জুমার দিনে যে আমলে মনের আশা পূরণ হয়  

ঢাকা, শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৬ ১৪২৭,   ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জুমার দিনে যে আমলে মনের আশা পূরণ হয়  

ধর্ম ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:২৯ ১৪ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৭:৪৮ ১৪ আগস্ট ২০২০

ছবি:  এই আমলেই পূরণ হবে মনের আশা

ছবি: এই আমলেই পূরণ হবে মনের আশা

যদি কোনো ব্যক্তি শুক্রবার দিন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের একটি নামের আমল করতে পারে। তাহলে আল্লাহ তায়ালা তার মনের সব প্রকার নেক ইচ্ছেগুলো পূরণ করে দেবেন। ইনশাআল্লাহ!  

এই আমলটি করে দুনিয়া ও আখেরাতে লাভবান হতে পারবেন। আল্লাহ তায়ালা সপ্তাহের ভেতরে একটি দিন রেখেছেন। সেটা হলো ইয়াওমুল জুমা তথা জুমার দিন। সপ্তাহের সাতদিনের মধ্যে শুক্রবার হলো সব থেকে ফজিলতপূর্ণ ও বরকতময় দিন। রাসূল (সা.) সহিহ হাদিস থেকে জানা যায়, গরিব দুঃখী যারা হজে যেতে পারেন না। তাদের জন্য হজের দিন হলো ইয়াওমুল জুমা তথা জুমার দিন। আল্লাহ তায়ালা এই দিনে বান্দার দোয়া কবুল করে থাকেন। তাই শুক্রবার দিনে ও রাতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে যেকোনো সময় আমলটি করতে পারেন। আল্লাহ তায়ালা আপনার মনের সব প্রকার জায়জ ইচ্ছা ও আশা আকাঙ্খাগুলো পূর্ণ করে দেবেন।        

আপনাদের মনের আশা আকাঙ্খাগুলো পূরণ হচ্ছে না। তাহলে আপনি চাইলে জুমার দিনে আল্লাহ তায়ালার এই নামটি আমল করতে পারেন।আল্লাহ চাইলে ইনশাআল্লাহ! সঙ্গে সঙ্গে ফল পাবেন। আপনার ইয়াকিন ঠিক করতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষের দোয়াকে কবুল করে থাকেন তিন ভাবে।   

প্রথমত, যখন কোনো বান্দা আল্লাহ তায়ালার কাছে কোনো দোয়া করেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ওই বান্দার দোয়াকে কবুল করে নিয়ে আল্লাহ তায়ালা সঙ্গে সঙ্গেই সেই ফলাফল দান করেন।

দ্বিতীয়ত, যখন আল্লাহ তায়ালার কাছে কোনো বান্দা দোয়া করেন। তখন আল্লাহ তায়ালা তার দোয়া করার পরিবর্তে তার ওপর যে কঠিন বিপদ এবং বালা মুসিবত নির্ধারিত হয়েছিল তা দূর করে দেন।   

তৃতীয়ত, যখন কোনো বান্দা আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করে। আল্লাহ তায়ালা তার সেই দোয়া কবুল করেন। কিন্তু দুনিয়াতে তাকে তাৎক্ষণিক তা দিয়ে দেন না বরং পরকালে তার জন্য বড় প্রতিদান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রেখে দেন। এইজন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কাছে দোয়া করে কোনো বান্দা নিরাশ হবে না। কারণ আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, বান্দা তোমরা আমার রহমত হতে নিরাশ হইও না। 

এই জন্য ধৈর্য সহকারে এখলাসের নিয়তে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কাছে চাইতে থাকবেন। ইনশাআল্লাহ! আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই আপনার ডাকে সাড়া দেবেন। প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালার গুণবাচক ৯৯টি নাম আছে। যে ব্যক্তি এই নামগুলোর জিকির ও আমল করবে আল্লাহ তায়াল তাকে বিনা হিসেবে জান্নাতে নেবেন।    

আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সিফাতি গুণবাচক নামের একটি হলো- 'ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম।'  

জুমার দিনে বা রাতে আল্লাহ তায়ালার কাছে করা দোয়াগুলো কবুল হয়। বিশেষ করে আসরের নামাজের পর, মাগরিবের পূর্বে এবং শেষ রাতে যখন আল্লাহ প্রথম আসমানে নেমে এসে বান্দাদের বলেন, কে আছো আমার কাছে ক্ষমা চাও। আমি ক্ষমা করে দেব। কে আছো আমার কাছে রিজিক চাও। আমি তোমাদের অবারিত রিজিক দেব।   

জুমার এই বিশেষ দিনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে এই আমলটি করে দোয়া করতে পারে আল্লাহ তায়ালা তার সব চাওয়া পূরণ করবেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার সব প্রকার নেক আশাগুলো পূরণ করে দেবেন। আল্লাহ তায়ালা তার জায়েজ নেক মাকসাদগুলো পূরণ করে দেবেন। 

‘ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম’ আল্লাহ তায়ালা এই সিফাতি গুণবাচক নামটি সর্বনিম্ন ১০০ বার পাঠ করবেন। এবং তার পূর্বে তিনবার দরুদ শরিফ পড়ে দোয়া পড়ে আবার তিনবার দরুদ শরিফ পড়বেন। কেননা দরুদ শরিফ সব সময় আল্লাহ কবুল করে থাকেন। আর কোনো দোয়ার মধ্যে যেকোনো একটি দোয়া কবুল হয়ে গেলে তার সঙ্গে সঙ্গে আর যা কিছু আপনি দোয়া স্বরূপ চেয়েছেন তার সবগুলোই আল্লাহ কবুল করে নেবেন। তাই আগে এবং পরে যেকোনো দোয়া করলে সে দোয়া সঙ্গে সঙ্গে কবুল হয়ে যায়। 

চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে আপনি রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করবেন আপনার মনের সব প্রকার আশাগুলো আল্লাহর কাছে নিবেদন করুন। রাব্বুল আলামিনের কাছে খালেস নিয়তে ব্যক্ত করে আল্লাহ তায়ালার কাছে সাহায্য চাইতে থাকবেন। ইনশাআল্লাহ! আল্লাহ তায়ালা এই জুমা বারের ফজিলত এবং বরকতে আপনার দোয়া কবুল করবেন। আল্লাহ চাইলে আপনার সব প্রকার আশা পূরণ করে দেবেন। ইনশাআল্লাহ!

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস/আরএজে