নিষিদ্ধ সাজসজ্জা (পর্ব-১)

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১২ ১৪২৭,   ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

নিষিদ্ধ সাজসজ্জা (পর্ব-১)

কানীয ফাতেমা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৪৫ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ২১:৪০ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

মুসলিম নারীদের যাবতীয় সাজসজ্জা ও শোভা-সৌন্দর্য স্বামীর মনোরঞ্জনের জন্যই হবে।

মুসলিম নারীদের যাবতীয় সাজসজ্জা ও শোভা-সৌন্দর্য স্বামীর মনোরঞ্জনের জন্যই হবে।

ইসলাম নারীকে বৈধ সাজসজ্জা করতে বাধা দেয় না। বরং বিবাহিত নারীকে তার স্বামীর নিকট সুসজ্জিত ও পরিপাটি হয়ে থাকার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে।

পক্ষান্তরে অবৈধ সাজসজ্জা তাই, যা আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করে, মানব আকৃতি ও সূরতের পরিবর্তন ঘটায় এবং মানবচক্ষুকে প্রতারিত করে। কেননা ধোঁকাবাজির কোনো স্থান ইসলামে নেই।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে কেবল নারীকে আহ্বান করে। বস্ত্তত: তারা কেবল অবাধ্য শয়তানের পূজা করে। আল্লাহ তাকে অভিসম্পাত করেছেন। আর সে বলেছিল যে, অবশ্যই আমি তোমার বান্দাদের মধ্য থেকে একটা নির্দিষ্ট অংশকে আমার দলে টেনে নেব। আমি অবশ্যই তাদের পথভ্রষ্ট করব, তাদেরকে মিথ্যা আশ্বাস দেব, তাদেরকে আদেশ দেব যেন তারা পশুর কর্ণ ছেদন করে এবং তাদেরকে আদেশ করব যেন তারা আল্লাহর সৃষ্টি পরিবর্তন করে। যে ব্যক্তি আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, সে প্রকাশ্য ক্ষতিতে পতিত হয়’ (সূরা: নিসা ৪/১১৭-১১৯)।

কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, আজকাল কৃত্রিম রূপচর্চা মুসলিম নারী অঙ্গনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। পার্লার ব্যবসার নামে এই মহামারী শহরের অলি-গলি পেরিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ধর্মীয় বিধি-বিধানের প্রতি উদাসীন এমন নারীরা ‘পার্লার সংস্কৃতি’কে হাল ফ্যাশনের প্রতীকরূপে চিহ্নিত করে। অথচ এসব পার্লারগুলো রূপচর্চার আড়ালে শরীয়াত লংঘন করছে এবং অশ্লীলতার অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। আলোচ্য নিবন্ধে নিষিদ্ধ সাজসজ্জা সম্পর্কে আলোকপাত করার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ!

সাজসজ্জার প্রকার: ব্যবহারগত দিক থেকে সাজসজ্জা তিন প্রকার। যথা- ক. মুবাহ সাজসজ্জা, খ. মুস্তাহাব সাজসজ্জা, গ. হারাম সাজসজ্জা।

ক. মুবাহ বা বৈধ সাজসজ্জা: এটা এমন সাজসজ্জা যা শরীয়াতে বৈধ এবং করার ব্যাপারে শরীয়াত নারীকে অনুমতি প্রদান করেছে। এর অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে যথাযোগ্য স্থানে তথা স্বামী ও মাহরামের নিকটে নারীর সৌন্দর্যের প্রকাশ, রেশমী বস্ত্র ও অলংকার পরিধান, আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার ইত্যাদি। এই মুবাহ বা বৈধ সাজসজ্জাকারী সওয়াব পায় না এবং এটা পরিহার করার কারণে সে গোনাহগারও হয় না।

খ. মুস্তাহাব সাজসজ্জা: এটা এমন সাজসজ্জা যা করতে শরীয়াতে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করা হয়েছে। এ পর্যায়ের সাজসজ্জার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত অভ্যাসগত সুন্নাত সমূহ। যেমন গোফ খাটো করা, দাড়ি ছেড়ে দেয়া, মিসওয়াক করা, (অজুর সময়) নাকে পানি দিয়ে নাক ঝাড়া, নখ ছোট করা, আঙ্গুলের মাঝে খিলাল করা, বগলের লোম উপড়ানো, নাভীর নীচের লোম কাটা, পানি দ্বারা সৌচকার্য সম্পাদন করা ইত্যাদি।(১)

মুস্তাহাব বলতে বুঝায় যা করলে নেকী আছে। কিন্তু  তা ত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

গ. হারাম সাজসজ্জা: এটা এমন সাজসজ্জা যা শরীয়াতে নিষিদ্ধ, যার ব্যাপারে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়েছে। যেমন ভ্রূ উপড়ানো, নকল চুল লাগানো, পুরুষ ও কাফিরদের সাদৃশ্যপূর্ণ পোষাক পরিধান করা ইত্যাদি। হারাম হচ্ছে যা করলে শাস্তি দেয়া হয় এবং শরীয়াতের নির্দেশ পালনার্থে তা ত্যাগ করলে নেকী অর্জিত হয়।

সাজসজ্জা ও অপচয়: ইসলাম মধ্যপন্থী জীবন ব্যবস্থা। জীবনের সর্বক্ষেত্রে মধ্যপন্থী হওয়াকে ইসলাম পছন্দ করে। যুবতীরা সাজসজ্জা ও সৌন্দর্য বর্ধক কাজ করতে পসন্দ করে। কিন্তু এক্ষেত্রে মধ্যপন্থী ও মিতব্যয়ী হওয়া জরুরি। যারা অপচয় না করে পানাহার ও পরিচ্ছদ গ্রহণ করে তাদের প্রশংসা করে আল্লাহ বলেন, 

وَالَّذِيْنَ إِذَا أَنْفَقُوْا لَمْ يُسْرِفُوْا وَلَمْ يَقْتُرُوْا وَكَانَ بَيْنَ ذَلِكَ قَوَامًا 

‘তারা যখন ব্যয় করে, তখন অপব্যয় করে না বা কৃপণতা করে না। বরং তারা এতদুভয়ের মধ্যবর্তী অবস্থায় থাকে’ (সূরা: ফুরক্বান ২৫/৬৭)।

রাসূল (সা.) বলেন,

كُلُوْا وَاشْرَبُوْا وَالْبَسُوْا وَتَصَدَّقُوْا، فِىْ غَيْرِ إِسْرَافٍ وَلاَ مَخِيْلَةٍ 

‘তোমরা পানাহার করো, পোষাক পরিধান করো এবং দান-খয়রাত করো অপচয় না করে এবং অহংকার মুক্ত হয়ে’। (২) 

ইবনে আববাস (রা.) বলেন,

كُلْ مَا شِئْتَ وَالْبَسْ مَا شِئْتَ مَا أَخْطَأَتْكَ اثْنَتَانِ سَرَفٌ أَوْ مَخِيْلَةٌ 

‘যা ইচ্ছা খাও ও পরিধান কর, তবে যেন দু’টি জিনিস তোমাকে ত্রুটিযুক্ত না করে- অপচয় ও অহংকার’। (৩)

সুতরাং পরিমিত খরচের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বৈধ সাজসজ্জা করা মুসলিম নারীদের জন্য কর্তব্য। কিন্তু এসব সাজসজ্জায় অহংকার যুক্ত হলে তা হারাম হয়ে যাবে।

সাজসজ্জার উদ্দেশ্য: মুসলিম নারীদের যাবতীয় সাজসজ্জা ও শোভা-সৌন্দর্য স্বামীর মনোরঞ্জনের জন্যই হবে। যেমন- আল্লাহ বলেন, 

وَلاَ يُبْدِيْنَ زِينَتَهُنَّ إِلاَّ لِبُعُوْلَتِهِنَّ 

‘আর তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে তাদের স্বামীর নিকটে ব্যতীত’ (সূরা: নূর ২৪/৩১)।
 
রাসূল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, 

أَىُّ النِّسَاءِ خَيْرٌ قَالَ الَّتِى تَسُرُّهُ إِذَا نَظَرَ 

‘কোন নারী উত্তম? তিনি উত্তরে বললেন, যে স্বামীকে আনন্দিত করে যখন সে (স্বামী) তার দিকে তাকায়’। (৪) 

অপর একটি হাদিসে এসেছে, মু‘আবিয়া আল-কুশাইরী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের লজ্জাস্থানের কতখানি ঢেকে রাখবো, আর কতখানি খুলে রাখবো? 

তিনি বলেন, তোমার লজ্জাস্থান আপন স্ত্রী ও ক্রীতদাসী ছাড়া অন্যদের থেকে হেফাজত করবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার অভিমত কী যে, লোকেরা যদি একত্রে বসবাস করে? তিনি বলেন, যদি তুমি তা কাউকে না দেখিয়ে পারো, তবে অবশ্যই তা দেখাবে না। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ যদি নির্জনে থাকে? তিনি বললেন, আল্লাহ অধিক অগ্রগণ্য যে, মানুষের চেয়ে তাঁর প্রতি বেশি লজ্জাশীল হবে’। (৫) 

উপরোক্ত হাদিছ দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, নারীরা স্বামীকে খুশি করার জন্য নিজে সুসজ্জিত হবে এবং নিজের সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তুলবে।

নারীর রূপ-লাবণ্য, শোভা-সৌন্দর্য ও কমনীয়তা নারীর গর্ব। তার এ রূপ-যৌবন দেয়া হয়েছে কেবল তার স্বামীর জন্য। স্বামীকে সে রূপ উপহার না দিতে পারলে নারীজীবনের কোনো মূল্যই থাকে না। 
সুতরাং অঙ্গ যার জন্য নিবেদিত অঙ্গরাগও তার জন্যই নির্দিষ্ট হবে এটাই স্বাভাবিক। স্বামী ব্যতীত অন্য কারো জন্য অঙ্গসজ্জা করা ও তা প্রদর্শন করা বৈধ নয়। 

কালের পরিক্রমায় নারীদের মেকআপ ও প্রসাধন সামগ্রীর বৈচিত্র্য বেড়েছে। এগুলোর মধ্যে হালাল ও হারামের বিধান হলো ওই প্রসাধনী ব্যবহারে যেন অঙ্গের বা ত্বকের কোনো ক্ষতি না হয়। ওই দ্রব্যে যেন কোনো প্রকার অবৈধ বা অপবিত্র বস্ত্ত মিশ্রিত না থাকে এবং তা যেন বিজাতীয় নারীদের বৈশিষ্ট্য না হয়। যেমন সিঁদুর, শাখা, টিপ প্রভৃতি এবং তা যেন বেগানার সামনে প্রকাশ না পায়। (৬)

সুতরাং শরীয়াতের সীমার মধ্যে থেকে নারী যেকোনো প্রসাধনী কেবল স্বামীর মন আকর্ষণের জন্য ব্যবহার করতে পারে। তার সামনে পরিধান করতে পারে যেকোনো পোষাক, কেবল তার মনোরঞ্জনের জন্য। এই সাজসজ্জাতেও লুকিয়ে থাকে ভালোবাসার রহস্য।

পক্ষান্তরে স্ত্রী যদি স্বামীর জন্য অঙ্গসজ্জা না করে; বরং বাইরে গেলে বা অন্য কারো জন্য প্রসাধনী ব্যবহার করে, তবে নিশ্চয়ই সে নারী স্বামীর প্রেম-ভালোবাসার বিরোধী। নতুবা সে স্বামীর প্রেম ও দৃষ্টি আকর্ষণকে জরুরি মনে করে না। এমন নারী হতভাগী বৈ কি? 

সে জানে না যে, তার নিজের দোষে স্বামী অন্য নারীতে আসক্ত হয়ে পড়তে পারে।

সাজসজ্জার ক্ষেত্রে লক্ষণীয়: সাজসজ্জার ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, তাতে যেন শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দৃশ্যমান না হয় বরং পূর্ণরূপে সমস্ত দেহ আবৃত থাকে। তদ্রূপ পোষাক যেন আঁটসাঁট ও কাফিরদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ না হয়। সেই সঙ্গে পোষাকে যাতে বিভিন্ন ধরনের ছবি-মূর্তি অঙ্কিত না থাকে সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রসাধনীতে যেন হারাম ও ক্ষতিকর কিছু মিশ্রিত না থাকে।

নিষিদ্ধ সাজসজ্জা: নারীদের জন্য যেসব সাজসজ্জা নিষিদ্ধ তন্মধ্যে কতিপয় নিম্নে উল্লেখ করা হলো-

১. নগ্ন বা অর্ধনগ্ন হওয়া: নগ্ন-অর্ধনগ্ন হয়ে বাড়ীর বাইরে ঘোরাফিরা করা মুসলিম নারীদের জন্য জায়েয নয়। আল্লাহ বলেন,
 
وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلاَ تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى 

‘আর তোমরা নিজ গৃহে অবস্থান করবে। প্রাচীন জাহেলী যুগের ন্যায় সৌন্দর্য প্রদর্শন করে বেড়িয়ো না’ (আহযাব ৩৩/৩৩)। 

অন্যত্র তিনি বলেন,

وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ 

‘আর তুমি মুমিন নারীদের বলে দাও, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থান সমূহের হেফাজত করে। আর তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তবে যেটুকু স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ পায় সেটুকু ব্যতীত। আর তারা যেন তাদের মাথার কাপড় বক্ষদেশের উপর রাখে’ (সূরা: নূর ২৪/৩১)। 

নারীদের জন্য বাড়ীতে অবস্থান করা আবশ্যক। যদি জরুরি কোনো কারণে বাইরে যেতে হয়, তাহলে শারঈ পর্দা বজায় রেখে যেতে হবে। কিন্তু বর্তমানে নারীরা বাইরে বের হয় নগ্ন বা অর্ধনগ্ন হয়ে। শাড়ী পরলে পেটের অর্ধেক বের হয়ে থাকে। থ্রি-পিচ পরলে ওড়না ভালোভাবে পরিধান করে না। কোনো মতে বুকের ওপরে ফেলে রাখে। কেউবা নেট জাতীয় পোশাক পরিধান করে যাতে তাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দৃশ্যমান হয়। এসব নারীদের পরিণতি সম্পর্কে রাসূল (সা.) বলেন,

صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُوْنَ بِهَا النَّاسَ وَنِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيْلاَتٌ مَائِلاَتٌ رُءُوْسُهُنَّ كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ لاَ يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ وَلاَ يَجِدْنَ رِيْحَهَا وَإِنَّ رِيْحَهَا لَيُوْجَدُ مِنْ مَسِيْرَةِ كَذَا وَكَذَا

‘দুই শ্রেণির লোক জাহান্নামী, যাদেরকে এখনো আমি দেখিনি। ১. এমন সম্প্রদায় যাদের হাতে গরু তাড়ানোর লাঠি থাকবে, যা দ্বারা তারা মানুষকে প্রহার করবে। ২. নগ্ন পোষাক পরিধানকারী নারী, যারা পুরুষদেরকে নিজেদের প্রতি আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট হবে। তাদের মাথা বক্র উঁচু কাঁধ বিশিষ্ট উটের ন্যায় হবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এমনকি তারা জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না। 

অথচ জান্নাতের সুগন্ধি এত এত দূর হতে পাওয়া যায়। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘এক মাসের পথের দূরত্ব হতে পাওয়া যায়’। (৭) 

অন্যত্র রাসূল (সা.) বলেন, 

وَشَرُّ نِسَائِكُمُ الْمُتَبَرِّجَاتُ الْمُتَخَيِّلاَتُ وَهُنَّ الْمُنَافِقَاتُ لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْهُنَّ إِلاَّ مِثْلُ الْغُرَابِ الأَعْصَمِ 

‘তোমাদের নারীদের মধ্যে নিকৃষ্ট হলো যারা পর্দাহীনা অহংকারিণী। আর তারা হলো মুনাফিক নারী। তাদের মধ্য হতে কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না কেবল সাদা পা বিশিষ্ট কাকের ন্যায় ব্যতীত’। (৮)

২. আঁটসাঁট পোষাক পরা: পোষাক-পরিচ্ছদের উদ্দেশ্য হলো আবৃত করা। যা লজ্জাস্থান, সতর ও নারীদের সৌন্দর্যের স্থানগুলো ঢেকে রাখার জন্যই পরিধান করা হয়। যেমন- মহান আল্লাহ বলেন, 

يَابَنِي آدَمَ قَدْ أَنْزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِيْ سَوْآتِكُمْ وَرِيْشًا 

‘হে আদম সন্তান! আমরা তোমাদের ওপর পোষাক অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং অবতীর্ণ করেছি বেশভূষার উপকরণ সমূহ’ (সূরা: আ‘রাফ ৭/২৬)। 

এই উদ্দেশ্য ঢিলাঢালা ও পুরু পোষাক ব্যতীত পূরণ করা সম্ভব হয় না। কারণ আঁটসাঁট ও পাতলা পোষাকে শরীরের বিভিন্ন আকর্ষণীয় অঙ্গ স্পষ্টরূপে দৃশ্যমান হয়। তাই এ ধরনের পোষাক পরিধান করা মুসলিম নারীদের জন্য জায়েয নয়। যদিও তা মাহরাম পুরুষ এবং কোনো নারীর সামনেও হয়।

কেননা নারী তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বর্ণনা নিজ স্বামীর কাছে পেশ করবে। নারীদের সর্বাঙ্গ ঢেকে চলার জন্য আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন,

وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ 

‘আর তারা যেন তাদের মাথার কাপড় বক্ষদেশের ওপর রাখে’ (সূরা: নূর ২৪/৩১)। সুতরাং যে পোষাকে সৌন্দর্য প্রকাশিত হয়, তা পরিহার করতে হবে।

উল্লেখ্য, টাইটফিট পোশাক কেবল স্বামীর দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে বাড়ির অভ্যন্তরে পরিধান করা বৈধ। কিন্তু কোনো বেগানা ও নারীর সামনে, পিতা-মাতা বা সন্তানদের সামনেও তা ব্যবহার উচিত নয়। (৯)

তদ্রূপ কেবল স্বামীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য অন্তরবাস ব্যবহার করা বৈধ। অন্যকে ধোঁকা দেয়ার উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করা অবৈধ। (১০)

স্ক্যার্ট-ব্লাউজ বা স্ক্যার্ট-গেঞ্জি মুসলিম নারীর পোষাক নয়। বাড়িতে ও বেগানার সামনে এমন পোষাক পরিধান করা উচিত যাতে গলা থেকে পায়ের গিঁট পর্যন্ত আবৃত থাকে। (১১)

প্যান্ট-শার্ট মুসলিম নারীদের পোষাক নয়। নারীরা তা ব্যবহার করতে পারে না, যদিও তা ঢিলেঢালা হয় এবং টাইটফিট না হয়। কারণ এগুলো পুরুষদের পোষাক। আর পুরুষের বেশধারিণী নারী অভিশপ্ত। (১২)

৩. পুরুষ ও কাফিরদের সাদৃশ্যপূর্ণ পোষাক পরা: মুসলিম নারীরা তাদের জন্য নির্ধারিত পোষাক পরিধান করবে এটাই তাদের জন্য সমীচীন। পুরুষদের সাদৃশ্যপূর্ণ পোষাক পরিধানকারী নারীদের রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) অভিসম্পাত করেছেন। আবু হুরায়রাহ (রাঃ) বলেন,

أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَعَنَ الرَّجُلَ يَلْبَسُ لُبْسَةَ الْمَرْأَةِ وَالْمَرْأَةَ تَلْبَسُ لُبْسَةَ الرَّجُلِ 

‘রাসূল (সা.) সেই পুরুষের ওপর অভিশাপ করেছেন যে নারীর পোষাক পরিধান করে এবং সে নারীর ওপর অভিশাপ করেছেন যে পুরুষের পোষাক পরিধান করে’। (১৩) অন্যত্র তিনি বলেন,

الْمُتَشَبِّهِيْنَ مِنَ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ ، وَالْمُتَشَبِّهَاتِ مِنَ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ 

‘নবী করিম (সা.) ওইসব পুরুষকে লানত করেছেন যারা নারীর বেশ ধারণ করে এবং ওইসব নারীকে যারা পুরুষের বেশ ধারণ করে’। (১৪)

৪. খ্যাতির পোষাক পরা: আল্লাহ তায়ালা সুন্দর। তিনি সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা পছন্দ করেন। কিন্তু এতে সময় ও অর্থের অপচয় করা বৈধ নয়। কারণ আল্লাহ অপব্যয়কারীকে পছন্দ করেন না। আর অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। পক্ষান্তরে ফুলের সৌরভ ও রূপের গৌরব থাকেও না চিরদিন। এটা সবাইকে স্মরণ রাখতে হবে। 

বর্তমানে সুনাম-সুখ্যাতি ও প্রসিদ্ধি লাভের জন্য অনেকে বিভিন্ন পোষাক পরিধান করে। এই খ্যাতির পোষাক পরিধান করা নিষিদ্ধ। রাসূল (ছাঃ) বলেন,

مَنْ لَبِسَ ثَوْبَ شُهْرَةٍ فِى الدُّنْيَا أَلْبَسَهُ اللهُ ثَوْبَ مَذَلَّةٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ثُمَّ أَلْهَبَ فِيْهِ نَارًا 

‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে খ্যাতির পোষাক পরিধান করবে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে লাঞ্ছনার কাপড় পরিধান করাবেন। অতঃপর তাতে আগুন প্রজ্বলিত করা হবে’। (১৫)

স্মর্তব্য যে, অলংকার ও পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ে নারী মহলে আপোসে গর্ব করা এবং দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ক্ষণে ক্ষণে ‘ড্রেস চেঞ্জ’ করা বা অলঙ্কার বদল করা বা ডবল সায়া ইত্যাদি পরা আদর্শ নারীর বৈশিষ্ট্য নয়। গর্ব এমন এক কর্ম যাতে মানুষের সম্মান লোকের কাছে খর্ব হয়ে যায়।

৫. পোষাকে ছবি-মূর্তি অঙ্কিত না থাকা: যেসব পোষাকে বা অলংকার কোনো মানুষ বা জীব-জন্তুর ছবি অঙ্কিত থাকে তা ব্যবহার করা বৈধ নয়। যেহেতু ইসলাম ছবি ও মূর্তির ঘোর বিরোধী। (১৬) 
অনুরূপভাবে যে পোষাকে বা অলংকারে ক্রুশ, শঙ্খ, সর্প বা অন্যান্য কোনো বিজাতীয় ধর্মীয় প্রতীক অঙ্কিত বা খোদিত থাকে, মুসলিমের জন্য তাও ব্যবহার করা বৈধ নয়। (১৭)

৬. সুগন্ধি ব্যবহার করা: নারীদের সুগন্ধি ব্যবহার করে বাড়ীর বাইরে যাওয়া নিষেধ। কিন্তু বর্তমান সমাজের অধিকাংশ নারী বাইরে যাওয়ার প্রাক্কালে বিভিন্ন সুগন্ধি মেখে নিজেকে সুরভিত ও সুবাশিত করে বাইরে বের হয়। আর তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রমকারীরা তাদের সুগন্ধে বিমোহিত হয়। এদের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। রাসূল (সা.) বলেন,

أَيُّمَا امْرَأَةٍ اسْتَعْطَرَتْ فَمَرَّتْ عَلَى قَوْمٍ لِيَجِدُوْا مِنْ رِيْحِهَا فَهِىَ زَانِيَةٌ 

‘যে নারী সুগন্ধি ব্যবহার করল অতঃপর লোকদের পাশ দিয়ে এ উদ্দেশ্যে অতিক্রম করল যে, তারা যেন তার সুঘ্রাণ পায়, তাহলে সে ব্যভিচারী।’ (১৮)

স্বামীর জন্য নিজেকে সর্বদা সুরভিত করে রাখায় নারীত্বের সার্থকতা আছে। ভালোবাসায় যাতে ঘুণ না ধরে; বরং তা যাতে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায় ও গভীরতর হয় সে চেষ্টা স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই করা উচিত। এজন্য নারীদেরকে সুগন্ধি বা সেন্টজাতীয় কিছু স্বামীর জন্য বাড়ীর অভ্যন্তরে ব্যবহার করা বৈধ। কিন্তু তা মেখে বাড়ীর বাইরে ও বেগানার সামনে যাওয়া যাবে না। কারণ সুগন্ধি যেমন স্বামীর হৃদয় আকর্ষণ করে সুপ্ত কামনা জাগ্রত করে, তেমনি পরপুরুষের মন আকৃষ্ট করে ও তার কামনাকে প্রবল করে। এতে ঘটে যেতে পারে বিভিন্ন দুর্ঘটনা। তাই যারা সেন্ট ব্যবহার করে বাইরে বেগানা পুরুষের সামনে যায় তাদেরকে শরীয়াতে বারবনিতা আখ্যায়িত করা হয়েছে।

৭. ভ্রূ প্লাক করা: পার্লারে ভ্রূ প্লাক করতে যাওয়া নারীর সংখ্যা এখন অনেক বেশি। অনেক  নারীই মনে করেন ভ্রূ প্লাক করলে তাদের অধিক সুন্দর দেখা যায়। কিন্তু সৌন্দর্যের মানসে ভ্রূ উৎপাটন করা যে গোনাহের কাজ, তা অনেকেই জানে না। একদিকে পৃথিবীর সব মানুষ যদি বলে, ভ্রূ সরু করায় নারীদের বেশি সুন্দর দেখায়, অন্যদিকে আল্লাহ তায়ালা যদি বলেন, একাজে তিনি অসন্তুষ্ট হন, তাহলে তারা কি অর্জন করবে? আল্লাহর ক্রোধ ও অসন্তোষ ছাড়া অন্য কিছু নয়। 

ভ্রূ ছেঁটে ফেলা বা উৎপাটন করার মাধ্যমে আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তন করা হয়। আর এই কাজে শয়তান মানুষকে প্ররোচিত করে যেমনটা মহান আল্লাহ আমাদেরকে জানিয়েছেন, 

وَلَآمُرَنَّهُمْ فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلْقَ اللهِ 

‘আমি (শয়তান) তাদেরকে আদেশ করব যেন তারা আল্লাহর সৃষ্টি পরিবর্তন করে’ (সূরা: নিসা ৪/১১৯)। 

শয়তান মানুষকে ধোঁকা দেবে- এ ব্যাপারে ওহী নাজিল করে আল্লাহ প্রথমে আমাদের সতর্ক করেছেন। এর পরও যে আল্লাহর পথ ছেড়ে শয়তানের পথে হাঁটবে, তার জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। ‘তার ঠিকানা হলো জাহান্নাম। সেখান থেকে সে অন্য কোনো আশ্রয়স্থল পাবে না’ (সূরা: নিসা ৪/১২১)। 

যারা ভ্রূ প্লাক করে এবং প্লাক করিয়ে নেয় তাদের উভয়কে রাসূলুল্লাহ (সা.) অভিসম্পাত বা লানত করেছেন। (১৯) 

অভিশপ্ত অর্থ আল্লাহর রহমত হতে বঞ্চিত হওয়া। বান্দার জন্য সবচেয়ে বড় নেয়াত হলো আল্লাহর রহমত বা অনুগ্রহ লাভ করা। কারণ রাসলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর রহমত ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না’। (২০) 

যারা ভ্রূ প্লাক করে তাদের উচিত অত্র হাদীছের ওপর গভীরভাবে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে তওবার মাধ্যমে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের চেষ্টা করা।

স্বামী চাইলেও ভ্রূ চেঁছে সরু করে সৌন্দর্য আনয়ন করা বৈধ নয়। কারণ এতে আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন করা হয়। যারা এরূপ করে সে নারীদেরকে নবী করিম (সা.) অভিশাপ করেছেন। (২১) 
অনুরূপভাবে কপাল চেঁছেও সৌন্দর্য আনয়ন করা অবৈধ। (২২)

উল্লেখ্য, যদি কারো ভ্রূ বেশি হয় এবং চোখ পর্যন্ত নেমে আসে, দৃষ্টির ওপর প্রভাব ফেলে, তবে যে পরিমাণ তার সমস্যা সৃষ্টি করে সেই পরিমাণ কেটে ফেলাতে কোনো দোষ নেই। (২৩) 

এছাড়া নারীদের মুখমণ্ডলে হরমোন জনিত কারণে পুরুষের ন্যায় দাড়ি-গোঁফ বা অস্বাভাবিক লোম উঠলে, তা তুলে ফেলা বৈধ। (২৪)  

উল্লেখ্য, অনেক নারীই স্বামীকে সন্তুষ্ট করার নিমিত্তে ভ্রূ প্লাক করা, চোখের পাতায় কৃত্রিম ল্যাশ লাগানো প্রভৃতিকে জায়েয মনে করে কিন্তু এটা ঠিক নয়। যদি স্বামীকে সন্তুষ্ট করার জন্য আল্লাহর অবাধ্য হওয়া যেত, রাসূলুল্লাহ (সা.) এর পবিত্র যবানীতে তা অবশ্যই নিঃসৃত হতো। 

বরং তিনি বলেছেন, ‘স্রষ্টার অবাধ্যতায় সৃষ্টির প্রতি কোনোরূপ আনুগত্য নেই। নিশ্চয়ই আনুগত্য হলো কেবল ন্যায় কাজে’। (২৫) 

চলবে...

সূত্র:

(১) আবুদাঊদ হা/৫৩, সনদ হাসান।

(২) বুখারী তা‘লীক, ‘পোষাক-পরিচ্ছদ’ অধ্যায়; নাসাঈ হা/২৫৫৯; ইবনু মাজাহ হা/৩৬০৫; মিশকাত হা/৪৩৮১, সনদ হাসান।

(৩) বুখারী, তরজমাতুল বাব, ‘পোষাক-পরিচ্ছদ’ অধ্যায়।

(৪) নাসাঈ হা/৩২৩১; মিশকাত হা/৩২২৭; ছহীহাহ হা/১৮৩৮।

(৫) আবু দাউদ হা/৪০১৭; ইবনু মাজাহ হা/১৯২০।

(৬) ফাতাওয়া ইবনে উছায়মীন ২/৭৭১।

(৭) মুসলিম হা/২১২৮; মিশকত হা/৩৫২৪।

(৮)  বায়হাক্বী, আস-সুনানুল কুবরা হ/১৩৮৬০; ছহীহাহ হা/১৮৪৯।

(৯) উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২/৮২৫।

(১০) ফাতাওয়াল মারআতিল মুসলিমাহ, সংকলনে আশরাফ আব্দুল মাকছূদ ১/৪৭০ পৃঃ।

(১১) আল-ফাতাওয়াল মুহিম্মাহ লিনিসাইল উম্মাহ, পৃঃ ২১।

(১২) আবূদাঊদ হা/৪০৯৮; মিশকাত হা/৪৪৬৯, হাদীছ ছহীহ।

(১৩) আবূদাঊদ, মিশকাত হা/৪৪৬৯; ছহীহ আত-তারগীব হা/২০৬৯।

(১৪) বুখারী হা/৫৮৮৫; মিশকাত হা/৪৪২৯।

(১৫) মুসনাদে আহমাদ হা/৫৭৯৭; ইবনু মাজাহ হা/৩৬০৭; মিশকাত হা/৪৩৪৬, সনদ হাসান।

(১৬) মাজমূ‘ ফাতাওয়া আব্দুল্লাহ বিন বায ও উছায়মীন, পৃঃ ৪০।

(১৭) আল-ফাতাওয়াল মুহিম্মাহ লিনিসাইল উম্মাহ; আল-ফাতাওয়া আল-ইজতিমাইয়্যাহ, পৃঃ ৭।

(১৮) নাসাঈ হা/৫১২৬; ছহীহুল জামে‘ হা/২৭০১।

(১৯) বুখারী হা/৫৯৪৮; ইবনু হাজার, ফাৎহুল বারী ১০/৩৭৭।

(২০) বুখারী হা/৫৬৭৩, মুসলিম হা/২৮১৬।

(২১) ছহীহুল জামে‘ হা/৫১০৪; ফাতাওয়াল মারআহ, পৃঃ ৭২, ৯৪।

(২২) সিলসিলা ছহীহাহ ৬/৬৯২ পৃঃ।

(২৩) উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১১/১৩৩, প্রশ্ন নং ৬২।

(২৪) ইমাম নববী, শরহ মুসলিম ১৩/১০৭।

(২৫) বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩৬৬৫।

সংগ্রহে: প্রিয়ম হাসান

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে