নোয়াখালী উপকূলের জু-প্লাংকটনে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি

ঢাকা, বুধবার   ০৫ অক্টোবর ২০২২,   ২১ আশ্বিন ১৪২৯,   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

নোয়াখালী উপকূলের জু-প্লাংকটনে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি

শাহরিয়ার নাসের, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৩০ ১০ মে ২০২২  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নোয়াখালী উপকূলে ভাসমান ক্ষুদ্র প্রাণী বা জুপ্লাংকটনে প্লাস্টিক কণার (মাইক্রোপ্লাস্টিক) উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গবেষকরা বলছেন, জুপ্লাংকটন বিভিন্ন রকম মাইক্রোপ্লাস্টিককে খাদ্যকণা ভেবে গ্রহণ করে, যা পরবর্তী সময়ে খাদ্যচক্রের মাধ্যমে মানবদেহে ঢুকে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) একদল গবেষক বিরূপ পরিবেশে প্লাংকটনের অভিযোজনক্ষমতার রহস্য নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এই তথ্য পেয়েছেন। গবেষকদলটি ২০১৭ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের গবেষণাগারে মিঠা ও নোনা পানির প্লাংকটনের নমুনা হিসেবে সংগ্রহ গবেষণাকার্য চালাচ্ছে। 

গবেষকদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুস সাকিব খান। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় গবেষণার জন্য বিশেষ অনুদান দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেলও গবেষণায় অর্থায়ন করছে।

নাজমুস সাকিব খান জানান, এরই মধ্যে তারা কপিপোড গোত্রের জুপ্লাংকটনে এক প্রকার মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করতে পেরেছেন। নোয়াখালী উপকূলে মেঘনার মোহনা থেকে তারা গবেষণার নমুনা সংগ্রহ করেছেন। 

তিনি জানান, জুপ্লাংকটন বিভিন্ন রকম মাইক্রোপ্লাস্টিক খাদ্য কণা ভেবে গ্রহণ করে এবং শরীরে জমা করে, যা পরবর্তী সময়ে খাদ্যচক্রের মধ্যে দিয়ে মানবদেহে ঢুকে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহে রক্তে বিষাক্ততা তৈরি করে অভ্যন্তরীণ টিস্যুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ ছাড়া দেহের কোষতন্ত্রে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে এই মাইক্রোপ্লাস্টিক।

তিনি আরো জানান, নদী-নালা, খাল- বিল, মৌসুমী জলাভূমি কিংবা মহাসমুদ্র—সব জলীয় বাস্তুসংস্থানে জুপ্লাংকটনের উপস্থিতি অপরিহার্য এবং খাদ্যচক্রে এদের ভূমিকা অনেক। জলীয় খাদ্যচক্রের মূল চালিকাশক্তিও এই প্লাংকটন। ক্ষুদ্র এই জীব প্রধানত দুই ধরনের—ফাইটোপ্লাংকটন ও জুপ্লাংকটন। সব ধরনের অমেরুদণ্ডী ও মেরুদণ্ডী জলীয় প্রাণীর খাদ্যাভ্যাস, পুষ্টিমান নির্ভর করে প্লাংকটনের প্রজাতি এবং এদের গুণগত মানের ওপর। মানুষের পুষ্টিতেও পরোক্ষভাবে প্লাংকটনের ভূমিকা আছে। মহাপ্রাণের জীবরহস্য লুকিয়ে আছে ক্ষুদ্র এই প্রাণের মধ্যে। পরিবেশ বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের সংকেতের প্রথম বার্তাবাহকও হচ্ছে ক্ষুদ্র প্লাংকটন।

প্লাংকটন গবেষাণাগার সূত্রে জানা যায়, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সর্ব প্রথম আঁচ অনুভব করে এই ক্ষুদ্র প্লাংকটন সম্প্রদায়। পরিবেশের প্রতি তাদের সংবেদনশীলতা এবং নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থা খুবই তীক্ষ্ণ অন্যান্য প্রাণির তুলনায়। অতিমাত্রায় অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে বিরূপ প্রভাব পড়ছে জলীয় পরিবেশের উপর। জলীয় পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাবের ফলে মিঠা এবং নোনা সব জলীয় পরিবেশের প্লাংকটনের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে। বিভিন্ন রাসায়নিক বর্জ্যপদার্থ যেমন-কারখানার বর্জ্য, কৃষি বর্জ্য, মাত্রাতিরিক্ত অজৈব সার ও কীটনাশকের ব্যবহার এবং পরবর্তীতে এসব রাসায়নিক বর্জ্য পদার্থের শেষ গন্তব্য স্থল হয় নিকটবর্তী জলাভূমি, নদীনালা, মোহনা এবং সর্বশেষ সাগর। জলীয় পরিবেশে নানা রকম অজৈব রাসায়নিক  পদার্থ যেমন অ্যামোনিয়াম, নাইট্রেট, নাইট্রাইট, ফসফরাস ও সিলিকা হচ্ছে প্লাংকটনের পুষ্টির মূল উপাদান। 

অপরদিকে এসব প্রয়োজনীয় উপাদানের মাত্রারিক্ত উপস্থিতি প্লাংকটনের জন্য হুমকিস্বরূপ। পানিতে ফসফরাসের পরিমাণ বেড়ে গেলে ক্ষতিকর ( সায়ানোব্যাকটেরিয়া) গোত্রের ফাইটোপ্লাংকটনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এই সায়ানো ব্যাকটেরিয়া গোত্রের ফাইটোপ্লাংকটন মানবদেহের বিভিন্ন রোগের জন্য দায়ী। এছাড়াও আধুনিক যুগের দূষণ বিশেষ করে নানা রকম হেভিমেটালস এবং মাইক্রো প্লাস্টিকের দূষণ ও প্লাংকটনের জন্য খুবই ক্ষতিকর। জলীয় পরিবেশের প্রথম পর্যায়ের শক্তি উৎপাদক ফাইটোপ্লাংকটন বিভিন্ন রকম হেভিমেটালস নানা মাত্রায় গ্রহণ করে।

জানতে চাইলে গবেষকদলের প্রধান নাজমুস সাকিব খান বলেন, নোয়াখালী উপকূলের মৃতপ্রায় খালগুলোতে বিভিন্ন মানবসৃষ্ট দূষণের ফলে প্লাংকটন কিভাবে অভিযোজিত হচ্ছে কিংবা কোন কোন প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে, তা উদঘাটনের লক্ষ্যে আমরা গবেষণা করেছি। গবেষণায় এরই মধ্যে আমরা কপিপোড গোত্রের জুপ্লাংকটনে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করতে পেরেছি। আমাদের গবেষণা চলমান আছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »