে ফেলতে হবে। নচেৎ ওজু হবে না। (৩৯)।

এজন্য উত্তম সময় হলো মাসিকের কয়েক দিন। তবে মাসিক থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য ফরজ গোসলের পূর্বে অবশ্যই তা তুলে ফেলতে হবে।

নারীদের চুলে, হাতে ও পায়ে মেহেদি ব্যবহার করা বৈধ। বরং নারীদের নখ সর্বদা মেহেদি দ্বারা রাঙ্গিয়ে রাখাই উত্তম। (৪০) 
মেহেদীতে পানি আটকায় না। সুতরাং তা না তুলে ওজু-গোসল হয়ে যাবে। (৪১)

পায়ে বাজনা বিহীন নুপুর পরা বৈধ। বাজনা থাকলে বাইরে যাওয়া বা বেগানার সামনে শব্দ করে চলা হারাম। শুধু  স্বামী বা এগানার সামনে বাজনা ওয়ালা নুপুর ব্যবহার করা যায়। (৪২)

অতিরিক্ত উঁচু সরু হিল জুতা পরা বৈধ নয়। কারণ এতে নারীর চলনে দৃষ্টি আকর্ষক ভঙ্গিমা সৃষ্টি হয়, যাতে পুরুষ প্রলুব্ধ হয়। (৪৩)

১০. উল্কি বা ট্যাটু আঁকা: চামড়ায় ধারালো সরু কাঠি, হাড় বা সূচ ফুটিয়ে দিয়ে তাতে রং ঢেলে স্থায়ীভাবে নক্সা আঁকাকে উল্কি উৎকীর্ণ বলে। 

জাহেলী যুগে লোকজন এই পদ্ধতিতেই দেহে উল্কি উৎকীর্ণ করত। কালের পরিক্রমায় এখন ইলেক্ট্রিক মেশিনের সাহায্যে ট্যাটু আঁকা হয়। উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীরা পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অনুকরণে নিছক শখের বশে তাদের হাতে, কাঁধে ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ট্যাটু অংকন করে।

অনেক যুবক-যুবতীর নিকট উল্কি হলো একটি শিল্পকলা। কেউ কেউ অভিজ্ঞ শিল্পীর সুনিপুণ হাতের ছোঁয়ায় শরীরকে সৌন্দর্যের ক্যানভাসে রূপ দিতে চায়। তাদের জন্যই রয়েছে একটি সতর্কবার্তা। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, (সুন্দরতর বস্ত্ততে) বদনজর লাগা একটি ধ্রুব সত্য বিষয়। তাই তিনি উল্কি অঙ্কণ করতে নিষেধ করেছেন। (৪৪) 

তিনি নিষেধ করেছেন রক্ত ও কুকুরের মূল্য নিতে এবং লানত করেছেন সূদ গ্রহীতা, সূদ দাতা, উল্কি অঙ্কনকারী, উল্কি গ্রহণকারী নারীদের প্রতি। (৪৫)

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ট্যাটু আঁকা যেমন নিষিদ্ধ, চিকিৎসা বিজ্ঞানেও এটি স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ। চর্মবিজ্ঞানের একজন সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ রবার্ট ট্যামাসিক মন্তব্য করেন, ‘আসলে তুমি উল্কি করে চামড়াকে দু’ভাগ করছ এবং সেই জায়গাগুলোতে রঞ্জক পদার্থ প্রবেশ করাচ্ছ। এমনকি যদিও সূচটি চামড়াকে একটুই চিরছে কিন্তু যখনই তুমি চামড়ায় ফুটো করছ, তখনই তোমার ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসজনিত ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি থাকে’। 

সূচের বারংবার ব্যবহারে খুব সহজেই হেপাটাইটিস-বি, সি ও এইডসের ভাইরাস একজন থেকে অন্যজনের দেহে ছড়াতে পারে। ইউরোপিয়ান কেমিক্যাল এজেন্সী সম্প্রতি একটি গবেষণা চালিয়েছে। গবেষকগণ জানিয়েছেন, ‘ট্যাটু করানোর কালিতে এক ধরনের ক্ষতিকর ক্ষুদ্র কণা থাকে যা খালি চোখে দেখা যায় না। ত্বকে সূচ ফোঁটালে খুব সহজেই এই ক্ষুদ্র কণা প্রথমে রক্তনালীতে এবং পরে সারাদেহে ছড়িয়ে পড়ে যা মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতে ক্ষতি করে। ফলে ত্বকে ঘা, চুলকানি থেকে ক্যান্সার পর্যন্ত হ’তে পারে’। (৪৬)

এখানেই ইসলামের বিশেষত্ব ফুঁটে উঠেছে। আজকের চিকিৎসা বিজ্ঞান আমাদের যে বিষয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছে, সে ব্যাপারে মহান আল্লাহ বহু আগেই কোরআনে সতর্ক করেছেন। আফসোস এই যে, আধুনিকতার দাবীদার এসব প্রবৃত্তি পূজারীরা যদি ডাক্তারের সতর্কবার্তার চেয়ে আমাদের স্রষ্টা আল্লাহর নিষেধাজ্ঞাকে প্রাধান্য দিত, তাহলে ইহকালে মরণব্যাধী ক্যান্সার ও পরকালে মর্মন্তুদ শাস্তি হতে মুক্তি পেত। উল্লেখ্য যে, নাক-কান ফুড়িয়ে অলঙ্কার ব্যবহার করা বৈধ। (৪৭)

১১. ত্বক ফর্সাকরণ: আজকাল ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। বিক্রেতাদের চটকদার কথার ফুলঝুরিতে সরলমতি ভোক্তারা মাসের পর মাস পকেটের টাকা খরচ করছেন, বিনিময়ে ত্বকের ক্ষতি ব্যতীত সত্যিকারার্থে কোনো উপকার পাচ্ছেন না। 
ত্বকের রঙ কালো বা ফর্সা হওয়া মেলালিনের ওপর নির্ভর করে, যা মহান আল্লাহর সৃষ্টি। যিনি আমাদের রিজিক দিচ্ছেন, লালন-পালন করছেন, বেঁচে থাকার জন্য প্রতিমুহূর্তে অক্সিজেন দিচ্ছেন, যিনি আমাদের প্রতিমুহূর্তে অগণিত নে‘মতে ডুবিয়ে রেখেছেন, সে রব প্রদত্ত রং ও আকৃতিতে বান্দা নাখোশ হয় কি করে? আল্লাহর সৃষ্টিতে সন্তুষ্ট থাকাই কৃতজ্ঞ বান্দার পরিচয়। 

এক্ষণে স্বীয় রবের সৃষ্টিতে অসন্তুষ্ট হয়ে লেজার ট্রিটমেন্ট বা স্কীন ট্রান্সফরমেশনের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে ত্বকের রং পরিবর্তন করা অর্থাৎ কালো ত্বককে ফর্সা করা বৈধ নয়। কারণ তা আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তন করে, যেভাবে উল্কি অংকন ও দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করার মাধ্যমে আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তন করা হয়। ৪৮) 

কিন্তু যদি ত্বক মূলত শুভ্র ছিল, পরে অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে নিষ্প্রভ হয়ে যায় সেক্ষেত্রে মেডিসিনের মাধ্যমে প্রকৃত রং ফিরে পাওয়া দোষণীয় নয়। (৪৯)

১২. কাফিরদের অনুকরণে চুল কাঁটা: দীঘল চুলেই নারীদের প্রকৃত সৌন্দর্য ফুঁটে উঠে। নারীদের জন্য চুল কামানো বা ন্যাড়া করা নিষিদ্ধ। নারীরা চুল কাটতে পারবে কি-না এ প্রশ্নের উত্তরে শাইখ বিন বায (রহ.) বলেন, ‘স্বামীর পছন্দও রুচিসম্মত হলে চুলের দৈর্ঘ্য কমানো দোষণীয় নয়’। (৫০) 

তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো (১) পুরুষদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়া যাবে না। ইবনু আববাস (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা পুরুষের সঙ্গে নারীর এবং নারীর সঙ্গে পুরুষের সাদৃশ্য পোষণকারীকে অভিসম্পাত করেছেন’। (৫১) 

(২) অমুসলিমদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়া যাবে না। ইবনু ওমর (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত’। (৫২) যেমন- ‘ডায়েনা’ স্টাইলে চুল কাঁটা, খৃষ্টানদের মতো ববকাট চুল রাখা ইত্যাদি। আর পশুর আকৃতিতে চুল কর্তন করা নিষিদ্ধ। (৫৩) 

এছাড়া চুলের কিছু অংশ কেঁটে ফেলতে এবং কিছু অংশ রেখে দিতে রাসূলুল্লাহ (সা.) নিষেধ করেছেন। (৫৪)

১৩. কালো কলপ ব্যবহার করা: নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য কালো কলপ ব্যবহার করা নিষেধ। যারা কালো কলপ ব্যবহার করবে তারা জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না। কালো কলপ ব্যতীত যেকোনো রং ব্যবহার করা যাবে। (৫৫)

পরিশেষে বলব, একজন নারী খুব সহজেই তার চিন্তা, অভিরুচি, মননশীলতা, রুচিশীলতা ও নান্দনিকতা তার পরিবার থেকে ধীরে ধীরে জাতীয় জীবনে ছড়িয়ে দিতে পারে। আজকের নারীসমাজ যদি স্বর্ণযুগের মুসলিম নারীদের দিকে দৃষ্টিপাত করে, তবে দেখতে পাবে তারা সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতায় নয় বরং তাক্বওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিলেন। 

‘কে কার চেয়ে বেশি সুন্দরী’ এসব ঠুনকো বিষয়ে মাথা না খাটিয়ে, ইসলামের পথে কিভাবে আত্মনিয়োগ করা যায় তারা সেকথা ভাবতেন। আমরা কি পারি না হকের পথে চলতে? আল্লাহর নিকট রং, রূপ, আকৃতি, অর্থ-বিত্ত, বৈভব এসব কোন কিছুই প্রণিধানযোগ্য নয়। তাঁর নিকট ওই ব্যক্তিই সম্মানিত, যিনি তাক্বওয়ায় সবার চেয়ে অগ্রগামী (সূরা: হুজুরাত ৪৯/১৩)। 

আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর নির্দেশিত পথে চলার তাওফিক দিন। আমিন!

সূত্র: 

(২৬) বুখারী হা/৫৯৩৯, মুসলিম হা/৫৪৬৬, ইবনু মাজাহ হা/১৯৮৯, আবু দাউদ হা/৪১৬৯।

(২৭) বুখারী হা/৫৯৩৩; মুসলিম হা/২১২২; ইবনু মাজাহ হা/১৯৮৭।

(২৮) বুখারী হা/৫৯৪১; মুসলিম হা/৫৪৫৮।

(২৯) বুখারী হা/৫৯৩৪; মুসলিম হা/৫৪৬২।

(৩০) বুখারী হা/৫৯৩২, ৫৯৩৮; মুসলিম হা/৫৪৭১, ৫৪৭৩।

(৩১) ছহীহুল জামে‘ হা/২৭০৫।

(৩২) ছহীহুল জামে‘ হা/৫১০৪; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২/৮২৯।

(৩৩) উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২/৮৩৬; ফাতাওয়াল মারআহ, পৃঃ ৮৩।

(৩৪) উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২/৮২৬-৮৩১; ফাতাওয়াল মারআহ, পৃঃ ১০৭-১১১।

(৩৫) মুহাম্মাদ ছালেহ আল-মুনাজ্জিদ, ইসলাম কিউ এ, ফৎওয়া নং ৩৯৩০১।

(৩৬) উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২/৮২৯।

(৩৭) মুসলিম, আবু দাঊদ, নাসাঈ, তিরমিযী, আদাবুয যিফাফ, পৃঃ ২০৬।

(৩৮) আবূ দাউদ হা/৪০৩১, আদাবুয যিফাফ, পৃঃ ২০৫।

(৩৯) ইলা রাববাতিল খুদূর, পৃঃ ১০১।

(৪০) আবু দাঊদ, মিশকাত হা/৪৪৬৭।

(৪১) ফাতাওয়াল মারআহ, পৃঃ ২৬।

(৪২) ফাতাওয়াল মারআহ, পৃঃ ৮০।

(৪৩) ইলা রাববাতিল খুদূর, পৃঃ ৮৬।

(৪৪) বুখারী হা/৫৯৪৪।

(৪৫) বুখারী হা/৫৯৪৫।

(৪৬) দৈনিক কালের কণ্ঠ, ২৮শে আগষ্ট, ২০১৬।

(৪৭) ফাতাওয়াল মারআহ, পৃঃ ৮২।

(৪৮) উছায়মীন, ফাতওয়া নূরুন আলাদ দারব।

(৪৯) ছালেহ আল-মুনাজ্জিদ, ইসলাম কিউএ, ফৎওয়া নং ১৭৪৩৭১।

(৫০) আব্দুল্লাহ বিন বায, ফাতাওয়া আল-মার’আতিল মুসলিমা ২/৫১৫।

(৫১) বুখারী, মিশকাত হা/৪৪২৯।

(৫২) আহমাদ, আবুদাঊদ, হা/৪৩৪৭।

(৫৩) ছালেহ আল-ফাওযান, ফাতাওয়া আল-মার’আতিল মুসলিমা ২/৫১৬, ৫১৭।

(৫৪) বুখারী হা/৫৯২০, ৫৯২১; মুসলিম হা/৫৪৫২।

(৫৫) মুসলিম হা/৫৪০২; মিশকাত হা/৪৪২৪, ৪৪২৫।

সংগ্রহে: প্রিয়ম হাসান

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে