উত্তর কোরিয়ায় ‘প্রথম’ করোনা শনাক্ত, কঠোর লকডাউনের ঘোষণা
15-august

ঢাকা, রোববার   ১৪ আগস্ট ২০২২,   ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯,   ১৫ মুহররম ১৪৪৪

Beximco LPG Gas
15-august

উত্তর কোরিয়ায় ‘প্রথম’ করোনা শনাক্ত, কঠোর লকডাউনের ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩২ ১২ মে ২০২২   আপডেট: ১৫:৪২ ১২ মে ২০২২

ছবি: কিম জং উন

ছবি: কিম জং উন

বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর এই প্রথম ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানাল উত্তর কোরিয়া। তারপরই দেশজুড়ে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন।

এতদিন ধরে উত্তর কোরিয়া দাবি করেছিল, তাদের কেউ করোনায় আক্রান্ত হননি। বিশেষজ্ঞরা এ দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছিলেন। কিন্তু এবার দেশটির সরকার স্বীকার করল, রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে একজন ওমিক্রনে আক্রান্ত।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) এ কথা স্বীকার করার পাশাপাশি বিষয়টিকে ‘গুরুতর জাতীয় জরুরি অবস্থা’ আখ্যায়িত করা হয়েছে।

এদিকে করোরায় শনাক্তের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করায় দেশটিতে সম্ভাব্য বড় ধরনের সংকটের বিষয়টিই নজরে এল। উত্তর কোরিয়া বিদেশি সাহায্য নিয়ে টিকাদান কর্মসূচি চালাতে রাজি হয়নি। দেশটি সীমান্ত বন্ধ করে রেখেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, মার্চ নাগাদ উত্তর কোরিয়ায় কোনো করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি। দেশটির কোনো নাগরিককে টিকা দেওয়ার বিষয়েও কোনো দাপ্তরিক তথ্য নেই।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ বলেছে, ‘রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুতর জরুরি ঘটনাটি ঘটে গেছে। আমাদের জরুরি মহামারি প্রতিরোধ লড়াইয়ে একটা ধাক্কা লেগেছে। আমরা ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে দুই বছর তিন মাস এ মহামারি ঠেকিয়ে রেখেছিলাম।’

আরো পড়ুন>> ভক্তদের নিজের প্রস্রাব-মল খাওয়াতেন ভণ্ড বাবা, আশ্রমে মিললো ১১ লাশ

প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বরে ভুগছেন এমন লোকজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয় গত ৮ মে। এতে অমিক্রন ধরনের একটি উপধরন শনাক্ত হয়। এ উপধরন বিএ.২ হিসেবেও পরিচিত। তবে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ও সংক্রমণের উৎস সম্পর্কে এতে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।

করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার ওয়ার্কার্স পার্টির সভায় সভাপতিত্ব করেন উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং-উন। এরপরই করোনা শনাক্ত হওয়ার এ খবর প্রকাশ করা হয়। করোনার বিস্তার ঠেকাতে শহর ও পৌর এলাকাগুলোকে ‘কঠোর লকডাউন’ মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন কিম। জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।

এর আগে কখনো একজন করোনা রোগীও শনাক্ত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেনি উত্তর কোরিয়া। অথচ প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনে করোনার অমিক্রন ধরন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। তাই উত্তর কোরিয়া এত দিন কোভিডমুক্ত ছিল, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র।

আরো পড়ুন>> ইউরোপের সামনে আবার নতুন সংকট

২০২০ সালের শুরুতে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন উত্তর কোরিয়া দেশটিতে কঠোর কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা চালু করে। সীমান্তও বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় পালিয়ে যান এক ব্যক্তি। তিনি দেশে ফেরার পর উপসর্গ দেখা গেলে দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী কায়েসংয়ে তিন সপ্তাহের জন্য কিম জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং লকডাউন আরোপ করেন।

ডব্লিউএইচওর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩১ মার্চ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার ২ কোটি ৪৭ লাখের বেশি মানুষের মধ্যে ৬৪ হাজার ২০৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। তাদের কারোরই করোনা শনাক্ত হয়নি।

এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৫১ কোটি ৯০ লাখ ৯৮ হাজার ৯৯২ জন। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ লাখ ৮২ হাজার ২৯০। আর মোট সুস্থ হয়েছেন ৪৭ কোটি ৩৮ লাখ ২৯ হাজার ৯৭০ জন।

সূত্র: বিবিসি

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী

English HighlightsREAD MORE »